মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

‘হোয়াইট ডিসচার্জ’ নিয়ে অযথা লুকোছাপা নয়, হতে পারে ক্যানসারের মতো মারণ রোগও

মহিলারা কই মাছের প্রাণ, এই বাণী শুনতে শুনতেই সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেন বহু মহিলাই।  তাই মানসিক হোক বা শারীরিক,কোনও সমস্যাকেই প্রথমে গুরুত্ব দেন না।  এটা মারাত্মক ক্ষতি হয় এক এক ক্ষেত্রে।  অনেক সময়ে ‘হোয়াইট ডিসচার্জ’ বা সাদা স্রাবের সমস্যার কথা মুখ ফুটে বলেনই না অনেকে।  কিন্তু এই সমস্যা বাড়তে থাকলে, এমন কি ক্যানসারের মতো মারণ রোগও হতে পারে।  এই সাদাস্রাবের ভালো-মন্দ নিয়েই ‘দ্য ওয়াল’ এবার মুখোমুখি হল বিশিষ্ট গায়নোকলজিস্ট ডঃ ইন্দ্রনীল দত্ত-র সাথে।  জানুন কী বলছেন ডাক্তারবাবু—

দ্য ওয়াল: সাদাস্রাব কী? কেন হয় এটা?

ডঃ দত্ত: ‘হোয়াইট ডিসচার্জ’ বা সাদা স্রাব যোনির কোষ এবং সার্ভিক্স থেকে নিঃসৃত তরল, যা মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়া বহন করে যোনি সুস্থ রাখে।  স্রাব পরিষ্কার জল বা সাদা দুধের মতো হতে পারে।

যোনির স্রাব মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে দেয় এবং সংক্রমণ থেকে যোনিকে রক্ষা করার জন্য অপরিহার্য।  এই কারণ গুলোতে স্রাব জলের মতো স্বচ্ছ হলেও , পিআইডি, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা ইস্ট সংক্রমণ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের কারণে হলে সেটা তুলনামূলকভাবে মোটা ঘনত্বের, বাজে গন্ধ যুক্ত হতে পারে।

দ্য ওয়াল: কোন বয়স থেকে শুরু হয়?

ডঃ দত্ত: সাধারণত মেন্স্ট্রুয়াল সাইকেলে শুরু হলেই এটাও শুরু হয়।

দ্য ওয়াল: সাদাস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে যোনির অবস্থা বিচার করা কি সম্ভব?

ডঃ দত্ত: হ্যাঁ।  স্রাব বেশি বা কম, গন্ধ ছাড়া বা খারাপ গন্ধের উপর নির্ভর করে।  কিংবা যদি জীবাণু থাকে , পরীক্ষার মাধ্যমে তা থেকে বলা যেতে পারে যে যোনি সুস্থ কিনা।

দ্য ওয়াল: একটি অসুস্থ এবং সুস্থ রোগীর স্রাবের  মধ্যে পার্থক্য কী?

ডঃ দত্ত: একটি সুস্থ রোগীর স্রাব হবে পরিষ্কার, জলের মত, গন্ধহীন এবং পরিমাণে সামান্য।  কেউ অসুস্থ থাকলে তাঁর স্রাব অত্যধিক বেশি পরিমাণে, বিশেষ গন্ধযুক্ত এবং পুরু দইয়ের মত হয়।

দ্য ওয়াল: কত বছর ধরে কোনও নারী এই সমস্যায় ভুগতে পারেন?

ডঃ দত্ত: এটি এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হতে পারে।  কোনও মহিলার সার্বিক স্বাস্থ্য এবং যৌন অভ্যাসের উপর নির্ভর করে, তিনি কত বছর ধরে এই সমস্যায় ভুগবেন।

আরও জানুন কী বলছেন ডাক্তারবাবু–

দ্য ওয়াল: এর নিরাময়ের কোনও ওষুধ আছে কী?

ডঃ দত্ত: হ্যাঁ, সংক্রমণের জন্য ওষুধ পাওয়া যায়।

দ্য ওয়াল: ওষুধ কাজ না করলে, কোনও অপারেশন করা যায় কি?

ডঃ দত্ত: সাদা স্রাবের জন্য অপারেশন করা হয় না।  কিন্তু যদি আমরা জরায়ুর মুখে ( যাকে বলে cervix ) কোনো বিচিত্র লক্ষণ পাই, যেটা ক্যান্সার যুক্ত হতে পারে, বা জরায়ু বা ডিম্বাণুতে সে রকম কিছু পাই, তা হলে অপারেশন করতে হতে পারে।  সাদা স্রাবের অস্বাভাবিকতা অনেক সময় রোগীরা অবহেলা করেন।  স্রাবের সঙ্গে যদি রক্ত বা গন্ধ থাকে , সেটা ডাক্তারকে দেখানো খুবই জরুরি।

দ্য ওয়াল: যৌন জীবন এই সাদা স্রাবের জন্য কতটা দায়ী?

ডঃ দত্ত: যৌন জীবন সম্ভবত সংক্রমণের উত্স এবং এর ফলে অতিরিক্ত স্রাব হতেই পারে।  তাই সুরক্ষিত যৌন জীবন এ ক্ষেত্রে ভীষণ জরুরি।

দ্য ওয়াল: যোনিতে কোন জেল বা মলম লাগানো সমস্যার সমাধান করতে পারে কি?
ডঃ দত্ত: না, সেভাবে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় না।  তাই হঠাৎ করে নিজে থেকে কোনও জেল বা ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো।

দ্য ওয়াল: এটি কি শরীরের একটি সহজাত নিঃসরণ, না কোনও রোগের ইঙ্গিত?
ডঃ দত্ত: সাদা স্রাব মাসিক-এর মাঝামাঝি বা তার আগে হতে পারে। কোনও কারণে যদি দই-এর মতো, বা হলুদ রঙের, বাদুর্গন্ধযুক্ত হয়, তাহলে ডাক্তারকে দেখাতে হবে।  নিয়ম অনুসারে PAP smear করা উচিত।  বয়স তিরিশ পেরোলেই প্রতি ৩ বছর অন্তর ডাক্তার দেখানো খুবই জরুরি।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়

Comments are closed.