বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ইস্টবেঙ্গল দিবসের মঞ্চে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলার ফুটবলে ঐক্যের ডাক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক সন্ধে সাতটা পঁয়ত্রিশ। ইস্টবেঙ্গল ইস্টবেঙ্গল গর্জনে কেঁপে উঠল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। আর দেখা গেল দর্শক আসনের মাঝখান দিয়ে হেঁটে আসছেন মোহনবাগানের ফুটবল সচিব তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বিরাট উঁচু সিলিং থেকে ঝুলছে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসি’র বিরাট ব্যানার। যাতে লেখা ‘নো আই, ওনলি উই’। এই ছবিটাতেই পরিষ্কার হয়ে গেল আইএসএল নিয়ে বাংলার ফুটবলের অটুট ঐক্য।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্তেও এ দিন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ভরিয়ে দিয়েছিলেন লালহলুদ সমর্থকরা। সকালে ক্লাব তাঁবুতে পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হয় ক্লাবের ৯৯ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। বিকেলে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মূল অনুষ্ঠানে বসল তারকার মেলা। বৃদ্ধ সুকুমার সমাজপতি থেকে সেদিন খেলা শেষ করা সন্দীপ নন্দী, সৌমিক দে, দীপঙ্কর রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন তাঁদের প্রিয় ক্লাবের অনুষ্ঠানে। এ দিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জয়ন্ত চক্রবর্তী। আর অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঙ্গীত পরিবেশন করেন মনোময় ভট্টাচার্য।

নিজের বক্তৃতায় ক্লাব সভাপতি প্রণব দাশগুপ্ত ঘোষণা করলেন, “এ বার আইএসএল আমাদের”। উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন স্পনসর কোয়েস গ্রুপের শীর্ষ কর্তা সুব্রত নাগ। তিনি বলেন, “আমরা ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে অনেক চিন্তা করেছি। তারপর ভেবেছি যে ক্লাবের চার কোটি সমর্থক সেই ক্লাব আমাদের নিরাশ করবে না। গত একমাসে যত মেল আমি পেয়েছি, দেশ বিদেশ থেকে যে ভাবে ইস্টবেঙ্গলের উন্নতির জন্য সমর্থকরা পরামরর্শ দিচ্ছেন তাতে আমি বুঝেছি আমরা কোনও ভুল করিনি।“

এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং গৌতম দেব। তাঁরাও এ দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ঠিক বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসাতে যেমন বাংলার ফুটবলে ঐক্যের সুর বেজে উঠল এ দিনের অনুষ্ঠানে ঠিক তেমনই রাজনীতির দূরত্বও ঘুচে গেল এ দিন। কারণ অরূপ বিশ্বাস আর গৌতম দেবের ঠিক পাশের চেয়ারেই বসে ছিলেন প্রাক্তন বাম সরকারের মন্ত্রী তথা আপাদমস্তক লালহলুদ সমর্থক ক্ষিতি গোস্বামী।

ইস্টবেঙ্গল দিবসের মঞ্চে ভারত গৌরব সম্মানে সম্মানিত করা হয় বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ গুরবক্স সিংকে। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। তাঁর হয়ে সম্মান গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে পবনদীপ সিং। জীবনকৃতী সম্মান দেওয়া হয় প্রাক্তন ফুটবলার লাল্টু ভট্টাচার্য এবং সুরজিৎ সেনগুপ্তকে। বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মান পান আল আমনা। এ ছাড়াও সম্মান জানানো হয় প্রাক্তন রেফারি শান্তি গুপ্ত, জগদীশ পাল, সাংবাদিক রাতুল ঘোষ এবং মানস চক্রবর্তীকে। পরিচিত হন ইস্টবেঙ্গলের এই মরশুমের খেলোয়াড়রাও। সঙ্গে টিডি সুভাষ ভৌমিক, কোচ বাস্তব রায় এবং সহকারী কোচ রঞ্জন চৌধুরী। শুক্রবারই টালিগঞ্জের বিরুদ্ধে নিজেদের মাঠে প্রথমবার নৈশালোকে ঘরোয়া লিগ অভিযান শুরু করবে ইস্টবেঙ্গল।

 

Leave A Reply