ট্রাম্পের মধ্যস্ততার প্রস্তাব ফেরাল নয়াদিল্লি, ‘চিনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চলছে’

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “চিনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভাবে আলোচনা চলছে। তা যেমন চলছে নয়াদিল্লিতে, তেমনই চলছে বেজিংয়েও।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিপাক্ষিক বিরোধ মেটাতে তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ বা নাক গলানো কখনওই মেনে নেয়নি নয়াদিল্লি। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে তা বরাবরই ভারতের বিদেশনীতির দর্শন। চিনের সঙ্গে চলতি সীমান্ত উত্তেজনা মেটাতে গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভারতকে, তা তাই আজ বিনয়ের সঙ্গেই ফিরিয়ে দিল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “চিনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভাবে আলোচনা চলছে। তা যেমন চলছে নয়াদিল্লিতে, তেমনই চলছে বেজিংয়েও।”

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেন, “সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আমাদের সেনাবাহিনী খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করেছে এবং কঠোর ভাবে প্রটোকল মেনে চলছে। আমাদের রাষ্ট্রনেতারা এ ব্যাপারে যে নীতি নিয়েছেন, তা সেনাবাহিনী অনুসরণ করছে। তবে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে কোনও মূল্যে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁরা বদ্ধপরিকর।”

    আরও পড়ুন

    রাজ্যে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ৩৪৪, জেলাগুলিতে দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ: স্বাস্থ্য ভবন

    মে মাসের গোড়া থেকেই ওয়েস্টার্ন সেক্টরের লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অঞ্চলে ভারত-চিন সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষের সংঘাতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলেই খবর। তা ছাড়া আরও উদ্বেগের বিষয় হল, লাদাখে আচমকাই সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দেয় বেজিং। একই ভাবে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে ভারতও।

    উত্তেজনা যখন এভাবেই ক্রমশ বেড়েছে, তখন গতকাল টুইট করে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ঘটনা হল, তার অনেক আগে থেকে কূটনৈতিক স্তরে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের ব্যাপারে নয়াদিল্লিতে গত কয়েকদিনে বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন সিংলার সঙ্গে কয়েক দফা দেখা করেছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সান উইদং। আবার বেজিংয়ে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে গিয়েছেন, বেজিংয়ে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিসরি।

    নয়াদিল্লির তরফে কূটনৈতিক দৌত্য যে সফল হয়েছে তার ইঙ্গিত গতকাল সন্ধ্যাতেই পাওয়া গিয়েছিল। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসায় দুই দেশ সক্ষম। আবার নয়াদিল্লি স্থিত চিনা রাষ্ট্রদূত সান উইদং বলেছিলেন, ড্রাগন ও হাতি হাত ধরে নাচছে, সেটাই রাইট চয়েস।

    বস্তুত চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রশ্নে কেন্দ্রে বর্তমান মোদী সরকারের মধ্যেই দু’টি ধারা রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বরাবরই আগ্রাসী। তিনি সীমান্তে চিনের সঙ্গে চোখ রেখে চলার অবস্থানের পক্ষে। অন্যদিকে, বেজিংয়ে স্থিত প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তথা বর্তমান বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বরাবর আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার পক্ষে। ডোকালামের সময়ে উত্তেজনা প্রশমনে তাঁর অসামান্য ভূমিকা ছিল। বস্তুত তাঁর উদ্যোগেই ডোকালামের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের ঘরোয়া সম্মেলন (ইনফর্মাল সামিট) হয়েছিল। চলতি উত্তেজনা প্রশমনে চিনে নিযুক্ত বর্তমান ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিসরির ভূমিকাও ইতিবাচক বলেই কূটনৈতিক সূত্রে খবর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More