বুধবার, নভেম্বর ১৩

নীচে ঘন অরণ্য, শূন্যে পা ফেললেই মুড়মুড়িয়ে ভাঙছে কাচ! দুঃসাহস ছাড়া এ ব্রিজে না ওঠাই ভাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের মনের ভিতরে বাস করে যে আর একটা মন, সে মনে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা চিরন্তন। রোজকার রোজগারের তাড়নায়, যাপনের একঘেয়েমিতে সে নেশা সুপ্ত থাকে প্রত্যেকের মনেই। সময়ে সময়ে হয়তো উঁকি দেয় পরিস্থিতিতে পড়লে। বেশির ভাগ মানুষই নিজের অজান্তেই অ্যাডভেঞ্চারকে লালন করেন নিজের ভিতরে।

তাঁদের জন্যই এক অভিনব ব্রিজ তৈরি করেছে চিন। যাঁরা হয়তো পাহাড়ে বা সাগরে দুরন্ত অভিযান করার সময় ও সুযোগ পান না। হয়তো সম্ভবও হয় না তাঁদের পক্ষে ততটা ‘দুঃসাহসিক’ হওয়া। কিন্তু এই ব্রিজটি দিয়ে কেবল হাঁটলেই তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হবে। শুধু তা-ই নয়, চিনের এই সেতু নির্মাতা সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, ব্রিজটি পার করার সময়ে ভয়ে, আতঙ্কে হাড় হিম হয়ে যাবে না– এমন মানুষ কমই আছে।

মনে করুন তো, মাটি থেকে অনেকটা উপরে একটা ঝুলন্ত কাচের ব্রিজ। সেটার ওপর দিয়ে আপনি হাঁটছেন, আর আপনার পায়ের চাপে ভেঙে ভেঙে পড়ছে ব্রিজটি! ভয়ে চেঁচিয়ে উঠবেনই আপনি!

চিনের জিয়াংশু প্রদেশের হুয়াশি অ্যাডভেঞ্চার পার্কের উপরে নির্মিত এই বিজ্রটি আগাগোড়াই স্বচ্ছ কাচ দিয়ে তৈরি। ৫১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই কাচের ব্রিজটি দু’দিকের দুই পাহাড়কে সংযুক্ত করে তারের সাহায্যে বানানো হয়েছে। তার ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে, অনেক নীচে দেখা যাবে গোটা জঙ্গল।

দেখুন ভিডিও।

অরণ্য-উপত্যকা থেকে ১০০ মিটার উঁচুতে, সাড়ে তিন সেন্টিমিটার পুরু ‘সুপার গ্লাস’ দিয়ে বানানো হয়েছে এই ব্রিজ। দাবি করা হয়েছে, এর কাচ এত শক্ত, সেখানে যত মানুষই উঠুক না কেন ভাঙার কোনও সম্ভাবনা নেই। সাড়ে চার টনেরও বেশি ওজন বইতে পারে এই ব্রিজ। ২৬০০ মানুষ একসঙ্গে উঠলেও সম্ভাবনা নেই ভেঙে পড়ার।

এক কথায় ব্রিজটি নিরাপদ। তবে, সেখানে ওঠার পরে নীচের দিকে তাকিয়ে আঁতকে ওঠে না এমন লোক কমই আছে। কারণ ব্রিজটিতে হাঁটার সময়ে এমন একটা এফেক্ট কাজ করবে, দেখে মনে হবে ভেঙে যাচ্ছে ব্রিজটি! অবধারিত ভাবে চেঁচিয়ে উঠবেন দর্শকরা।

নিজের সাহস প্রমাণ করতে চাইলে, আপনিও কাচের তৈরি এই ব্রিজে এক বার ঘুরে আসতে পারেন। তবে অ্যাডভেঞ্চার পার্কের তরফে জারি করা সতর্কতা মাথায় রাখতে ভুলবেন না: দুর্বল চিত্তের মানুষের চলাফেরার জন্য এই ব্রিজটি নয়।

Comments are closed.