রমজানে সবই খান, কিন্তু নিয়ম মেনে

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমজান মাসে ডায়েট প্ল্যান মেনে চলা অসম্ভব। রোজা রেখে  সারাদিন না খেয়ে খেয়ে ওজন কমে যায় বলে জানালেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার  বহড়ুর  আজিজুল রহমান। আজিজুর আধা-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টানের কর্মী।

আমরা সাধারণত দিনে তিন থেকে চারবার খাই। রোজার সময়েও মুসলিমরা তিনবার খান। রোজা শেষে  ইফতার, রাতে আর সেহেরি মিলিয়ে সেই তিন বেলাই খাওয়া হয়। তা হলে ওজন কমবে কী ভাবে? রোজার পর ইফতারে বসে আর ডায়েটিং-এর কথা মাথায় থাকে ? থরে থরে সাজানো হরেক কিসিমের খাবার। পেটের ক্ষিদে মিটে গেলেও মনের ক্ষিদে মেটে না। সব ধরণের খাবার চাখ্তে চাখ্তে বেশী খাওয়া হয়ে যায়। ইফতারে যেহেতু  তেলে ভাজা খাবার বেশি থাকে তাই অ্যাসিডিটির সঙ্গে সঙ্গে ওজন বাড়ে এই রোজার মাসে। এরপর আসে রাতের ও সেহরির  খাবারের সময়।  ইফতারের মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই রাতের খাবারের সময় এসে যায়।  রোজাদারদের  পেট ভরা সত্বেও মনে হয় সারা দিন না ছিলাম কাল সারাদিন না খেয়ে থাকবো তাই খেয়েই নিই।  রোজার সময়  আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খেতেই থাকি। এছাড়া বন্ধু বান্ধব আত্মীয় পরিজনের বাড়িতে দাওয়াত লেগেই থাকে রোজার মাসে। লোভনীয় পদগুলি সচরাচর মিস করতে মন চায়না।
সব বুঝলাম। কিন্তু এই সময় নিজেকে সুস্থ রাখাটাও তো জরুরি।
আসুন  স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রোজা পালন করা সম্পর্কে একটু জেনে নিই।

ইফতারের  মেনু ও তার পরিমাণ

১. ইফতারে বসার আগে অবশ্যই একটু জল পান করবেন। খালি পেটে সরাসরি তেলেভাজা বা ফল খাবেন না। সেই প্রবাদটা মনে করুন “খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল।”  খালি পেটে তেলে ভাজা খেলে ফল ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা।

২.ইফতারের সময় রোজাদারদের থালায়  বেগুনি, পেঁয়াজি, হরেক রকমের খাবাব  থাকবেই থাকবে। কোনো মতেই এই তিনটি খাবার একটির বেশী খাবেন না। খুব বেশী হলে দুটি করে। প্রতিটি বেগুনি ও পেঁয়াজি জাতীয় খাবারে  পরিমাণ ৫০ থেকে ৭০ ক্যালোরি থাকে। কাবাবে  ৮০ থেকে ৮৫ ক্যালোরী।  যদি মেনুতে  সিঙ্গারা থাকে, একটি  খান। কারণ একটি সিঙ্গারা মানে ১৪০ ক্যালরি। সিঙ্গারা বেশি খেলে পেঁয়াজি,  বেগুনী,  কাবাব ভুলেও ছোঁবেন না।

৩.হালিম

ডাল আর মাংস মিশিয়ে তৈরী হয় হালিম।   প্রচুর ক্যালরি থাকে হালিমে। বাটি ভর্তি  হালিম নয়, আধবাটি  হালিম খান। ঘরেই  তৈরি করুন। দোকানের হালিমে প্রচুর তেল মশলা রোজাদারদের শরীর সহ্য নাও করতে পারে।

৪. ছোলা মুড়ি।
সবচেয়ে নিরাপদ খাবার।
হালিমের  বদলে  এক বাটি মুড়ি খান কাঁচাছোলা সহযোগে।  কিন্তু যদি হালিম খান তাহলে আধবাটি ছোলা মুড়ি খান। কারণ এক কাপ মুড়িতে থাকে ৭০ ক্যালরি।

৫. শরবত
ঠেসে চিনি দেওয়া শরবত না পান করে   ডাবের জল  পান করুন। শরবত খেতে খুব ইচ্ছা করলে সপ্তাহে দুদিন চিনি মেশানো শরবত বা বেল, মুসম্বি, তরমুজের শরবত খেতে পারেন।  তবে ভুলেও রাস্তার দোকানের বরফ দেওয়া  লাল,  নীল,  সবুজ , হলুদ পানীয় খাবে ননা।।

৬. এক  টুকরো শশা অবশ্যই  খাবেন।

৭. সব শেষে একটি আপেল বা একটি ছোট কলা বা  তিন চারটি লিচু বা হাফ কাপ বেদানা খাবেন। প্রত্যেকটি ৪০ ক্যালরির সমান।

রোজাকালীন ডিনারের আদর্শ মেনু ও পরিমাণ

১.  আধা কাপ ভাত বা একটি রুটি বা অর্ধেক পরোটা। অর্থাৎ এগুলির মধ্যে যে কোনও একটা খাবেন।
২. দুই পিস  মাংস বা দুই পিস মাছ । দুতিন পিস মাছ আর তিন চারপিস মাংস একসাথে  কোন মতেই খাবেন না।
৩. রাতের মেনুতে আধকাপ শাক রাখবেন। যে কোন শাক পেট পরিষ্কার রাখবে।
৪. শেষ পাতে অবশ্যই দুতিন চামচ ঘরে পাতা  টক দই খাবেন।

সেহেরির আদর্শ মেনু ও পরিমাণ

ভোর রাতের সেহেরিতে বেশিরভাগ রোজাদার খান না, বা বলা ভালো খেতে ইচ্ছা করে না। কেউ এক দুকাপ চা খেয়ে নেন।  কিন্তু এই কাজ ভুলেও করবে ননা।  স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর এই অভ্যাস। আপনি না হয়  সেহেরিতে কমই খাবেন। কিন্তু অবশ্যই খাবেন।
কী খাবেন ?

১ একটি রুটি বা আধকাপ ভাত
২ একপিস অল্প মসলাযুক্ত মুরগীর মাংস
৩ অল্প মসলাযুক্ত এক কাপ সবজি
৪ এক কাপ টক দই বা এক কাপ সরতোলা দুধ।

রমজানে অবশ্যই মনে রাখুন

*প্রচুর জল পান করবেন ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত।
*রোজার সময়ে ঝাল খাবার ছোঁবেন না।

*একটি ছোট প্যাকেটের আলুভাজাতে (ফ্রেন্চ ফ্রাই) ২৭০ ক্যালরির মতো থাকে।

* মার্জারিন খেতে পারেন মেয়নিজ বাদ দিয়ে। রেস্তোরাঁর ফ্রায়েড চিকেনের  প্রতিটি পিসে  প্রায় ২০০ ক্যালরি থাকে। শরীর বুঝে খাবেন।

*যদি পিৎজা খেতে ইচ্ছা করে তা হলে এক স্লাইসের বেশি খাবেন না। কারণ এক স্লাইসে প্রায় ৩০০ক্যালরি থাকে।

*গ্রিন টি পছন্দ থাকলে তো সোনায় সোহাগা। নাহলে লিকার চা খান চিনি ছাড়া।

*রমজান মাস শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই চা কফি খাওয়া একেবারে কমিয়ে দিলে ভালো। কারণ যাদের প্রচুর চা কফি খাওয়া অভ্যাস, তাঁরা রোজার সময় খেতে পারেন না বলে অস্বস্তি ও মাথাব্যথায় ভোগেন।

*ইফতারের পর রোজ  অন্তত মিনিট  কুড়ি হাঁটুন।
*সেহেরিতে খাওয়া শেষ করে মিনিট কুড়ি  হাঁটুন।

*সেহেরিতে খাওয়ার অন্তত একঘন্টা আগে উঠুন। নাহলে  শেষে উঠে গোগ্রাসে খেতে গিয়ে বেশী খেয়ে ফেলবেন।

একটু নিয়ম মেনে চলুন দেখুন রোজার মাসে শরীর সুস্থ থাকবে। সুস্থ থাকতেই হবে, কারণ রোজার শেষেই আসে খুশীর ঈদ। সুস্থ না থাকলে এতদিনের কষ্টটাই মাটি। তাই না ?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More