মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

ধূমপানের চেয়েও জাঙ্কফুড বেশি লোকের মৃত্যুর কারণ! বলছে সমীক্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারাদিন দৌড়তে দৌড়তে আমরা নিজেদের ভালো রাখতে ভুলে যাই।  অনেক অবহেলাও আসে।  আর দিন দিন চিন্তা যত বাড়ে, সিগারেটের ছাই তত বেশি জমে অ্যাশট্রেতে।  সকলেই তো জানি, সিগারেট খাওয়া মারাত্মক ক্ষতিকর।  ক্যান্সার, হার্টের সমস্যা, শ্বাস নিতে সমস্যা সহ নানা গণ্ডগোলের মূলে থাকে এই সিগারেট।  তবে ইদানীংকালের একটি সমীক্ষা কিন্তু আরও ভয়ঙ্কর তথ্য তুলে ধরছে।  বলা হচ্ছে সিগারেট খাওয়া তো ক্ষতিকর বটেই, তবে তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর আমাদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ার নেশা।! অবাক হচ্ছেন তো?

ইন্স্টিটিউট অফ হেল্থ মেট্রিক্স অ্যাণ্ড ইভ্যালুয়েশন(IHME) বিশ্বের ১৯৫ টা দেশের মধ্যে একটা সমীক্ষা চালায়।  তাতে বলা হয়েছে, স্মোকিংয়ের তুলনায় জাঙ্কফুডের ক্ষতি অনেকটাই বেশি প্রভাব ফেলছে আজকাল।  এমনকি তাতে মৃত্যুর হারও বেশি।  তাই আপনি যদি জাঙ্কফুডে আসক্ত হন, তাহলে বুঝবেন, নিজের মৃত্যু নিজেই ডেকে আনছেন।

সুস্থ হয়ে তো সকলেই জীবন কাটাতে চাই, তাই না? কিন্তু আপনি যখনই সারাদিনে এবং মাঝরাতেও চিপ্স, চকোলেট, কোল্ড ড্রিঙ্কের উপর নির্ভর করছেন, তখন জাঙ্কফুড আপনার কাছে বিষে পরিণত হচ্ছে।  আর আপনি মৃত্যুর দিকে এক দু পা করে এগিয়ে চলেছেন।  আগেও যে এই জাঙ্কফুডকে খুব একটা সম্মান দিতেন সাস্থ্য সচেতন মানুষরা, তা মোটেও নয়। তবে এই সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তা আরও বড় বিপদকে সামনে আনছে।

‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিসিজ়’ নামে একটি গবেষণা করেছে সিয়াটলের একটি ইন্স্টিটিউশন।  তারা বলছে, সাম্প্রতিক কালে ১১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই জাঙ্কফুডের জন্য।  কোনও নির্দিষ্ট সময়কালের কথা অবশ্য বলা হয়নি।  গবেষণা অনুসারে, এগুলোয় কোনও পুষ্টিগুণ তো থাকেই না, বরং এগুলো এতই ক্ষতিকর যে যথেষ্ট পরিমাণে ধূমপান করলে যে  হারে মৃত্যু হয়, জাঙ্কফুড খেয়ে মৃত্যু হার তার তুলনাতেও বেশি।  কাজেই মানুষ চাইলেই জাঙ্কফুড না খেয়ে, নিজের মৃত্যু দূরে রাখতে পারে।  এই সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, যেখানে জাঙ্কফুডের জন্য হাই ব্লাড প্রেশারে ভুগে ১১ লক্ষ মানুষ মারা গেছেন, সেখানে ৮ লক্ষ মানুষ মারা গেছেন টোবাকোর জন্য।  আরও বলা হয়েছে, এই ১১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ২২ শতাংশেরই বয়স ৭০ বছরের কম!
এই সমীক্ষা আরও বেশি করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যুগ যুগ ধরে আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা বলে আসছেন, বাড়ির খাবার খেতে।  বাড়িতে তৈরি করা সব্জি খান।  রাস্তার চিজ়, কর্ণে প্রচুর প্রিজ়ারভেটিভ বা রাসায়নিক মেশানো থাকে, তাই সে সব খাবার না খাওয়াই ভালো।  বাড়ির খাবার যত কম খাবেন, খিদে মেটাতে আপনি জাঙ্কফুডের উপর ঝুঁকবেন।  আর তাতেই আপনার হার্টের সমস্যা, টাইপ টু ডায়াবেটিস লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।  তাই বাড়ির খাবারে ভরসা করতে শুরু করুন।

অনেক সময়েই হঠাৎ করে জাঙ্কফুড ছেড়ে দিতে বললে, সমস্যায় পড়েন অনেকেই।  আর তাতে তাঁদের ডিপ্রেশনও শুরু হয়ে যায়।  তাই ডাক্তাররা বলছেন, জাঙ্কফুড খাওয়ার বদলে কিছু এমন স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিন, যাতে স্বাদেও সমস্যা না হয়, আবার শরীরও ঠিক থাকে।  এক্ষেত্রে আপনি বাড়িতে বানানো ভাজা মশলা দিয়ে আলুকাবলি, অল্প মশলা দিয়ে শশা বা অন্য কোনও ফল খেতে পারেন।  দইতে শশা, পেঁয়াজ, মশলা মিশিয়ে করে নিন রায়তা।  এভাবেই আস্তে আস্তে নিজেকে তৈরি করে ফেলুন, সুস্থ থাকুন।

হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক এ প্রসঙ্গে বলেন, যদি হঠাৎ করে সব বন্ধ করে ফেলা খুব সমস্যার হয়, তাহলে নিজেকে সারাদিনে গুনে গুনে ছ’টা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়াতে পারেন।  এতে একেবারে না খাওয়াও হল না, আবার এই ফ্রাইয়ের সঙ্গে স্যালাড করে খেলে শরীরের ব্যালান্সও সহজেই হতে পারে।

এই সমীক্ষা আরও একটা বিষয় বলছে।  পৃথিবীর ধন সম্পত্তি বহুল জায়গাগুলোতে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের জাঙ্কফুডের উপর নির্ভরশীলতা বেশি।  অথচ, যে সব জায়গাগুলো আস্তে আস্তে অর্থনৈতিকভাবে বেড়ে উঠছে, সেখানে বরং খাবারের যে ব্যালান্স থাকে তাতে জাঙ্কফুডের বদলে বাড়ির তৈরি খাবারের উপরে মানুষ বেশি ভরসা করেন।  আর পরীক্ষাতে এটাও দেখা গেছে, যে সব এলাকায় বাড়ির তৈরি শাকসব্জি আর খাবারে মানুষ বেশি ভরসা করেন, সেখানে চিনি জাতীয় খাবার বা বাইরের রাসায়নিক খাবারের উপর মানুষের ঝোঁক কম।  ফলে ডায়াবেটিসের সমস্যা কমে যায় অনেকটাই।

কাজেই সিগারেট খাওয়া যেমন কাজের কথা নয়, তেমনি জাঙ্কফুড খাওয়াও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে আপনাকে।  তাই এড়িয়ে চলুন জাঙ্কফুড।  পারলে আজ থেকেই।

Comments are closed.