বুধবার, নভেম্বর ১৩

অর্থনীতির মন্দা ও মোদী সরকারের দাওয়াই

ভারতের অর্থনীতি খাদের কিনারায়। অর্থনীতিবিদরা গত কয়েক মাস ধরে এমনই উদ্বেগজনক কথা বলে চলেছেন। সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখছেন, বাজারে জিনিসপত্র অগ্নিমূল্য, বহু তরুণ-তরুণীর চাকরি নেই, বিভিন্ন অফিসে কর্মরত ব্যক্তিরাও জানেন না, আগামীদিনে চাকরি থাকবে কিনা। বেসরকারি সংস্থার চাকুরেদের তো কথাই নেই, এমনকী বিএসএনএলের অবস্থা থেকে সরকারি কর্মীদের মনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এই অনিশ্চয়তাবোধই অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শত্রু। মানুষ সদাই ভয়ে ভয়ে আছে, আমার রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে না তো? এই অবস্থায় সে খরচ যথাসাধ্য কমিয়ে আনবে। বিলাসের সামগ্রী কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোও কিনবে যথাসম্ভব কম পরিমাণে। এর পরিণামে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা যাবে কমে। বড় বড় কারখানায় উৎপাদিত সামগ্রী কেনার লোক থাকবে না। দেখা দেবে অতি উৎপাদনের সংকট। অর্থাৎ বাজারের যা চাহিদা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে যাবে। উৎপাদিত পণ্য গুদামেই পড়ে থাকবে। খদ্দের মিলবে না।

কোম্পানি তখন কী করবে? তার সামনে পথ দু’টো। যতদিন না পর্যন্ত ওই বাড়তি পণ্য বিক্রি হচ্ছে, ততদিন নতুন করে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে। অথবা আগের চেয়ে কমিয়ে দিতে হবে।

গাড়িশিল্পে আপাতত এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য শিল্পেও ওই প্রবণতা দেখা দিলে আশ্চর্যের কিছু নেই।

বাজারকে চাঙ্গা করতে গিয়ে সরকার দফায় দফায় কর্পোরেটদের করছাড় দিয়ে চলেছে। সরকারের যুক্তি এইরকম, ট্যাক্স কম দিতে হলে বড় বড় ব্যবসায়িক সংস্থা নতুন বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে। বিনিয়োগ মানে কর্মসংস্থান। তাতে মানুষের হাতে দু’পয়সা আসবে। বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি হবে বেশি পরিমাণে। তাতে আরও বেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হবে। অর্থনীতির সংকট কাটবে।

এর বিপরীত মতও আছে। সেই মত যথেষ্ট শক্তিশালী। তাতে বলা হয়, কর্পোরেটদের ওপরে চড়া হারে ট্যাক্স বসিয়ে গরিবকে কিছু রিলিফ দেওয়া হোক। তার আয়ের স্থায়ী সংস্থান হোক। তবে বাজার হয়ে উঠবে তেজি।

সম্প্রতি যে বাঙালি অর্থনীতিবিদ নোবেল পুরস্কার পেয়ে দেশের মুখ উজ্বল করেছেন, তিনিও ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে। গত লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেস তাঁর পরামর্শ চেয়েছিল। সেজন্য জনৈক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নোবেল প্রাপ্তির দিনেও অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠেস দিয়ে কথা বলতে ছাড়েননি।

অসহিষ্ণুতা ও ঔদ্ধত্য সব সময়েই ক্ষতিকর। সরকার যদি সত্যিই দেশের মঙ্গল চায়, তাদের যোগ্য ব্যক্তির পরামর্শ শোনা উচিত।

Comments are closed.