স্টেট ব্যাঙ্কের নকল শাখা, কোনও গ্রাহককেই কিন্তু ঠকানো হয়নি, গ্রেফতার মালিক

এই জাল ব্যাঙ্ক চালানোর জন্য পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে এসবিআইয়ের এক প্রাক্তন কর্মীর ছেলেও রয়েছেন। তবে এটাই আশ্চর্যের বিষয় যে, এসবিআই‌ এর এই নকল শাখায় টাকা রেখে এখনও পর্যন্ত এক জনও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানতে পারেনি পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ব্যাঙ্ক খোলার সাধ ছিল। তাই খুলেও ফেলেছেন। হোক না নকল তবু ব্যাঙ্ক তো! সেটা আবার দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কের নামে। মাস তিনেক চলার পরে অবশ্য সেটা বন্ধ হয়ে গেল। তামিলনাড়ুর কুড্ডালোরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার জাল শাখা খোলেন এক ব্যক্তি। তিন মাস চলার পরে শনিবার তা জানাজানি হয়। আর তার পরেই তা বন্ধ করেছে পুলিশ।

    এই জাল ব্যাঙ্ক চালানোর জন্য পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে এসবিআইয়ের এক প্রাক্তন কর্মীর ছেলেও রয়েছেন। তবে এটাই আশ্চর্যের বিষয় যে, এসবিআই‌ এর এই নকল শাখায় টাকা রেখে এখনও পর্যন্ত এক জনও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানতে পারেনি পুলিশ।

    আরও পড়ুন

    চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন নয়, আদালতের দ্বারস্থ কেন্দ্র

    যে তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তারা হল কমল বাবু, এ কুমার ও এম মাণিকম। মাত্র ১৯ বছরের কমল বাবুর বাবা এসবিআই-এ কাজ করতেন। মাও ছিলেন ব্যাঙ্কের চাকুরে। দু’জনেই অবসর নিয়েছেন। বাবা, মা ব্যাঙ্কে কাজ করায় ছোট থেকেই ব্যাঙ্কে যাতায়াত ছিল কমল বাবুর। ব্যাঙ্কে গেলেই দেখে নিত, কী ভাবে কাজকর্ম হয়। মনে তৈরি হয় নিজস্ব ব্যাঙ্ক খোলার ইচ্ছা। সেই ইচ্ছার থেকেই কুড্ডালোরের পানরুটি এলাকায় খুলে ফেলে স্টেট ব্যাঙ্কের নকল শাখা। সেখানে কমল লকারের ব্যবস্থাও করে। ব্যাঙ্কের কাজকর্মের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার থেকে নকল নথিপত্র সবেরই ব্যবস্থা করে। কিন্তু পানরুটি এলাকায় তাঁদের ব্যাঙ্কের নকল শাখা চলছে জানতে পেরে এসবিআই কর্মীরা পুলিশে খবর দেন।

    পুলিশ এসে দেখে, আসল ব্যাঙ্কের মতোই সব কিছু। কাজকর্ম হুবহু নকল করে কমল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা দিব্যি বেআইনি কারবার চালাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ দেখে ব্যাঙ্ক বেআইনি হলেও এই জাল শাখায় টাকা রেখে কোনও গ্রাহক তাঁর টাকা খোওয়াননি। জেরায় কমল পুলিশকে জানিয়েছে, তার লোক ঠকানোর কোনও মতলব ছিল না, সে শুধু নিজে নিজে একটা ব্যাঙ্ক খুলতে চেয়েছিল।

    পুলিশ জানিয়েছে, কমলের বাবা মারা যাওয়ার পরে সে ব্যাঙ্কে তাঁর চাকরিটি পেতে আবেদন করে। কিন্তু তা নিয়ে দেরি হচ্ছিল। এরই মধ্যে সে একটি নকল শাখা খুলে চালাতে শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৭৩, ৪৬৯, ৪৮৪ এবং ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More