রহমানের ‘মাসাক্কলি’-র রিমেক, ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা, অবিবেচকের মত কাজ, বলছেন প্রসূন যোশী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো হিন্দি গানের রিমিক্স কিংবা রিক্রিয়েট হওয়া বলিউডে নতুন ঘটনা নয়। এ যাবত বহু জনপ্রিয় গানেরই রিমিক্স ভার্সন রিলিজ হয়েছে। দর্শকমহলে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি টিআরপি-ও বেড়েছে সেইসব গানের। এমনকি সুরের জাদুকর এ আর রহমানের গানেরও রিমিক্স হয়েছে। মণিরত্নমের ছবি ‘বম্বে’-র বিখ্যাত গান ‘হাম্মা হাম্মা’-র রিমেক ভার্সন যথেষ্ট জনপ্রিয়ও হয়েছে।

    কিন্তু তা বলে ‘মাসাক্কলি’!

    এই গান নিয়ে কাটাছেঁড়া করার কী দরকার পড়েছিল এখন এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন নেটিজেনরা। ‘দিল্লি-৬’ ছবির গানের রিমেক ভার্সন জনপ্রিয় হওয়া তো অনেক দূরের কথা, এই গান একবার শুনেই বিরক্ত হয়েছেন অনেকে। টুইটারিয়ানদের একাংশ তো ইতিমধ্যেই বলছেন, “এমন সৃষ্টি নিয়ে রিমিক্স বা রিমেক করতে গেলে যা হওয়ার কথা একদম তেমন বেহাল দশাই হয়েছে গানটার।“

    টুইট করেছেন ক্ষুব্ধ প্রসূন যোশী, যিনিই ছিলেন আসল ‘মাসাক্কলি’ গানের লিরিসিস্ট। নিজের টুইটে প্রসূন লিখেছেন, “এই গানটা হৃদয়ের খুব কাছের। রহমানের সুর আর মোহিত চৌহানের গাওয়া এই গানটা অবিবেচকের মত ব্যবহার করা হয়েছে। আশা রাখি ফ্যানরা আসল গানের পক্ষেই থাকবেন।“

    প্রসঙ্গত, হালফিলে বলিউডের জন্য এ আর রহমান যত গান কম্পোজ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ‘মাসাক্কলি’। ২০০৯ সালে রিলিজ হয়েছিল রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহেরার ছবি ‘দিল্লি-৬’। ছবির প্রতিটি গানই অসামান্য। কিন্তু এ আর রহমান ‘মাসাক্কলি’-কে একটা আলাদাই মাত্রা দিয়েছিলেন। প্রসূন যোশীর লিরিক্স, মোহিত চৌহানের কণ্ঠস্বর এবং রহমানের সুরে ম্যাজিক তৈরি হয়েছিল।

    সেই গানেরই রিমেক এবং রিমিক্স ভার্সন নিয়ে হাজির হয়েছেন তানিষ্ক বাগচী। আমূল বদলেছে গানের কথা। সুরেও পরিবর্তন যথেষ্ট। কেবল রহমান ম্যাজিকের কি ওয়ার্ড মাসাক্কলি-কে নতুন গানে বসিয়ে দিয়েছেন তানিষ্ক। টি সিরিজ থেকেই রিলিজ হয়েছে সাচেত ট্যান্ডন এবং তুলসী কুমারের গাওয়া এই গান। ভিডিওতে এবার জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং তারা সুতারিয়া। এখানে অভিষেক বচ্চন এবং সোনম কাপুরের অনুপস্থিতি ভীষণ ভাবে চোখে পড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হল গোটা গানের কোথাও অত সুন্দর সাদা পায়রাটাই নেই। আর এতেই আরও চটেছেন নেটিজেনরা।

    সাধারণত কোনও কিছু নিয়ে সেভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দেখা যায় না এ আর রহমানকে। তর্ক-বিতর্ক এড়িয়েই চলেন তিনি। মিউজিক্যাল ম্যাজিশিয়ানের ঘনিষ্ঠরা বলেন রহমান সাহেব বড় কম কথার মানুষ। এ হেন চুপচাপ এ আর রহমানও টুইট করেছেন এই ঘটনায়। তিনি অবশ্য নতুন গানের প্রসঙ্গে কোনও কথাই বলেননি। খালি সকলকে জানিয়েছেন যে এই গান সৃষ্টি করতে ঠিক কী কী পরিস্থিতি পেরিয়ে এসেছেন তাঁরা।

    টুইটের শুরুতেই রহমান লিখেছেন, “আসল গান উপভোগ করুন। এটা সৃষ্টি করতে রাতের পর রাত জেগেছি আমরা। বারবার লেখা হয়েছে গানের কথা। ছিল না কোনও শর্টকাট। ২০০ মিউজিশিয়ান অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এই গান বানাতে। গোটা একটা বছর ধরে সকলের পরিশ্রমের ফলেই এটা তৈরি হয়েছিল। পুরো টিমকে ধন্যবাদ এবং অনেক ভালবাসা।“

    নেটিজেনরা ইতিমধ্যেই গর্জে উঠেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। প্রায় সকলেই বলছেন, “অরিজিনাল তো অরিজিনালই হয়। কোনও কিছুই ‘মাসাক্কলি’-কে দমিয়ে রাখতে পারবে না।“ এ আর রহমানের টুইটের প্রশংসাও করেছেন টুইটারিয়ানরা। তবে টি সিরিজ কী ভাবে এই ‘মাসাক্কলি ২.০’ রিলিজের অনুমতি দিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, “আসল গানটা তো টি সিরিজ থেকেই রিলিজ হয়েছিল। তাহলে গানটার এমন দশা করার অনুমতি কী ভাবে দিল ওরা।“

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More