শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

ত্রিশঙ্কু হরিয়ানায় তুরুপের তাস চৌটালার হাতে, মহারাষ্ট্রে ৫০:৫০-র ইঙ্গিত শিবসেনার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র বিধানসভার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সদ্য। মহারাষ্ট্রে জয় পেলেও, হরিয়ানার ফলাফল ত্রিশঙ্কু। ৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় ৪০টিতে এগিয়ে গেরুয়া ব্রিগেড, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে প্রয়োজন ৪৬ আসন। ৩১টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস, সে রাজ্যে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে জাঠ নেতা দুষ্মন্ত চৌটালার দল জেজেপি। এই অবস্থায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার। বিজেপি যেহেতু সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল, তাই বিজেপি-ই যাতে সরকার গড়তে পারে, সে বিষয়ে কথা বলবেন তিনি।

অন্য দিকে, শিবসেনার সঙ্গে জোট গড়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। মহারাষ্ট্রে ব্যাপক ফল করেছে শিবসেনা, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ৫০-৫০ চুক্তি কার্যকর, এবং মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি তুলেছে তারা। জাতীয় ইস্যুকে হাতিয়ার করে নির্বাচনে নেমেছিল বিজেপি।

এই অবস্থায়, বৃহস্পতিবারই হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারকে ডেকে পাঠান বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপি ভোট পাওয়ার জন্য হরিয়ানাবাসীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।  প্রধানমন্ত্রীও টুইট করে অভিনন্দন জানান। আরও ভাল কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দুষ্মন্ত চৌটালার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কংগ্রেস। এই অবস্থায় দুষ্মন্ত জানিয়েছেন, “মানুষ বদল চাইছেন এটা স্পষ্ট। জেজেপির হাতেই থাকবে সরকার গড়ার চাবিকাঠি।”

এদিকে মহারাষ্ট্রে ২৮৮ আসনের মধ্যে, ১৫০টি আসনে এগিয়ে বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী শিবসেনা। যদিও তা তাদের প্রত্যাশিত ২৫০-এর নীচে। শিবসেনার ফল বেশি ভাল হওয়ায়, সরকার গঠনের ৫০-৫০ চুক্তি কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। আড়াই বছরের মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েও দাবি রয়েছে তাদের। এ বিষয়ে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “বিজেপির অনুরোধ করার থেকেও কম আসনে লড়েছে শিবসেনা। এখন ৫০-৫০ করার সময়ে এসেছে। কারণ আমরা সবসময় এত মেনে নিতে পারব না।”

এ সবের মধ্যে মহারাষ্ট্রের ৯৭টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস এবং তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি। তবে ভাল ফলের কৃতিত্ব শরদ পাওয়ারে। কারণ কংগ্রেসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে তারা। একা হাতে এনসিপিকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন শরদ পাওয়ার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নির্বাচনে জাতীয় ইস্যুগুলিকে প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। সেখানে স্থানীয়  ইস্যুগুলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল বিরোধীরা। তার মধ্যে ছিল বেকারত্ত্ব, কৃষিসঙ্কট, কৃষকদের আত্মহত্যা, এবং অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়ার মতো বিষয়গুলিও। 

লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল কংগ্রেসের। তার পরে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। রাহুল গান্ধী ইস্তফা দেওযার পর থেকে নেতৃত্বের সঙ্কটও রয়েছে। সভা, প্রচার– সবই অনেক কম। উল্টো দিকে বিজেপি লাগাতার প্রচার চালিয়ে গিয়েছে দলের হেভিওয়েট নেতৃত্বদের নিয়ে। তার পরেও কংগ্রেসের এই ফলাফল বিরোধীদের আশা বাড়াচ্ছে অনেকটাই।

Comments are closed.