সৌরভের হাত ধরেই বাজিমাত লাল হলুদের, দাদা বললেন পথ দেখিয়েছি মাত্র

ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলের খেলার বিষয়টির সঙ্গে মহারাজের নাম জড়িয়ে যাবে ভাবা যায়নি। তিনি অবশ্য এদিন ওই বিষয়ে কোনও মন্তব্যে যেতে চাননি। শুধু বলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল বড় ক্লাব, তারা আইএসএল খেলতই। আমি শুধু ওদের দিকনির্দেশ করেছি।’’

৩০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগান-এটিকে সংযুক্তিকরণের জন্য তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন। পর্দার আড়ালে থেকে সৌরভ গাঙ্গুলি মোহনবাগানের ইনভেস্টর নিয়ে কার্যকরি ভূমিকা নিয়েছিলেন। এবারও নিলেন, তবে সবুজ মেরুনের চিরপ্রতিপক্ষ ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। লাল হলুদ শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, সৌরভই মূলত আম্বানি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএলে খেলার বিষয়টি পাকা করেছেন। কারণ আইএসএলে খেলার সময়সামী অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। লাল হলুদ কর্তারা বসেছিলেন ভাল একটি ইনভেস্টর পাওয়া নিয়ে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে নামী সংস্থার সঙ্গে কথা বলে ভেস্তে যায়। তারারা ইস্টবেঙ্গলের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন। কিন্তু কর্তারা সেটি রাজি নন। কারণ কোয়েসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার মূলে ছিল ওই হস্তক্ষেপ। এমনকি ইস্টবেঙ্গল যাতে ভাল কোনও স্পনসর বা ইনভেস্টর না পায়, তার জন্য কোয়েস কর্তৃপক্ষ লাল হলুদ কর্তাদের নো অবজেকশন দেয়নি। সেটি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতেই তিনি উদ্যোগী হন, এবং বিষয়টি দেখতে বলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে।

আরও পড়ুন

করোনার যম লড়াকু টি-কোষ পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার দুই ভারতীয় ডাক্তারের, সায় দিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক

সবটাই ঠিক ছিল, কিন্তু ইনভেস্টর পাওয়ার পরে আদৌ আইএসএলে খেলতে পারবে কিনা ইস্টবেঙ্গল। সেটি নিয়ে একটা দোটানা ছিল। কারণ এফএসডিএল সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে লাল হলুদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। তারা শুরু থেকে বলে এসেছিল ১৫ কোটি টাকা না দিলে তাদের নাম নথিভুক্ত করা যাবে না। কিন্তু ওই অর্থ ক্লাব দিতে চায়নি। এই নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এরমধ্যেই আসরে নামেন সৌরভ। তিনি মোহনবাগান ক্লাবের বোর্ড অব ডাইরেক্টরে রয়েছেন। কারণ তিনি যেহেতু এটিকে-র অংশীদার। আবার সবুজ মেরুন কর্তারাও চেয়েছিলেন সৌরভ তাদের সঙ্গে থাকুন। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলের খেলার বিষয়টির সঙ্গে মহারাজের নাম জড়িয়ে যাবে ভাবা যায়নি। তিনি অবশ্য এদিন ওই বিষয়ে কোনও মন্তব্যে যেতে চাননি। শুধু বলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল বড় ক্লাব, তারা আইএসএল খেলতই। আমি শুধু ওদের দিকনির্দেশ করেছি।’’

এমনকি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সরাসরি যোগাযোগ করে সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে আম্বানি পরিবারের ভাল সম্পর্ক, বিশেষ করে নীতা আম্বানির সঙ্গে সৌরভই প্রথম ইস্টবেঙ্গলের হয়ে কথা বলেন। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে নামী শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকেও জানানো হয় বিষয়টি। বুধবার এই বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইস্টবেঙ্গলের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ‘‘এই প্রক্রিয়া বহুদিন ধরেই চলছে।

মোহনবাগান-এটিকে সংযুক্তিকরণের পরেই ইস্টবেঙ্গল নিয়ে ভাবনা শুরু হয়।’’ সম্প্রতি আইএসএলের আয়োজক সংস্থা এফএসডিএল (ফুটবল স্পোর্টস ডেভলপমেন্ট লিমিটেড) জানিয়েছিল, এবারের টুর্নামেন্ট হবে দশ দলের। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু লাল হলুদ কর্তারা এ বিষয়ে দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাঁরা জানান, এবছর তাদের শতবর্ষ উদযাপন বর্ষ চলছে, এরকম পরিস্থিতিতে যদি আইএসএলে না খেলতে পারি, তা হলে সমর্থকদের কাছে অন্য বার্তা যাবে। সেই মতোই সৌরভকে অনুরোধ করা হয় যাতে তিনি এই বিষয়ে কথা বলেন আম্বানিদের সঙ্গে। মহারাজ কথা বলতেই খেলার সবুজ সংকেত বেরোয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More