‘প্লাস্টিক’ময়

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    বেচারা ছেলেমানুষ তিমি। প্রথমে বুঝতে পারেনি কী খেয়ে ফেলেছে। হঠাৎ সে আর আসল খাবার খেতে পারছিল না। অনেক চেষ্টা হয়েছিল বাঁচানোর। শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছিল অনেক কায়দা কানুন করে। কিন্তু সব চেষ্টা শেষে ব্যর্থ হলো।

    খবরটা কিন্তু দেশি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়েই ‘কভার’ করা হয়েছে এই তো দিন কয়েক আগেই। কিন্তু হলফ করে বলুন তো, আমরা ক’জন খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছি, যে ভাবে আমরা রগরগে রাজনৈতিক বা বিনোদনের খবর পড়ি? আমরা কজন শিউরে উঠেছি? বিশ্বব্যাপী হিসেব করলেও সংখ্যাটা কি সত্যি খুব সাড়া জাগানো হবে?

    থাইল্যান্ড লাগোয়া সমুদ্রে তিমিটি যখন আবিষ্কৃত হয়, তার এখন তখন অবস্থা। কিছু খেতে না পেরে শরীরে কোনো শক্তি নেই। অনেক চিন্তা ভাবনার পরে বিশেষজ্ঞরা তার পেট চেরার সিদ্ধান্ত নিলেন। কী মিলল? প্রায় কুড়ি পাউন্ড প্লাস্টিক আর আরো সব অজৈবিক আবর্জনা।

    কিন্তু ওঁরা বিস্মিত হলেন না, কারণ ওঁরা জানেন প্রতিদিন এই মহাসাগরগুলিতে কত হাজার লক্ষ কেজি প্লাস্টিক আবর্জনা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।

    এমন নয় এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। জানি বলেই প্রতি বছর তথাকথিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেশে দেশে প্লাস্টিকদূষণ নিয়ে হাজারে হাজারে সেমিনারে একই বিপদের কথা বারবার স্মরণ করা হয়। কিন্তু ট্র্যাজেডি হচ্ছে, আমরা আলোচনাচক্রে স্মরণ করে দৈনন্দিন জীবনে বিস্মৃত হই।

    আমরা বিলক্ষণ বিস্মৃত হই। আমরা নিজেদের সুবিধের জন্য বাজারে নির্বিচারে প্লাস্টিক ব্যাগ ভরা আনাজপাতি, মাছ-মাংস কিনি, কিন্তু তার থিকনেস পঞ্চাশ মাইক্রন-এর বেশি কি না, তা নিয়ে ভাবিত হই না। আমরা যত্র তত্র প্লাস্টিক পুড়িয়ে নির্বিকার থাকি। আমরা মনের আনন্দে যেখানে সেখানে – নদী , নালা, পুকুর, খাল, বিল, সমুদ্র, সমুদ্র-সৈকত, রাস্তাঘাট, মাঠ-ময়দানে প্লাস্টিক ফেলি। না হলে কলকাতা শহরে প্রতিদিন  সোয়া চারশো টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়?

    অনেক দিন ধরে বলা হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য ও জৈবিক বর্জ্য কে আলাদা করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় তার কোনো ব্যবস্থা নেই। গুটি কয়েক যে সব জায়গায় আছে, সেখানেও কিন্তু মানুষ সচেতন নয় বলে সব মিশে একাকার হয়ে যায়।

    সমস্যা হচ্ছে কোনো দেশের কোনো প্রশাসনের এ ব্যাপারে কিছু করার নেই, যদি আমজনতা, আমরা আমাদের বিপদ না বুঝি। দরকার সদিচ্ছা। দরকার অঙ্গীকার। কারোর জন্য নয়। নিজেদের বাঁচার জন্য।

    ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। সেটা করে দেখিয়েছে ছোট্ট রাজ্য সিকিম। তাকে প্লাস্টিক-মুক্ত ক্ষুদ্র স্বর্গরাজ্য বললেও বোধ হয় খুব অত্যুক্তি হয় না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More