বুধবার, মার্চ ২০

একেই কি বলে অনলাইন

‘অনলাইন’ বলতে হবে, এ আবার কী আহ্লাদ!

চাঁদ সদাগর মনসা পুজোয় যতটুকু আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন, সেটুকুও কি আছে এই বহু ঘোষিত, বহু চর্চিত অনলাইন প্রক্রিয়ায়!
প্রতিবার বছরের এই সময়টায় কলেজে কলেজে হুলুস্থূল চলে। চাহিদা অনেক বেশি, জোগানে বিপুল ঘাটতি। কলেজের সামনে মাইলখানেক লম্বা লাইন, তাতে ক্লিষ্ট মুখের ছাত্রছাত্রী আর উদ্বিগ্ন মুখের বাবা মায়েরা। ভিতরে ভীত, ঠুঁটো জগন্নাথ কলেজ কর্তৃপক্ষ আর দাপিয়ে বেড়ানো ছাত্র ইউনিয়ন, যাদের অধিকাংশই পড়াশোনা করতে এসেছে, না কি দাঙ্গাবাজি করে অবৈধ উপার্জন করতে, বোঝা সত্যিই দায়।
এই পরিস্থিতিই চলে এসেছে বছরের পর বছর, নীতিবাগীশ বুদ্ধ-বিমান-চন্দ্র-সূর্যেরা কোনও দিনও যা বন্ধ করতে চাননি বা করেননি। পালাবদলের পরে এক মন্ত্রী একটু চেষ্টা করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে গেলেন। নাটকের মঞ্চ থেকে বাস্তব টা আর একটু বেশি জটিল। এটা যখন বুঝলেন তিনি, শিক্ষা দফতর ততদিনে হাতছাড়া।
স্বচ্ছ বলেই বোধ হয় হাজার বার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় অনলাইন চালু না করার পিছনে কোনো যুক্তিগ্রাহ্য সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত বর্তমান বর্ষীয়ান শিক্ষামন্ত্রী দেননি। এবং যখন তিনি বলেন, ইউনিয়ন কেন মাতব্বরি করবে, তখন হাসি পেয়ে যায়। কারণ বড্ড নিয়ম রক্ষার মতো শোনায় যে!
কী চেয়েছিলেন তিনি? ভর্তি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে তাঁর মনে হয়েছিল, কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থা চালু হোক, যাতে কলেজগুলো আলাদা আলাদা জায়গীর হিসেবে যা-ইচ্ছে-তাই না করতে পারে। একটা কেন্দ্রীয় মেকানিজম ভর্তির গোটা ব্যাপারটাকে নিয়ন্ত্রণ করুক।
কিন্তু উক্ত মন্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে ওই পরিকল্পনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে যে অনলাইন চালু হল, তার কার্যকারিতা নিয়ে শিক্ষামহলের একটা বড় অংশ যে প্রশ্ন তুলছে, বা হাস্যকর বলে অভিহিত করছে, সেটা কি খুব অযৌক্তিক? কলেজে-বিচ্ছিন্ন ভাবে অনলাইন চালু হলেও সার্বিক চিত্রে যে স্বচ্ছতা আসবে না, টাকা রোজগারের চিরন্তন ব্যবসা যে বন্ধ হবে না, সেটাও কি দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ নয়?
ভুক্তভোগীর দুর্দশা ঘোচে না। আর নিন্দুক জন বলার সুযোগ পান, ভূত যদি সর্ষের মধ্যে সর্ষের নিরাপত্তায় থেকে যায়, তা হলে ভূতের নেত্য কি বন্ধ করা যায়?

Shares

Leave A Reply