বুধবার, নভেম্বর ১৩

নুসরত-নিখিলের বিয়ের ভেন্যু বোদরুমের ‘সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া’, নিসর্গের সঙ্গে ইতিহাসের মেলবন্ধন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আরো দূরে চলো যাই…’

‘দূরে’ শব্দটা তরুণ প্রজন্মের শব্দকোষের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ‘দূরে’ মানে চেনা ছকের বাইরে। চেনা জায়গা, পরিচিত পরিবেশ থেকে অনেক দূরে ছিমছাম পাহাড়ের কোলে বা সমুদ্র সৈকতে প্রিয় মানুষের হাতে হাত রাখাটাই বর্তমান প্রজন্মের স্বপ্ন। রূপকথার আবহে সাত পাকে বাঁধা পড়ার এই অভিনব আয়োজনের পোশাকি নামই হল ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ । এটাই এখন ট্রেন্ড। সেলেব দুনিয়ার স্টাইল স্টেটমেন্টও বটে। নাম ও পসারের সঙ্গে ডেস্টিনেশন বেছে নেওয়ার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

বিরাট-অনুষ্কা (বিরুষ্কা) বেছেছিলেন রোম থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে ইতালির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র তাস্কানির এইবর্গ ফিনোচ্চিয়েতো, যা বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যয়বহুল রিসর্ট। ইতালিরই লেক কোমোতে বহুদিনের বন্ধু আনন্দ পিরামলের সঙ্গে আংটি বদল করেছেন অনীল অম্বানির মেয়ে ঈশা। এই লেক কোমোরই ‘ভিলা দেল বলবিয়েনেল্লো’-র নিসর্গ পরিবেশে চার হাত এক হয়েছিল রণবীর-দীপিকার। বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে এ বার পালা টলিউডের। রোম্যান্টিক ইতালি নয়, টলি নায়িকা, হালে সাংসদ নুসরত জাহান বিয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন ঐতিহাসিক তুরস্ক। প্রকৃতির সঙ্গে ইতিহাসের মিশেলে তুরস্কের বোদরুম শহরেই প্রেমিক নিখিল জৈনের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়বেন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী।


ঐতিহাসিক বোদরুম

বিয়ে ১৯ জুন। অনুষ্ঠানের সাত সতেরো শুরু হয়ে যাবে ১৭ জুন থেকেই। জাঁকজমক চলবে ২১ তারিখ অবধি। ২৫ জুন সংসদে নুসরতের প্রথম দিন। তার আগেই বিয়ের পালা মিটিয়ে নেবেন তিনি। রেজিস্ট্রি হবে তার পরেই। ১৫ জুন রাতে নিখিলের হাত ধরে তুরস্ক উড়ে যাবেন নায়িকা। স্বপ্নের বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সেখানেই। রূপকথার মতো সেজে উঠছে বোদরুমের সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া (Six Senses Kaplankaya)

সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া

প্রথমে গুঞ্জন উঠেছিল ইস্তানবুলই পছন্দের ডেস্টিনেশন নুসরতের। বিয়ের কার্ড ছাপা হতে দেখা যায়, ইস্তানবুল নয় বরং গ্রিক স্থাপত্যের আদর মাখা বন্দর শহর বোদরুমকেই ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর জন্য বেছে নিয়েছেন নুসরত-নিখিল।

বোদরুম স্বপ্নের শহর। দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের মুগলা প্রদেশের এই শহরের একদিকে নীল সমুদ্রের দুরন্ত হাতছানি, অন্যদিকে প্রাচীন স্থাপত্য-সংস্কৃতির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে গোটা শহরে। ইতিহাস বলে বোদরুম বা তুরস্কের ভাষায় বোডরুমের একসময় পরিচিতি ছিল হ্যালিকার্নাসাস (হ্যালিকার্নাসাস অব ক্যারিয়া) নামে।  হ্যালিকার্নাসাসের সমাধি স্তম্ভ পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে একটি। যেটি নির্মাণ করা হয়েছিল ৩৫৩-৩৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে পারস্যের একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা মৌজুলাস ও তাঁর স্ত্রী আর্টেমিসিয়ার সময়কালে। এই স্তম্ভের শিল্প ভাবনা ছিল তৎকালীন গ্রিক স্থাপত্য নির্ভর।

নকসা করেছিলেন গ্রিক স্থপতি সাইরটস এবং পিথিয়াস অব প্রিন। গোটা বোদরুম জুড়েই গ্রিক স্থাপত্যের বিকাশ হয়েছে নানা ভাবে। সে দিক থেকে এই শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যথেষ্টই। একবিংশ শতকের বোদরুম শান্ত, সুন্দর, ছিমছাম এক শহর। মূলত পর্যটন নির্ভর। মৎস্যজীবী ও স্পঞ্জ ডাইভারদের আধিক্য বেশি। সমুদ্রের মাঝে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট ছোট দ্বীপের মতো ট্যুরিস্ট স্পট। তারই একটা সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া। নুসরত-নিখিলের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছে এখানেই।

পাহাড় আর প্রকৃতির কোলে একফালি সবুজ ক্যানভ্যাস সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া। ভূমধ্যসাগরীয় এগিয়ান সাগর ঘেরা কাপলাঙ্কায়া-এ নীল জলরাশি আর আকাশ যেন একই সরলরেখায় মিশেছে। প্রায় এক লক্ষ বর্গফুট এলাকা নিয়ে গড়ে এই ল্যান্ডে একই সঙ্গে প্রাচীন স্থাপত্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে। গোটা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছ’টিরও বেশি স্যুট, ১৪১টি গেস্ট রুম। প্রতিটি স্যুট ডিজাইন করা হয়েছে স্বতন্ত্র ভাবে ল্যান্ডের প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে। তা ছাড়া, স্পা, জিম, হেলথ সেন্টার, তিনটি প্রাইভেট বিচ-সহ বিনোদনের সব উপকরণই মজুত এখানে। হেলিকপ্টার ল্যান্ডের জন্য হেলিপ্যাড তো রয়েছেই, পর্যটকদের সমুদ্র-ভ্রমণের জন্য রয়েছে স্পিড বোটের ব্যবস্থাও।

বোদরুম থেকে গাড়ি বা হেলিকপ্টারে চেপে এই ল্যান্ডে পৌঁছনো যায়। সুন্দর কারুকার্য, চোখ ধাঁধাঁনো আসবাবপত্র, সব মিলিয়ে এই সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়ার পরতে পরতে আভিজাত্যের ছোঁয়া। বিয়ের আগে থেকেই একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের কর্মসূচী রয়েছে নুসরত-নিখিলের। ১৭ জুন এই ল্যান্ডেই হতে পারে ইয়ট পার্টি। ১৮ তারিখে মেহেন্দি ও সঙ্গীত। ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের কালেকশনে সাজবেন নুসরত-নিখিল। পোশাকের থিম কখনও ভারী, জমকালো লেহঙ্গা, আবার কখনও ইন্দো-ওয়েস্টার্ন টাচ। বিয়ের দিন সকালে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানও রয়েছে। অতিথিদের ঘরগুলিতে সাজানো থাকবে ফুল দিয়ে তৈরি ‘এনজে’ লোগো।

ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রভাব যেহেতু, কুইসিনেও থাকতে পারে এগিয়ান ও মেডিটেরিয়ান চমক। ২০ জুন হবে হোয়াইট ওয়েডিং। তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে কাপলাঙ্কায়াতে। তবে সব চমক এখনই প্রকাশ্যে আনেননি নায়িকা। তার জন্য আর একটু অপেক্ষা করতেই হবে ভক্তদের।

বোদরুমের সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া-এ রাজকীয় বিয়ে সারতে খরচ যে একটু বেশিই পড়বে সেটা বলাই বাহুল্য। তবে বোদরুমের ঐতিহাসিক হাতছানি আর কাপলাঙ্কায়ার নৈসর্গিক পরিবেশের ছবি দেখে আপনারও যে মন টানবে সেটা না বললেও চলে। কী ভাবছেন? আপনার পছন্দের মানুষের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে বোদরুমে পাড়ি দেবেন নাকি?

Comments are closed.