শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

আর এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ পরাজিত হবে আইসিস, দাবি ট্রাম্পের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় মোট ৩৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার জমি আইসিস নামে জঙ্গি সংগঠনের দখলে ছিল। টানা চার বছর লড়াই চালিয়ে তাদের থেকে বেশিরভাগ জমিই উদ্ধার করেছে আমেরিকার বাহিনী। এই অবস্থায় বুধবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আইসিসের হাতে এখনও যে জমি আছে, তা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কেড়ে নেওয়া যাবে।

গত ডিসেম্বরেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আইসিসকে পরাজিত করা গিয়েছে। সেজন্য ২ হাজার সেনা ইরাক থেকে সরিয়ে আনা হবে। আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে দেশগুলি আমেরিকাকে সাহায্য করেছিল, তাদের প্রতিনিধিরা বুধবার ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বসেন। মোট ৭০ টি দেশের প্রতিনিধি এসেছিলেন। আগামী দিনে আইসিসকে কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই ট্রাম্প বলেন, মনে হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে আইসিসের থেকে অবশিষ্ট জমিও কেড়ে নেওয়া যাবে।

একইসঙ্গে ট্রাম্প জানান, আগামী দিনেও আইসিস সম্পর্কে কঠোর অবস্থানই নেবে আমেরিকা। আইসিসের শেষতম ব্যক্তিটিকেও পরাজিত করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।

আল কায়েদা নামে জঙ্গি সংগঠনের দলছুট গোষ্ঠী হিসাবে আইসিসের জন্ম হয়। তার পুরো নাম ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দি লেভান্ত। তাদের লক্ষ সিরিয়া, ইরাক ও তার বাইরে ইসলামিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এর আগে বহুবার তারা প্রকাশ্যে বিরোধীদের খুন করেছে, ক্রুশবিদ্ধ করেছে ও আরও নানাভাবে শাস্তি দিয়েছে। একটি হিসাবে জানা যায়, এখনও পর্যন্ত ২১ টি দেশে মোট ৯০ বার হামলা চালিয়েছে আইসিস। নিহত হয়েছেন ১৪০০ লোক।

আইসিস সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ধর্মীয় মৌলবাদ প্রচার করে। তাদের জঙ্গিরা বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস করেছে। ২০১৫ সালে আইসিস ৩৫০০ জনকে ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছিল। তাদের বেশিরভাগই ইয়াজদি সম্প্রদায়ের নারী ও শিশু।

আইসিস জঙ্গিরা তেলের চোরাকারবার, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, প্রত্নসামগ্রী বিক্রি, তোলাবাজি ইত্যাদির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে। আইসিসের নেতার নাম আবু বকর অল বাগদাদি। তাদের মূল ঘাঁটি সিরিয়ায়।

আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলির আক্রমণে আইসিস সাময়িকভাবে পরাজিত হলেও আগামী দিনে আমেরিকার সেনা সরে গেলে ফের তারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে অনেকের ধারণা। আমেরিকার বাহিনীর জেনারেল জোসেফ ভোটেল প্রকাশ্যেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও ট্রাম্প সেনা সরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অনঢ়। তিনি বলেছেন, সিরিয়া থেকে যে সৈনিকরা ফিরবেন, তাদের স্বাগত জানাতে আমরা তৈরি।

Shares

Comments are closed.