এবার আর ‘হাফ চকোলেট’ নয়, খান খুশি মতো, আর কমান ব্লাড প্রেশার 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাঁত খারাপ থেকে ওজন বেড়ে যাওয়া বা প্রেশার থেকে সুগার এসব নানা কারণে যখন আপনার মনের খিদে না মিটিয়েই চকোলেটকে দূরে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, তখনই একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা বলছে চকোলেট খান, ব্লাড প্রেশার কমান!

    তবে চকোলেটটি হতে হবে ডার্ক চকোলেট।  এক মাসে আপনি রোজ যদি ডার্ক চকোলেটের এক টুকরো করেই খান আপনার ব্লাড প্রেশার একেবারে আয়ত্তে চলে আসবে।  পর্তুগালের কোয়েম্ব্রার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে এই গবেষণা করা হয়েছে।  ডঃ টেলমো পেরিরা এই গবেষণা করে বলেছেন, ডার্ক চকোলেটে থাকা কোকো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান দেয় শরীরে।  আর তা থেকেই ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোলে আসে।  এই চকোলেটের ফ্ল্যাভানল একটি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট যৌগ।  যা শরীরের যে কোনও ঘা শুকোতে সাহায্য করে, ইনসুলিনের ব্যালান্স করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে।  এই ফ্ল্যাভানল আপনি আপেল, আঙুর, চেরি, চা তেও পাবেন।  দুধ চকোলেটের যে উপকারিতা, তার চেয়ে ৯০ শতাংশ বেশি উপকারিতা ডার্ক চকোলেটে।  শুধুমাত্র কোকোর জন্য।

    গবেষণার সময়ে ১৮ থেকে ২৭ বছরের মোট ৩০ জনকে ৩০ দিন ধরে প্রত্যেকদিন ২০ গ্রাম করে মিষ্টি খাওয়ানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৫ জন ৫৫ শতাংশ কোকো চকোলেট খেয়েছিলেন, বাকিদের দেওয়া হয়েছিল ৯০ শতাংশ।  এই ৩০ জনের উপরের এই সমীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ দিন আগে এবং পরীক্ষা শেষের দুদিন পরে তাঁদের হেল্থ চেকআপ করা হয়।  তাঁদের হৃদরোগ, ধমনীর অবস্থা, এবং পাল্সরেট নেওয়া হয়।  তাদের বলা হয় যে, ফ্ল্যাভানল সমৃদ্ধ খাবার যেমন বেরি, চা এবং ওয়াইন এসময়ে এড়িয়ে চলতে।

    সমীক্ষার পরে একটি নিউট্রিশন জর্নালে বলা হয়, সকলের মধ্যেই একটি পরিবর্তন দেখা গেলেও যাঁরা খুব বেশি মাত্রায় কোকো খেয়েছেন তাঁদের শারীরিক উন্নতি হয়েছে চোখে পড়ার মতো।  এদের ক্ষেত্রে ব্লাডপ্রেশার ২ অঙ্কের সংখ্যায় নেমে এসেছিল।

    চিকিৎসকরা বলেন সিস্টোলিক চাপ ৯০ থেকে ১২০ ও ডায়াস্টোলিক চাপ ৬০ থেকে ৮০ থাকে সাধারণভাবে।  হার্ট থেকে রক্ত যে প্রেশারে শরীরে আসে, তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে।  ডায়াস্টোলিক চাপ ঠিক তার উল্টোটা।  এই সমীক্ষার পরে দেখা যায়, যাঁরা হাই কোকো খেয়েছিলেন, তাঁদের সিস্টোলিক প্রেশার ৩.৫ এমএম নামলেও, যাঁরা কোকো কম খেয়েছিলেন তাঁদের নেমেছে মাত্র ২.৪ এমএম।  আর ডায়স্টোলিক প্রেশারের ক্ষেত্রেও যথাক্রমে ২.৩ এমএম এবং ১.৭ এমএম ছিল।  এমনকি প্রথমদের ক্ষেত্রে পাল্সরেট ও শিরা ধমনীর অবস্থাও অনেকটাই ভালো ছিল।

    সমীক্ষার ক্ষেত্রে অল্পবয়সীদের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, পরে মাঝবয়সীদের উপরেও সমান নজর দেওয়া হবে বলেছেন গবেষকরা।  তাঁরা মনে করেন, যাঁদের উপর সমীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের হার্টের গঠনে কোনও পরিবর্তন হয়নি।  সেটা শুধুমাত্র ৩০ দিনের স্থায়ী গবেষণার কারণে হতেও পারে।   বিজ্ঞানীরা আশা করেন, তাঁদের গবেষণায় যে রেজাল্ট এসেছে, তাতে হৃদরোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে চকোলেট খাওয়াকে সমর্থন করা যেতে পারে।  তবে এবিষয়ে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা দরকার।

    তবে আপাতত বলাই যায়, ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন আয়েস করে, তা আপনার বয়স ৮ হোক বা ৮০।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More