শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

হোয়াটসঅ্যাপের ‘অপব্যবহার’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে সতর্ক করল ফেসবুক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে সাধারণ নির্বাচনের আগে ফেসবুক কোম্পানির জনপ্রিয় মেসেজিং সার্ভিস হোয়াটস অ্যাপের যেন অপব্যবহার না হয়। এই বলে কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করলেন ফেসবুক কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ অফিসার। ঠিক কোন কোন দলকে সতর্ক করা হয়েছে বা তারা কীভাবে হোয়াটস অ্যাপের অপব্যবহার করেছিল, তা অবশ্য জানানো হয়নি। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হতে পারে। সেই আশঙ্কা যাতে সত্যি না হয়, সেজন্য আগেভাগে সতর্ক হয়েছে হোয়াটস অ্যাপ।

এর আগে একাধিক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার করেছে। উভয় দলই পরস্পরের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগ করেছে। হোয়াটস অ্যাপের কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান কার্ল উগ বলেন, আমরা দেখেছি, একাধিক দল হোয়াটস অ্যাপকে এমনভাবে ব্যবহার করছে যা করা উচিত নয়। আমরা তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা পাঠাতে চাই। যারা হোয়াটস অ্যাপকে ওইভাবে ব্যবহার করবে, তাদের আর পরিষেবা দেওয়া হবে না।

আগামী মে মাসে ভারতে লোকসভা নির্বাচন হবে। এর আগে বিভিন্ন দেশের ভোটে হোয়াটস অ্যাপের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবরে ব্রাজিলে ভোটের আগেও নানা মহলে উদ্বেগ দেখা গিয়েছিল, হোয়াটস অ্যাপকে ব্যবহার করে ভুয়ো খবর ছড়ানো হতে পারে।

ভারতে ২০ কোটি মানুষ হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করেন। গত ডিসেম্বরে রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি ও কংগ্রেস, উভয় দলই এক বিদেশী সাংবাদিককে জানিয়েছিল, তাদের কয়েক ডজন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ আছে। উগ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি, হোয়াটস অ্যাপ কারও প্রচারের মাধ্যম নয়। তাঁর কথায়, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা চাই না ভোটের আগে হোয়াটস অ্যাপের অপব্যবহার হোক। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এমন সম্ভাবনা দেখা দিলে তা দ্রুত বন্ধ করা যায়।

বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালব্য জানান, তিনি হোয়াটস অ্যাপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু কী কথা হয়েছে তিনি বলেননি। কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের প্রধান দিব্যা স্পন্দনা বলেন, আমরা হোয়াটস অ্যাপের অপব্যবহার করি না।

গতবছর এদেশে অভিযোগ উঠেছিল, গণধোলাইয়ের আগে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। এরপরে হোয়াটস অ্যাপ থেকে মানুষকে সতর্ক করার চেষ্টা হয়। কোনও মেসেজ একবারে কতজনকে ফরওয়ার্ড করা যাবে, তারও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

Shares

Comments are closed.