মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

মানসিক অবসাদ কারও ‘লাক্সারি’ বা ‘চয়েস’ নয়, এটা জটিল অসুখ: দীপিকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এর ভারতীয় সংস্করণে অগস্ট মাসের পত্রিকার কভার গার্ল হয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তাঁর ‘নো-মেকআপ’ লুক ইতিমধ্যেই ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। এই ফ্যাশন ম্যাগাজিনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারেই দীপিকা বলেছেন, মানসিক অবসাদ আর দুঃখ এক নয়। কেউ ইচ্ছে করে অবসাদগ্রস্ত হন না। এটা কারও চয়েস নয়। পারিপার্শ্বিক নানা চাপে একজন মানুষ মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

একটা সময় বেশ অনেকদিনের জন্য মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন দীপিকা। তবে সে কথা গোপন করেননি। ২০১৫ সাল নাগাদ নিজের ফ্যানেদের সঙ্গে শেয়ার করেন সেই মুহূর্ত। কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ কেন মানসিক অবসাদ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক হলেন দীপিকা? গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে বলিউডের ভাইজান সলমন খান বলেছিলেন, মানসিক অবসাদে ভোগার মতো বিলাসিতা করার সময় নেই তাঁর। সলমনের এই মন্তব্যেই বেজায় বিরক্ত হয়েছেন দীপিকা। অভিনেতাকে মুখতোড় জবাব দেওয়ার জন্যই এতদিন পর সরব হয়েছেন তিনি।

‘ভোগ’ ফ্যাশন ম্যাগাজিনের ওই সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেন, মানুষ দুঃখ-মন খারাপ এবং মানসিক অবসাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। গুলিয়ে ফেলেন। যেটা খুবই দুঃখের। কদিন আগেই একজন অভিনেতা বলেছিলেন, মানসিক অবসাদে ভোগার মতো বিলাসিতা তিনি এফর্ড করতে পারবেন না। শুনে মনে হয়েছিল যে অবসাদ যেন একটা চয়েস। আমার ইচ্ছে হলো, আর আমি অবসাদগ্রস্ত হয়ে গেলাম।” এখানেই থামেননি দীপিকা। তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করেন যাঁদের অঢেল টাকাপয়সা রয়েছে কিংবা প্রচুর ফাঁকা সময় রয়েছে, তাঁরাই অবসাদে ভোগেন। আমি মনে করি, এই মিথটা ভেঙে দেওয়ার সময় এসেছে।”

সলমনের মন্তব্য নিয়ে সে সময় বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন, কারও সমস্যা নিয়ে এ হেন মন্তব্য করা অন্তত সলমনের সাজে না। এটা কোনও জোক নয়। কেউ সাধ করে অবসাদগ্রস্ত হয় না। এটা এক ধরণের জটিল অসুখ। কারও দুর্বল জায়গায় আঘাত দিয়ে এ ভাবে মজা করা ঠিক নয়।

২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের The Youth Anxiety Center-এ একটি আলোচনা সভায় নিজের মানসিক অবসাদের কথা প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা পাড়ুকোন। তিনি বলেন, “ঘুম থেকে উঠলেই ভয় লাগত। কী করব, কোথায় যাবো কিছুই বুঝতে পারতাম না। দিশাহীন হয়ে পড়েছিলাম। মেজাজ হারিয়ে ফেলতাম অল্পেই। ছোটখাটো ব্যাপারে বিরক্তি লাগত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মেন্টাল ডিপ্রেশনের ওই পিরিয়ডটা আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছে। জীবনকে নতুন ভাবে চিনতে শিখেছি আমি।”

Comments are closed.