‘বসে বসে অভিযোগ কোরো না, নিজে কিছু করো’: মায়ের এই শিক্ষাই অনুপ্রেরণা কমলা হ্যারিসের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমের পাত্রী তিনি আগেই ছিলেন। তাঁর সাফল্য বহু আলোচিত। কিন্তু গত দু’দিনে যেন প্রচারের সবটুকু আলো এসে পড়েছে তাঁরই মুখে। সে উজ্জ্বল আলোয় বড় লড়াইয়ের মঞ্চে জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তিনি কমলা হ্যারিস, মার্কিন মুলুকের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণী। কঠিন পথ পার করে, বড় লড়াইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আঝ তিনি জানাচ্ছেন, এ সবের অনুপ্রেরণা তাঁর মা, শ্যামলা গোপালন। মা সবসময় বলে এসেছেন, ‘সমস্যা নিয়ে বসে বসে অভিযোগ কোরো না। নিজে কিছু করো সমস্যার সমাধানে।’ মায়ের শেখানো এই আপ্তবাক্যই কমলাকে উদ্বুদ্ধ করেছে ‘কিছু করতে’, জানালেন নেত্রী।

সদ্য নিজের ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষ্ণাঙ্গ সেনেটর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৫৫ বছরের কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বিডেন। এর আগে এই পদে কখনওই কোনও কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা প্রার্থী হননি। ফলে কমলা হ্যারিসের রাজনৈতিক জীবনে একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকল তাঁর নাম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হওয়ায়। কারণ, তিনি যদি এবারের নির্বাচনে জেতেন, তাহলে ২০২৪ ও ২০২৮ সালে তিনি এমনই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হবেন।

Joe Biden selects Indian-origin senator Kamala Harris as running mate

নাম ঘোষণার পরে কমলা হ্যারিস বিডেনের সঙ্গে প্রথম আত্মপ্রকাশ করলেন ওয়াশিংটনের ডেলাওয়্যারে। সেখানে বক্তৃতা রাখার সময়ে নিজের মায়ের কথা বলেন তিনি। “আমার মা, শ্যামলা, আমায় এবং আমার বোন মায়াকে বড় করার সময়ে শিখিয়েছেন, এগিয়ে যেতে হবে, কিছু করতে হবে। যেটুকু পেয়েছি সেটুকু কাজে লাগাতে হবে। বলতেন, শুধু বসে বসে অভিযোগ করলে হবে না। নিজে কিছু করো।”– বলেন কমলা হ্যারিস। তিনি জানান, তাঁর মা এবং বাবা পৃথিবীর দুটি বিপরীত প্রান্তের বাসিন্দা ছিলেন, তাঁরা বিশ্বমানের শিক্ষার জন্য আমেরিকায় এসেছিলেন।

কমলা হ্যারিসের বাবা জামাইকার বাসিন্দা। তাঁর মা ভারতীয়। ছোটবেলায় আমেরিকাতে চলে আসেন তাঁরা। মা শ্যামলা তামিলনাড়ুর ভূমিকন্যা, ১৯৬০ সালে ডক্টরেট করতে এসেছিলেন ক্যালিফর্নিয়া। তিনি ক্যানসারের চিকিৎসক ছিলেন। বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস ১৯৬১ সালে জামাইকা থেকে এসে স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইকোনমিক্স প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

সমর্থকদের কাছে ‘মহিলা বারাক ওবামা’ বলে পরিচিত কমলা হ্যারিস। তিনি ছোটবেলায় যেমন হিন্দুদের মন্দিরে যেতেন, তেমনি আবার কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপটিস্ট চার্চেও যেতেন। তাঁর নাম ‘কমলা’ এসেছে পদ্মফুলের সংস্কৃত শব্দ কমল থেকে। কমলার সাত বছর বয়সে তাঁর বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এর পর থেকে মায়ের কাছেই বড় হন হ্যারিস ও তাঁর বোন।

How Kamala Harris' immigrant parents shaped her life — and her ...

কমলা বলেন, “আমার মা ও বাবার হয়তো দেখাই হতো না, যদি তাঁরা সিভিল রাইটস আন্দোলনে যোগ না দিতেন ওকল্যান্ডে। একসঙ্গে পা না মেলাতেন মিছিলে, গলা না তুলতেন বিচার চেয়ে। তাঁদের সেই লড়াই আজও চলছে। আমি সেটারই একটা অংশমাত্র। আমার বাবা-মা আমায় প্রতিবাদের পথ চিনিয়েছেন, এগিয়ে যেতে শিখিয়েছেন। সেই কারণেই আমি আজ এখানে। রাজনৈতিক কেরিয়ার বেছে নিয়েছি মানুষের সাম্যের জন্য লড়ব বলে।”

কমলা হ্যারিসই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা যিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মহিলা যিনি আমেরিকার সেনেটর হিসেবেও নির্বাচিত হন। বুধবার ডেলাওয়্যার থেকে নিজেদের যৌথ প্রচার শুরু করেছেন জো বিডেন ও কমলা হ্যারিস।

Kamala Harris was one of Joe Biden's biggest opponents on the ...

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এটাই প্রথম টক্কর নয় কমলার। গত বছর ডিসেম্বরেই জানা গেছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করবেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর কমলা হ্যারিস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত যে জামাইকান তরুণী প্রচারের শুরুতেই আন্দোলিত করে দিয়েছিলেন মার্কিন রাজনীতির পরিসর, যাঁকে ‘মহিলা বারাক ওবামা’ বলে পর্যন্ত আখ্যা দিতে শুরু করেছিলেন অনেকে।

কিন্তু প্রচারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তিনি পিছিয়ে আসেন সেইবার। তাঁর কথায়, “আমি কোটিপতি নই। ভোটের প্রচারে প্রচুর অর্থ খরচের সামর্থ্যও আমার নেই। সে কারণেই প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে দেব না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমার লড়াই চলবে।” তাঁর এই টুইটের পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা তোমার অভাব বোধ করব”। ওমনি পাল্টা টুইট করে কমলা লেখেন, “আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না প্রেসিডেন্ট। আপনার বিচারে আমি থাকব!”

তিনি থাকলেন। এবার সম্মুখ সমর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More