বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

বাধার পাহাড় ঠেলেও নাটকের প্রতি বিশ্বস্ত

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বহু প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নাট্যচর্চায় নিয়োজিত আছে  বর্ধমানের ‘অরিত্র’ নাট্য সংস্থা। এর আগে এই সংস্থা বর্ধমান সহ রাজ্যবাসীকে উপহার দিয়েছে কালাজ, বনসাই, মল্লিক ব্রাদার্স, জীবনমৃত্যু, পাখি, মেরুদণ্ড, শত্রু, ঘটমান দুর্ঘটনা, ব্রুটাস তুমিও ইত্যাদি জনপ্রিয় মঞ্চসফল নাটক। বিগত কয়েক বছর ধরে সংস্থার নাটক ‘গায়েন’ বর্ধমান জেলার সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্যের নাট্যমোদী দর্শককে আপ্লুত করেছে।

২০১৬ সালে অরিত্র তাদের নতুন প্রযোজনা ‘মোটেরামের  সত্যাগ্রহ’ শুরু করে। সংস্থার ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি সংস্কৃতি লোকমঞ্চ এক নাট্যসন্ধ্যার আয়োজন করে অরিত্র৷ তাদের অন্যতম সেরা প্রযোজনা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে শেখর সমাদ্দার রচিত নাটক ‘গায়েন’ এবং সাম্প্রতিকতম প্রযোজনা মুন্সি প্রেমচাঁদের কাহিনী অবলম্বনে বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক ‘মোটেরামের সত্যাগ্রহ’  একই সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়।

পরিচালক নীলেন্দু সেনগুপ্তের নির্দেশনায় দুটি নাটকই বর্ধমান শহরের দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।  শিবতোষ বোস, মৌসুমী মুখার্জী, সাধন চন্দ্র,  সুমন্ত রায়, বিশু পাল, অসীম দে, সুভাষ চক্রবর্তী সহ সকলের অভিনয়ই দর্শকদের  মুগ্ধ করে৷ এই নাটকের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সঙ্গীত। সংগীত পরিচালক পার্থ বসু হারমোনিয়াম নিয়ে মঞ্চে বসেই সুরের মায়াজাল বুনেছেন।  নাটকে ব্যবহার হওয়া গান এবং তার সঠিক প্রয়োগ দুটি নাটককেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়।

আরেকটি কারণেও এই সন্ধ্যাটি  উল্লেখযোগ্য। দুটি নাটক দেখার জন্যই বর্ধমান সংস্কৃতি প্রেক্ষাগৃহ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ৷ এই দর্শক সংখ্যা বর্তমান সময় নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আলাদা শক্তি ও উৎসাহ যোগাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন সকলে৷ এদিন   অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যাক্তিত্ব তথা বহুরুপী নাট্যসংস্থার বর্তমান পরিচালক গৌরীশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। তিনিও  তাঁর বক্তব্যে এমন বিপুল পরিমাণ দর্শক সমাগমের প্রশংসা করেন।

পরিচালক নীলেন্দু সেনগুপ্ত জানান সুমন্ত রায়, বিশু পাল, সুখেন্দু বিকাশ রায় সহ অনেকেই রয়েছেন যারা কায়িক পরিশ্রম করে সারাদিন রুটিরুজির ব্যবস্থা করেন। সুমন্ত রায়, বিশু পালরা ভোরে বেলায় উঠে চলে যান বর্ধমান ষ্টেশনে। সেখান থেকে খবরের কাগজ নিয়ে পৌঁছে দেন শহরের বাড়ি বাড়ি। ফিরে এসেই চলে যান ওষুধের দোকানে। সেখানেই কাজ করেন তাঁরা। সারাদিন এই হাড়ভাঙ্গা কাজের পর সন্ধ্যায় তাঁরা হাজির হন রিহার্সালে। তাঁদের নাটকের প্রতি এই আগ্রহ সকলকে অনুপ্রাণিত করে। এছাড়াও রিহার্সালের জন্য জায়গা সমস্যা, অর্থের সমস্যা তো আছেই। এইসব সমস্যা অতিক্রম করেই নাটকের মতো একটি জীবন্ত শিল্পের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে ‘অরিত্র’।

সুদীপ্তা ঘোষ

Comments are closed.