ডেঙ্গির আতঙ্ক বাড়ছে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুতর আকার নিচ্ছে। কেবল কলকাতা শহরেই প্রায় তিন হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর মিলেছে। ২০১৭ সালে রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ খুব খারাপ আকার নিয়েছিল। এবারও সেরকম হতে পারে। আরও খারাপ হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই।

    প্রতি বছর বর্ষার শেষে রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দেয়। হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। কোলের শিশু থেকে যুবক, যুবতী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা কেউ রক্ষা পান না। অনেকের মৃত্যু হয়। সবাই আতঙ্কে থাকে। কারও সামান্য জ্বর হলেই মনে হয়, ডেঙ্গি নয়তো? শীত পড়লে ডেঙ্গির প্রকোপ কমে। আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। অর্থাৎ ডেঙ্গির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা শীত পড়ার ওপরে নির্ভরশীল। সুদূর অতীতে গুহামানবরা এইভাবে প্রকৃতির ওপরে নির্ভর করত।

    আমাদের সরকার ডেঙ্গির ব্যাপারে কী করে?

    প্রথমত গ্রামে-গঞ্জে ডেঙ্গি হলে ‘অজানা জ্বর’ বলে ব্যাপারটা চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারপর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা যথাসম্ভব কমিয়ে দেখায়। শেষকালে যখন রোগের প্রকোপ ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় তখন আর বিশেষ কিছু করার নেই। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, ডেঙ্গি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মাইকের সেট কিনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছরে তার ঠিকমতো ব্যবহার হয়নি। এখন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সচেতনতার জন্য প্রচার শুরু হচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়ার পরে ওই প্রচার করে কতটুকু লাভ হবে?

    গতবছর ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছিল মূলত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। এবার খানিক পরে হানা দিয়েছে ওই রোগ। চিকিৎসকরা বলছেন, দুর্গাপুজোর পর থেকে ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়েছে। রোগীদের দেহে দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা। ডেঙ্গি অনেকের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করছে।

    এর মধ্যে সাইক্লোন বুলবুল ধেয়ে আসায় ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সদ্য শেষ হয়েছে দুর্গাপুজো ও কালীপুজো। শহরের বহু জায়গায় খুঁটি পুঁতে প্যান্ডেল হয়েছিল। খুঁটি তুলে ফেলা হয়েছে কিন্তু তার গর্ত রয়ে গিয়েছে। সাইক্লোনের বৃষ্টিতে সেই সব গর্তে জমবে জল। তা হয়ে উঠবে ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার আঁতুড়ঘর।

    পতঙ্গবিদরা বলেছেন, একটি পূর্ণবয়স্ক মশা একেবারে ১০০-২০০ ডিম পাড়ে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৮০ শতাংশ ডিম ফুটে লার্ভা বার হয়। সুতরাং সাইক্লোনের পরে শহরে কী হারে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটবে ভাবতেও ভয় করে।

    পুজোর উদ্যোক্তারা খুঁটি উপড়ে ফেলার পর গর্ত বুজিয়ে দিলে এই আশঙ্কা দেখা দিত না। ডেঙ্গি ঠেকাতে সরকারের যেমন গাফিলতি আছে তেমন সাধারণ মানুষের সচেতনতাও যথেষ্ট কম।

    আমরা আশা করতে পারি, সরকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আগামী দিনে এই মারণরোগের প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। সেই সঙ্গে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হবে যথাসম্ভব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More