করোনাভাইরাসের প্রকোপে মিলিয়ে গেছে চিনের বায়ুদূষণ! আশ্চর্য ছবি দেখিয়ে চমকে দিল নাসা

এই তুমুল বিপর্যয়ের মধ্যেও একটি মাত্র আশার আলো দেখেছে নাসা। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের পরিবেশে দূষণের মাত্রা কমে গিয়েছে আশ্চর্যজনক ভাবে! আর তার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মারণ করোনাভাইরাস! তবে প্রত্যক্ষ ভাবে নয়, পরোক্ষ ভাবে। এমনটাই ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। চিনের দূষণের আগের ও পরের তুলনামূলক ছবি প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ভয়াল আক্রমণে গোটা দেশের অসংখ্য কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চলতি বছর চিনের বায়ুতে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা উল্লেখজনক ভাবে কমেছে।

গত বছরের শেষ দিকে এই মারণভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে চিনে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন হাজার। ধস নেমেছে অর্থনীতিতে, বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিধ্বস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে চিরচেনা ব্যস্ত শহরগুলো। চিন থেকে বাকি বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে মাত্র দু’মাসে।

এই তুমুল বিপর্যয়ের মধ্যেও একটি মাত্র আশার আলো দেখেছে নাসা। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস মূলত মোটর যানবাহন এবং শিল্প কারখানা থেকে নির্গত হয়। এই গ্যাস মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করে বায়ুমণ্ডলের। কিন্তু গত মাস থেকেই উহান শহরে এই গ্যাসের পরিমাণ উল্লেখজনক ভাবে কমতে দেখা যায়। এর পরে ধীরে ধীরে পুরো দেশে একই চিত্র উঠে আসে।

২০১৯ সালের প্রথম দু’মাসের চিত্রের সাথে চলতি বছরের প্রথম দু’মাসের স্যাটেলাইট চিত্র তুলনা করেছে নাসা। তাতে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে, উল্লেখজনক ভাবে কমেছে বায়ুদূষণের মাত্রা। দূষণ কমে আসার এই চিত্রের সঙ্গে চিনে পরিবহণ চলাচল ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টির সাথে মিলে যাচ্ছে। 

china

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বাতাসের মান নিয়ে কাজ করেন বিজ্ঞানী ফেই লিউ। তিনি বলেন, “এই প্রথম আমি দেখছি যে, কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতটা বিশাল এলাকা জুড়ে দূষণ এমন নাটকীয় ভাবে কমে গেছে।” তিনি আরও জানান, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও তিনি নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড কমে যাওয়ার চিত্র দেখেছিলেন। কিন্তু সেটি আরও অনেক ধীর গতিতে হয়েছিল। সেই কমার মাত্রাও কম ছিল। এবার যেন ম্যাজিকের মতো সাফ হয়ে গেছে চিনের দূষণ।

নাসার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে চিনের নিউ ইয়ারের সময়ে অর্থাৎ জানুয়ারির শেষ এবং ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায় প্রতি বছর। এত মানুষের ভিড় বাড়ে, গাড়ি বাড়ে, উৎপাদন বাড়ে, তাই দূষণ বাড়াও স্বাভাবিক। কিন্তু এইবারে পুরো উলটপুরাণ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More