মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব ভারতেই পড়েছে বেশি, বললেন আইএমএফের প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্ব জুড়েই অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে ভারতের মতো বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব দেখে যাচ্ছে বেশি। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর ম্যানেজিং ডায়রেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা একথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, গত এক দশকের মধ্যে ২০১৯-২০ সালের আর্থিক বছরেই বিকাশের হার নেমেছে সবচেয়ে নীচে। ৯০ শতাংশ দেশেই আর্থিক বিকাশ হচ্ছে ধীর গতিতে।

তাঁর কথায়, দু’বছর আগে বিশ্ব জুড়ে বিকাশের হার বাড়ছিল। জিডিপি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বলা যায়, ৭৫ শতাংশ দেশেই অর্থনীতিতে তেজি ভাব দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন সব দেশেই কম বেশি মন্দার প্রভাব দেখা দিয়েছে।

উন্নত দেশগুলির প্রসঙ্গ তুলে ক্রিস্টালিনা বলেন, আমেরিকা ও জার্মানিতে বেকারত্বের হার এখন খুবই কম। তা সত্ত্বেও বলা যায়, আমেরিকা, জাপান ও অন্যান্য উন্নত অর্থনীতিতে আর্থিক বিকাশ কমেছে। বিশেষত যে দেশগুলি তাদের মুদ্রা হিসাবে ইউরো ব্যবহার করে, সেখানে মন্দার প্রভাব রয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু চলতি বছরে ব্রাজিল ও ভারতের মতো বৃহৎ উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

আইএমএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে তাঁর প্রথম ভাষণে ক্রিস্টালিনা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখন প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে চলতি আর্থিক বছরে যে পরিমাণ বিকাশ হবে বলে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে হচ্ছে তার চেয়ে কম। এদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমার ফলে অর্থনীতির বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

অক্টোবর মাসেই প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টিনা ল্যাগার্ডের থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন ক্রিস্টালিনা। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাতে বহু দেশ জড়িয়ে পড়েছে। ২০২০ সালে যদি অর্থনীতি তেজি হয়ে ওঠে তাহলেও এই বিতর্কের প্রভাব থাকবে একটি প্রজন্ম জুড়ে।

বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য যুদ্ধ সম্পর্কে ক্রিস্টালিনা বলেন, এতে কেউ লাভবান হয় না। বাণিজ্য নিয়ে কোনও বিতর্ক দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উচিত আলোচনায় বসে সব মিটিয়ে নেওয়া।

Comments are closed.