বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

হাতির ছবি তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল হাতির রোষে! শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় ফোটোগ্রাফারকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতির ছবি তুলতে গিয়ে হাতির হানায় মৃত্যু হল এক ফোটোগ্রাফারের! রবিবার বিকেলে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল থানার আতাডিহা গ্রামের এই ঘটনায় মৃতের নাম আশিস শিট। ৩৫ বছরের আশিসের বাড়ি হাওড়া জেলার মৌড়িগ্রামে। জানা গিয়েছে, আশিস একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। চাকরির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর ছবি তোলার শখ ছিল তাঁর।

এ দিনও জঙ্গলের ছবি তোলার টানেই চারচাকা গড়ি ভাড়া করে ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন আশিস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই বন্ধু, আন্দুলের বাসিন্দা উত্তম ঘোষ এবং মৌড়িগ্রামের বাসিন্দা শিবশঙ্কর রাম। মাঝরাস্তায় সাঁকরাইলে লোকজনের ভিড় দেখে তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। শুনতে পান, হাতি এসেছে। তখনই হাতির ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন আশিস।

সূত্রের খবর, কলাইকুন্ডা রেঞ্জে আতাডিহার কাজু ও পটাশ জঙ্গলে ১২টি হাতির দল বেরিয়েছিল। সেই জঙ্গলে গিয়ে ছবি তোলার জন্য নিষেধ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু আশিস দাবি করেন, তিনি সামনে যাবেন না। তাঁর দামি ক্যামেরায় দূর থেকে জুম করে ছবি তুলে নেবেন। কিন্তু সেই ছবি তুলতে গিয়েই মগ্ন হয়ে পড়েন আশিস। তখনই পাশ একটি হাতি এসে হামলা চালায় তাঁর উপর। আশিসের এক বন্ধু গর্তে লাফিয়ে প্রাণে বাঁচলেও, আশিসকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারা হাতিটি। ভেঙে দেয় ক্যামেরাও। আশিসকে উদ্ধার করে ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় মেদিনীপুরের স্থানান্তরিত করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। মেদিনীপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খড়্গপুরের ডিএফও অরূপ মুখোপাধ্যায় এই ঘটনার কথা জানার পরে বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। আমরা বারবার মানুষকে সচেতন করেছি। তবুও মানুষ হাতির কাছে চলে যাচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দলমার দাঁতালদের তাড়াতে শনিবার রাত থেকেই ড্রাইভ চলছিল এলাকায়। দাঁতালের দলটি সাঁকরাইল ব্লকে ঢুকে ছিল। দলের প্রায় পনেরোটি হাতি আলাদা হয়ে খুদমড়াই অঞ্চলের আতাড়িয়ার জঙ্গলে রয়ে যায়। সেই দলটিকে দেখতে এলাকায় কয়েক হাজার লোক জমে যায়।

তখনই আশিসরা জঙ্গলের বেশ খানিকটা ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলেন। স্ট্যান্ড লাগিয়ে জুম করে ছবি তুলছিলেন তাঁরা। এসব দেখে হাতির দলটি বেশ বিরক্ত ছিল। দলে শাবক হাতিও ছিল। আর শাবক থাকলে এমনিতেই বড় হাতিরা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকে। সেই সময়েই দলের মাঝে মানুষজন, ক্যামেরা এসব দেখে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে দলটির একেবারে মাঝে পড়ে যান ওই ফটোগ্রাফাররা। 

Comments are closed.