বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ঘোটকে বিদায় নিলেন দেবী, শাস্ত্রমতে একেবারেই ভালো হয় না সেই ফল

অনির্বাণ

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বার মা এসেছেন ঘোটকে। দশমীর দিন তিনি ফিরেও যাচ্ছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চেপে। শ্রাস্ত্রে বলা হয়, দেবীর গমনাগমন যদি রবিবার বা সোমবার হয়, তা হলে তাঁর বাহন হয় গজ৷ আবার দেবীর গমনাগমন শনিবার বা মঙ্গলবার হলে তিনি চড়েন ঘোটকে৷ কিন্তু, বৄহস্পতিবার বা শুক্রবার যদি দেবীর গমনাগমন হয়, তা হলে তিনি দোলায় যাতায়াত করেন৷ আর বুধবার হলে তাঁর যাতায়াতের যানবাহন হয় নৌকা৷ সেই হিসেবেই এবার দেবী এসেছেন ঘোটকে আর যাচ্ছেনও ঘোটকে।

বলা হয়, দেবী যদি গজে আসেন বা যান তবে, পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে আর তার জেরে ফলন ভালো হয়৷ স্বাভাবিক ভাবেই ফল থেকে সুখ সমৃদ্ধি পায় মর্ত্যভূমি৷ একই সঙ্গে শাস্ত্রমতে হাতি বা গজ অন্নপূর্ণা ও দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার বাহন৷ হাতির হাত ধরে অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠে বসুন্ধরা। আবার শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার বাহন গজে গমনাগমনের ফলে পৃথিবীতে কৃষিকাজের পাশাপাশি শিল্পেরও উন্নতি হয়৷

দোলায় দেবী দুর্গা যদি গমনাগমন করেন, তার ফলে নাকি বহু মৃত্যু হয়৷ সেটা প্রাকৄতিক দুর্যোগের কারণে বা যুদ্ধে হানাহানির কারণে হতে পারে। দোলা এমন একটি যান, যার স্থিরতা কম। সর্বদা দুলছে। তাই বলা হয়, দুর্গার দোলায় গমনাগমনে স্থিরতা নষ্ট হতে পারে।

এছাড়াও বলা হয়, দেবী দুর্গা নৌকায় গমনাগমন করলে মর্ত্যভূমিতে শস্য খুব ভালো হয়৷ একই সঙ্গে অতি বৃষ্টি থেকে বন্যার আশঙ্কাও থাকে৷

এবছর একটা নয়, আগামন ও গমন দুইই ঘোটকে। পণ্ডিতরা মনে করেন, ঘোড়ায় আগমন ও গমন মোটেও শুভ নয়। ঘোড়ার চলনে সব কিছু ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই বিশ্বাস যাঁদের রয়েছে তাঁরা মনে করছেন এই বছরে এর ফল খুবই খারাপ হতে পারে। ফসল নষ্ট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবই হতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে।

ক্ষিপ্রগামী, বুদ্ধিমান, প্রভুভক্ত ঘোড়া কখনও কখনও উদভ্রান্ত হ‌য়ে ওঠে। অনেক সময়ে ঘোড়া ছুটতে থাকে লক্ষ্যের উল্টোদিকে। ঘোড়ার এমন স্বভাবের প্রভাবও পড়ে, যখন দুর্গা গমনাগমন করেন ঘোটকে।

Comments are closed.