উদ্ধার কাজে পাঁচ কলাম সেনা মোতায়েন ইস্টার্ন কমান্ডের, রাজ্যের অনুরোধে বালিগঞ্জ, ডায়মন্ডহারবার, বেহালা, টালিগঞ্জ ও রাজারহাটে বাহিনী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারের থেকে আবেদন পেয়েই উমফানের উদ্ধার কাজে পাঁচ কলাম সেনা নামিয়ে দিল সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড।
    ইস্টার্ন কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের অনুরোধে কলকাতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার কাজে সাহায্য করতে তিন কলাম সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুই কলাম সেনা পাঠানো হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। রাস্তা ও গাছ পরিষ্কার করার সরঞ্জাম নিয়ে তারা বালিগঞ্জ, ডায়মন্ড হারবার, বেহালা, টালিগঞ্জ ও রাজারহাট নিউটাউনে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

    গত বুধবার উমফান ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল উপকূলবর্তী পশ্চিমবঙ্গে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল তাণ্ডবে দুই চব্বিশ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। একই ভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কলকাতা। রাজ্যের রাজধানী শহরে তার আড়াই দিন পরেও বহু এলাকায় রাস্তার উপর গাছ ও লাইট পোস্ট উপড়ে পড়ে রয়েছে, বিদ্যুৎ নেই। ফলে পানীয় জলের সরবরাহও নেই। এই অবস্থায় বিক্ষিপ্ত ভাবে কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন।

    এ হেন পরিস্থিতিতে অবশেষে শনিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে একটি টুইটে তা জানানো হয়েছে।
    সেই টুইটে বলা হয়, “রাজ্যে উমফানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে প্রশাসন। এই কাজে সাহায্যের জন্য সেনা তলব করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও রেল, বন্দর ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও সাহায্যের আবেদন করা হচ্ছে”। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে টুইট আরও জানানো হয়েছে, “বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজও চলছে। এই কাজে ডাবলুবিএসিডিসিএল ও সিইএসসিকে বলা হয়েছে যত বেশি সম্ভব কর্মী নিয়োগ করতে। লক ডাউনের মধ্যেও এই কাজ করতে হবে। পুলিশকেও তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের আবেদনের পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আরও ১০ টি দল পশ্চিমবঙ্গে রওনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২৬ টি দল মোতায়েন রয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যের ৬ জেলায় এবার ৩৬ টি দল মোতায়েন করা হবে।

    কলকাতা ও জেলা থেকে সাধারণ মানুষ মূলত দুটি সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করছে। এক, বিদ্যুতের সরবরাহ আড়াই দিন ধরে নেই। দুই, তার ফলে পানীয় জলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। কলকাতায় পুরসভার জল সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুতের অভাবে জল সরবরাহ হচ্ছে না। তা ছাড়া কোথাও জল থাকলেও পাম্প করে তোলা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারও বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহের উপরেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। পুরসভার তরফে ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে জলের পাউচ সরবরাহ করার চেষ্টাও চলছে।
    প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, কলকাতায় রাস্তায় রাস্তায় যে গাছ পড়ে রয়েছে তা সরানোর জন্য সেনাবাহিনীর সাহায্য সহায়ক হতে পারে। কারণ, গাছ সরানো যত দ্রুত হবে তত দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ মেরামত করা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More