শনিবার, আগস্ট ২৪

কাশ্মীরে এবার লক্ষ্য ডিলিমিটেশন, তৎপরতা শুরু হয়ে গেল কেন্দ্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ সময় থমকে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া চালু করতে চায় কেন্দ্র। ৩৭০ ধারা খারিজ করার আগে থেকেই এনিয়ে সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এখন রাজ্য দু’ভাগ হওয়ার পরে তৎপরতা শুরু করল নির্বাচন কমিশনও। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই কমিশন এনিয়ে বৈঠক ডেকেছে। সেই বৈঠকে নবগঠিত রাজ্যের বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় সরকারও এনিয়ে তৎপর। সূত্রের দাবি, অমিত শাহের এই ভাবনাচিন্তায় সায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও। সেই কারণেই অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা আসনগুলি পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর কাশ্মীর নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন অমিত শাহ। কাশ্মীরের একাধিক আধিকারিক ও সেখানকার রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এখন জম্মু-কাশ্মীরে মোট বিধানসভা আসন ১১১টি। জনসংখ্যা বাড়লেও এই আসন সংখ্যা দীর্ঘদিন বাড়েনি। এখন সেটাই করতে চায় কেন্দ্র। শেষবার কাশ্মীরে ডিলিমিটেশন হয়েছিল ১৯৯৫ সালে।

ভারতে ডিলিমিটেশন কমিশন প্রথম গঠন হয় ১৯৫২ সালে। এর পর থেকে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভা ও লোকসভা এলাকার পুনর্বিন্যাস হয়েছে। ১৯৬৩, ১৯৭৩ এবং ২০০২ সালে ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন হয়েছে দেশে। সর্বশেষ কমিশন গঠন হয় ২০০২ সালের ১২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কুলদীপ সিংয়ের নেতৃত্বে। কমিশন রিপোর্ট জমা দিয়েছিল ২০০৭ সালে কিন্তু সেই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার সেই রিপোর্ট কার্যকর করেনি। পরে ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা কার্যকর হয়। ২০০১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী সেই বার গোটা দেশে ডিলিমিটেশন হয়েছিল। বাদ যায় শুধু জম্মু-কাশ্মীর।

২০০২ সালে ফারুক আবদুল্লা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সেই সময়েই রাজ্যের সংবিধানে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত আইনে সংশোধন আনেন। সেই সময়ে ফারুক সরকার যে নিয়ম চালু করে তাতে ২০২৬ সালে পর্যন্ত ওই রাজ্যে আর ডিলিমিটেশন হওয়ার কথা নয়। এখন ৩৭০ ধারা খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে ওই সংবিধান যেহেতু আর কার্যকর থাকবে না তাই নতুন করে ডিলিমিটেশন হতেই পারে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন না হওয়া এবং মনোনীত আসন বাদ দিলে এখন কাশ্মীর এলাকায় ৪৬টি, জম্মুতে ৩৭টি এবং লাদাখে রয়েছে মাত্র ৪টি বিধানসভা আসন। এরই পুনর্বিন্যাস চাইছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বিধানসভার সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর তা বেড়ে ১১৪ হতে পারে।

আগামী ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন থেকে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর, দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব ঘোষণা করা হবে।

Comments are closed.