মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

প্রস্টেট বৃদ্ধির সমস্যা নিয়ে সময় নষ্ট করবেন না

চিকিৎসা খুবই সহজ।  কিন্তু রোগটি পুষে রাখলে ভবিষ্যতে বিপদ বাড়াবে।  বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট ডাঃ অমিত ঘোষ সমাধানের নানা পথ বাতলে দিলেন।

প্রশ্নঃ প্রস্টেট সমস্যায় ভুগছেন এটা ইদানিং প্রায়ই মানুষের মুখে শুনতে পাই।  এটা আসলে ঠিক কী বলুন তো?

উত্তরঃ  সুপুরির আকারের প্রস্টেট গ্রন্থি শুধু মাত্র পুরুষের শরীরেই থাকে।  অধিকাংশ পুরুষই গ্রন্থিটির বিষয়ে খুবই কম জানেন।  অনেকেই একে অন্ডকোষের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন।  যদিও প্রস্টেট আদতে কোনও যৌনাঙ্গ নয়।  শুনলে অবাক হবেন গবেষক ও বিজ্ঞানীরাও এই গ্রন্থিটিকে আজও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেন নি।  অবস্থানগত কারণে এই গ্রন্থিটি দেখা যায় না, হাত দিয়ে অনুভবও করা যায় না।  একমাত্র চিকিৎসকরাই ডিজিটাল রেষ্টাল পরীক্ষার (DRE) সাহায্যে অনুভব করতে পারেন।  আসলে প্রস্টেট হয় না, তা শরীরে বৃদ্ধি পায়।  গ্রন্থিটিকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিটি পুরুষ জন্মগ্রহণ করে।  আসলে বংশরক্ষার সহায়ক উপাদান পুরুষের বীর্য প্রস্তুতিতে এই গ্রন্থির বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রশ্নঃ কিন্তু এটা নিয়ে এত সমস্যা হয় কেন?

উত্তরঃ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুরুষের প্রস্টেট গ্রন্থিটি আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে।  দেখা গেছে ষাটের উপরে পঞ্চাশ শতাংশ এবং আশির উপরে ষাট শতাংশ পুরুষের বর্ধিত প্রস্টেট থাকে।  ক্রমবর্ধমান প্রস্টেট গ্রন্থিটি দীর্ঘদিন ধরে মূত্রনালির ওপরে চাপ দিতে থাকলে একটি পশ্চাৎ-মুখী চাপের সৃষ্টি হয়, যা প্রস্রাবে অসুবিধা সৃষ্টি করে।

প্রশ্নঃ তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে, প্রস্টেট নিয়ে অত সমস্যা নয়, সমস্যা হল তার বৃদ্ধি নিয়ে।  তাই তো?

উত্তরঃ ঠিক তাই।  সমস্যাটা প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি ও তার চাপে মূত্রনালি সংকুচিত হয়ে গিয়ে প্রস্রাবের যাতায়াতে সমস্যা বাড়ায়।  প্রস্টেটের আয়তন বৃদ্ধির কারণে তা ৯ গ্রাম থেকে ৯০, বা ৯০০ গ্রাম হলে প্রস্রাবের যাতায়াতের পথ সরু হয়ে যায় , তার আগে অবধি তা নিয়ে ভেবে ভয় পাওয়ার কোনও মানে হয় না।  ভাবতে হবে তখনই, যখন তা প্রস্রাবের যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।  যাতায়াতের পথ আটকে গেলে প্রস্রাবের বেগ জমে যায়,প্রস্রাবও ধীরে ধীরে হয়।  অনেক সময় প্রথমদিকে প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যার সূত্রপাত হবার পরেও সেই ব্যক্তি সমস্যাটিকে ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন না।  সে ক্ষেত্রে অনেকটা সমস্যা তৈরি হওয়ার পর উপসর্গ শুরু হয়।  এমনও হতে পারে যে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার টয়লেটে যেতে হচ্ছে, কারণ কোনওবারই মূত্রনালি পুরোপুরি খালি হচ্ছে না।  এই বাধা দূর করতে মূত্রনালিকে বাড়তি কাজ করতে হয় বলে মূত্রনালির দেওয়াল স্থূলকায় ও কম প্রসারণশীল হয়ে পড়ে।

প্রশ্নঃ কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝবে কী করে? উপসর্গ তো নিশ্চয়ই কিছু আছে।

উত্তরঃ হ্যাঁ আছে।  যেহেতু প্রস্টেট বৃদ্ধি, খুব ধীরে হয় তাই প্রথম থেকে কিছু কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।  গ্রন্থিটি যথেষ্ট বড় হয়ে মূত্রনালির ওপরে চাপ সৃষ্টি করলে অনেকগুলি উপসর্গ ফুটে ওঠে।  প্রথমত, প্রস্রাব নির্গমের বেগ দুর্বল হয়ে পড়ে।  অথবা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সরু ধারায় প্রস্রাব হতে থাকে।  এই অবস্থাটি সংশয় বা দ্বিধাগ্রস্ততা (Hesitancy) নামেই পরিচিত।  দ্বিতীয়ত, প্রচন্ড বেগ আসার পরেও টয়লেটে গিয়ে প্রস্রাব শুরু হতে দেরি হয়।  তৃতীয়ত, প্রস্রাবের কোনও সামঞ্জস্য থাকে না।  কিছুটা হয়, বন্ধ হয়, আবারও হয় এবং শেষে ফোঁটায় ফোঁটায় হয়।  চতুর্থত, রাতে বারবার প্রস্রাব হয়।  ঘুমের চেয়ে বাথরুমেই বেশি ছুটতে হয়।  দিনের বেলাতেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব হয়।  পঞ্চমত, প্রস্রাব করতে দীর্ঘ সময় লাগে।  আগে যেখানে সময় লাগত দেড় থেকে দু-মিনিট, প্রস্টেট বেড়ে গেলে সময়টা দ্বিগুণ বা তিন গুণ বেড়ে যায়।  এ ছাড়াও আরও বড় দুটি উপসর্গ রয়েছে।  প্রস্রাব যেন চেপে রাখা যায় না।  ছুটতে হয়।  আবার কারও কারও প্রস্রাব করার সময় প্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, ফের শুরু হয়।  প্রস্টেট খুব বেশি মাত্রায় বাধা দান করলে প্রস্রাব করাই খুব কঠিন হয়ে পড়ে।  অথচ মূত্রনালির পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।  সেটা বেশ জটিল সমস্যা।  সে ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।  প্রয়োজনে প্রস্টেট সার্জারির মাধ্যমে এই বাধাকে অপসারিত করা হয়।

প্রশ্নঃ প্রস্টেট সমস্যা কি জীবনযাত্রাতেও প্রভাব ফেলে? ফেললে তা কী ভাবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষটিকে যথেষ্ট বিব্রত করে।  যেমন জল খাওয়া কমে যায়, ঘুম কমে যায়, সামাজিক অনুষ্ঠান যাওয়ার অনীহা, ক্যানসার সংক্রান্ত উদ্বেগের সূত্রপাত ঘটায়।

প্রশ্নঃ গরমে নাকি প্রস্টেট সমস্যা বাড়ে?

উত্তরঃ এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ বিব্রত হওয়া এড়াতে খুব কম জল খান।  এতটাই কম খান, যে একসময়ে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।  প্রস্রাবের পরিমাণ কম হতে থাকে।  তাই এই সমস্যা আরও বেশি ভোগায় সেই মানুষটিকে। কারও জল কম খাওয়ার কারণে প্রস্রাবে জ্বালা ভাব আসে।  সংক্রমণও ঘটতে পারে।  এ ছাড়াও হিমাচুরিয়ার (প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া) ঝুঁকি থেকে যায়।  তাই গরমে বেশি জল খাওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ তা হলে এমন ঘটলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিশ্চয়ই খুব জরুরি তো?

উত্তরঃ প্রস্টেট বড় হলে সবাইকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এমন কোনও ব্যাপার নেই।  প্রস্টেট বড় হওয়ার জন্য যদি প্রস্রাবের অসুবিধে হয় এবং প্রস্টেট বড় হওয়ার পিছনে যদি ক্যানসারের ভূমিকা থাকে, সেই সব ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ খুবই জরুরি।  যদি কোনও হেলথ্‌ চেক-আপ বা আলট্রাসোনোগ্রাফি বা অন্য কোনও পরীক্ষা করতে গিয়ে হঠাৎ প্রস্টেটের বৃদ্ধি নজরে আসে, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।  দেখতে হবে ওই বৃদ্ধি কোনওরকম অসুবিধে সৃষ্টি করছে কিনা।  খুব স্পষ্ট করে বলা যায়, প্রস্টেটের শুধু বড় হয়ে যাওয়াটা চিকিৎসার বিষয় হতে পারে না।

প্রশ্নঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের তো অনেক উন্নতি হয়েছে।  এসব বুঝতে বা মাপতে নাকি খুব সহজ-সরল যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া যায়?

উত্তরঃ শরীর থেকে নির্গত প্রস্রাবের আয়তন, প্রস্রাবের নির্গমন -গতিবেগ এবং সময়কাল একটি যন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়। যন্ত্রটিকে ইউরোফ্লোমিটার বলে।  এটি অতি সাধারণ যন্ত্র।  প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ পথে কোনও রকম বাধা রয়েছে কিনা, তা বুঝতে এই যন্ত্রটির সাহায্য নেওয়া হয়।  সব তথ্যও পাওয়া যায়।  যাকে ইউরোফ্লোমেট্রি বলে।  এটি সহজ ও দ্রুত অনুসন্ধান পদ্ধতি যা ইউরিনারি ট্র্যাক্টের নিম্নাংশের অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।  তবে দেখা গেছে পুরুষদের মধ্যে বিনাইন প্রস্টেট হাইপার প্লাসিয়ার বা বি পি এইচ –এর কারণে প্রস্রাব বেরোবার সমস্যা হয় সবচেয়ে বেশি।

প্রশ্নঃ এই বি পি এইচ সমস্যা বেশ জটিল শুনেছি, একটু খুলে বলুন তার প্রতিকার ও চিকিৎসা নিয়ে।

উত্তরঃ চিকিৎসক প্রাথমিক ভাবে রোগীর উপসর্গের ইতিহাস এবং অনেক সময়ে ইউরোফ্লোমেট্রির রিপোর্ট দেখে নিয়ে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করেন।  অনেক সময় রক্ত পরীক্ষারও প্রয়োজন হয়।  পরীক্ষাগুলির মধ্যে কিডনির কার্যকারিতা বিচার করতে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা ও প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন বা পি এস এ -পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনের মূত্র প্রাবাহের মাত্রা পরীক্ষা করতে রোগীকে একটি বিশেষ যন্ত্রের (Uroflow Machine) মধ্যে প্রস্রাব করতে বলা হয়, পরীক্ষাটি খুবই সহজ।

প্রশ্নঃ চিকিৎসার অন্য দিকটাও বলুন।

উত্তরঃ আমাদের দেশে প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি সংক্রান্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘ট্রন্সিউরেথ্রাল রিসেকশন অব দ্য প্রস্টেট’ বা সংক্ষেপে টি ইউ আর পি– অপারেশনকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ ধরা হয়।  পশ্চিমবাংলায় প্রস্টেট গ্রন্থির টি হউ আর পি অস্ত্রোপচারটিকে অনেকেই বলেন প্রস্টেটের মাইক্রোসার্জারি।  প্রসঙ্গত বলা ভাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে আমেরিকায় ইউরোলজিস্টরা বিশ্বে প্রথম টি হউ আর পি অপারেশন শুরু করেছিলেন।  বর্তমানে অবশ্য গোটা বিশ্বের অধিকাংশ প্রস্টেট গ্রন্থির অপারেশন এই পদ্ধতির সাহায্যেই করা হচ্ছে।

প্রশ্নঃ টিই হউ আর পি-র পরবর্তী কি কোনও উপসর্গ আছে?

উত্তরঃ অস্ত্রোপচারের পরে কিছু মানুষ আপৎকালীন মূত্রত্যাগের জরুরি প্রয়োজনীয়তা, মূত্র নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্রাব করার সময় জ্বালাধরা অনুভূতি বা অস্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারে অভিযোগ করে থাকেন।  এটা অবশ্য কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলে যায়।

(১) কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।  ক্রমশ তা স্বচ্ছ হয়ে আসে।

(২) রক্তপাত যদি দীর্ঘদিন ধরে হয়, তবে বেশি করে জল খেতে বলা হয়।  তাতেও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হতে পারে।

(৩) অস্ত্রোপচারের পরে অনেকের মধ্যে রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন এর সমস্যা হয়।  এই সমস্যা যৌন উত্তেজনার চরম মুহূর্তে লিঙ্গ পথে বীর্য নির্গত না হয়ে মূত্রথলিতে চলে যায়।  পরবর্তীতে প্রস্রাবের সঙ্গে এই বীর্য বাইরে বেরিয়ে আসে।  তবে এতে ভয়ের কিছু নেই।

(৪) প্রতি ১০ জনে ৩ জন মোটামুটি এক বছর ধরে যৌন কার্যকারিতায় অসুবিধা বা মিলনে সমস্যা বোধ করেন। অনেকের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা অবশ্য অস্ত্রোপচারের দু’এক মাসের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ তা হলে টি হউ আর পি-তে তো বিশেষ কোনও জটিলতা নেই।?

উত্তরঃ আশি থেকে নব্বই শতাংশ রোগী এই পদ্ধতিতে উপকৃত হয়ে থাকেন।  কখনও কখনও অস্ত্রোপচারের পরেও ফের প্রস্টেটের আয়তন বৃদ্ধি এবং একই উপসর্গের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।  এই কারণে মোটামুটি দশ শতাংশ লোকের পাঁচ বছরের মধ্যে আবারও অপারেশনের দরকার হয়।  অনেকের ক্ষেত্রে মূত্রনালি নিজে নিজেই সংক্রমিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে।  ঠিক ভাবে অস্ত্রোপচার না হলে মূত্রনালির ক্ষতি হয়ে মূত্র নিয়ন্ত্রণে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।  মূত্রনালিতে ক্ষত হলে মূত্রনালি সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।

প্রশ্নঃ শুধুমাত্র ওষুধেই এর চিকিৎসা কি সম্ভব?

উত্তরঃ প্রস্টেট স্ফীত সংক্রান্ত চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য প্রস্টেটের আয়তন ও মূত্রনালির ওপরে প্রস্টেটের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাব কমানো।  এই কাজটি শুধু ওষুধ প্রয়োগ করেও করা যেতে পারে।  তবে মনে রাখতে হবে, সব প্রস্টেট স্ফীতির জন্য ওষুধ আদর্শ নয়।  তাছাড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে এবং ওষুধে চিরস্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে।  অপেক্ষাকৃত কম (স্ফীত) প্রস্টেট গ্রন্থি, অবসর প্রাপ্ত নন অথচ কর্মক্ষম কোনও পুরুষ দিয়ে চিকিৎসা করার জন্য আদর্শ।  মনে রাখতে হবে, অস্ত্রোপচার অথবা দুর্বল স্বাস্থ্যের বিকল্প নয় ওষুধ।  যেমন হার্ট অ্যাটাক্‌ হয়ে গেছে যাঁর, তাঁর ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করাটা যুক্তিসঙ্গত, এমনটা কিন্তু নয়।  বরং সেক্ষেত্রে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তচাপ কমে গিয়ে মানুষটির সমস্যা হতে পারে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিপ্লবকুমার ঘোষ।

Comments are closed.