ফ্যাশন ট্রেন্ড থেকে বাদ যাবে না আপনার পোষ্যও, পথ দেখাচ্ছে ববি বিলি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “এখন আমি একজন ফ্যাশন আইকন। আমি আর আমার ব্র্যান্ড এখন যথেষ্ট পরিচিত। মানুষের মনের হতাশা দূর করে আলো আনার চেষ্টা করি আমি। আমি স্বপ্ন দেখাতে চাই আর চেষ্টাও করি সেই স্বপ্নের কাছাকাছি যেতে।” – কিছুদিন আগেই ‘দ্য ইনসাইডার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথাগুলো বলেছেন ববি বিলি।

ববি বিলি’কে চেনেন তো আপনারা!  ‘গ্যানি’, ‘চ্যানেল’ বা ‘জ্যাকুমাস’-এর পোশাক পরে বিলি’র সেল্ফি- শো ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। গ্ল্যামারাস ববি বিলি’র ইনস্টা হ্যান্ডেলে ফ্যানের সংখ্যাও নেহাত কম নয়! ২ লক্ষ ৫৭ হাজার মানুষ ফলো করেন বিলিকে। ভাবছেন তো, কে এই বিলি!

উঁহুঁ, মানুষ ভেবে ভুল করবেন না। প্রজাতিগতভাবে ‘বিলি’ এক কুকুরের নাম। গ্রেহাউন্ড আর চিহুয়াহুয়া’র ক্রসওভারে তার জন্ম। কিন্তু বিলিকে খুব সাধারণ কুকুর ভেবে ভুল করবেন না মোটেও। ফ্যাশন স্টেটমেন্টে এখনই নানা মহলের চর্চার বিষয় সে। জন্ম দিয়েছে নিজস্ব ফ্যাশন রেঞ্জেরও, সিল্কের স্কার্ফ থেকে পার্স – কী নেই তাতে! একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিছুদিন আগেই বিলি জানিয়েছেন, তিনি মোটেও কুকুরদের পোশাক পরেন না। আর সিরিয়াস হাবভাব না দেখালেও তার ফ্যাশন রেঞ্জ যথেষ্টই সিরিয়াস

এই করোনা আবহেও ‘পেটকোর’এর মতো পোষ্যদের পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থার বিজ্ঞাপন-মুখ ছিলেন বিলি। এই মহামারির মধ্যে, যখন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রায় টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে বাজারে, তখনই ‘ভার্সেস’, ‘থম ব্রাউন’ বা ‘আর্কেট’এর মতো সংস্থাগুলো পোষ্যদের জন্য নতুন নতুন পোশাক এনেছে বাজারে।

জানলে আশ্চর্য হবেন, করোনা আবহে সারা পৃথিবীতে পোষ্যদের জামাকাপড়ের চাহিদা প্রায় ৪৫% বেড়েছে। কিছুদিন আগেই ডিস্কোয়ার্ড২ ঘোষণা করেছে, যে তারা পোষ্যদের জন্য নতুন পোশাকের সম্ভার আনতে চলেছে। কুকুরদের ব্যাণ্ডানা, শার্ট থেকে চামড়ার ল্যাশ – সবই থাকবে সেই রেঞ্জে।

এব্যাপারে অনলাইন ফ্যাশন স্টোর ‘স্যসেন্স’ তো রীতিমতো এক কদম এগিয়ে। অ্যাশলে উইলিয়ামস, মেরিন সেরির মতো বিখ্যাত ডিজাইনারদের সঙ্গে পোষ্যদের পোশাক নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছে এই সংস্থা। গত মে মাসে জেমস কর্ডেনের বিখ্যাত ‘দ্য লেট লেট শো’তে ‘পেট গালা’র আয়োজন দেখে এরপর আর অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

‘স্যসেন্স’এর উইমেনওয়্যারের কর্ণধার মনে করেন, “পোষ্যের মালিকেরা নিজেদের স্বতন্ত্র সাজকে ফুটিয়ে তুলতে চান তাঁদের পোষ্যের মধ্যেও।আর এই প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ”

লকডাউনে বাড়িতে বন্দি থাকাকালীন শারীরিক ও মানসিকভাবে পোষ্যদেরও অনেক কাছাকাছি এসেছেন মানুষ। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের জন্য পোষ্যের মালিকেরাও এখন বাড়িতে। আর সেই সুযোগেই বাড়ির পোষ্যের সঙ্গে মালিকদের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে আরও বেশি মজবুত। তাঁরা দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটাচ্ছেন বাড়ির কুকুর-বেড়ালগুলোর সঙ্গে।

এম.টি.ডব্লিউ-এর গবেষক মার্ক ওয়াডি জানান, ” ২০২০র আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনওদিন পোষ্যদের নৃতত্ত্ব বা মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা হয়নি, যা আজ হচ্ছে।”

আপনার বাড়ির পোষ্যকে কী খাওয়াবেন,তাই নিয়েও বাজারে আলোচনা তুঙ্গে। কুকুরদের জন্যে চকলেট, আইসক্রিমসহ রকমারি খাবার তৈরি হচ্ছে বিশেষভাবে। এমন কি, সেই তালিকায় সফ্ট বা হার্ড কোনও পানীয়ও বাদ যাচ্ছেনা! বিয়ার, ওয়াইনের মতো আলাদা করে শুধুমাত্র কুকুরদের জন্যেই তৈরি হয়েছে ‘ডগি ড্রিঙ্ক’। আসলে, কোনও বাড়িতেই পোষ্যকে শুধু পশু হিসেবে দেখা হয়না, তারাও এক একজন সেই পরিবারেরই অংশ, সেই বাড়িরই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এই লকডাউনেও ‘পেটকোর’এর কাজের উৎসাহ একটুও কমেনি। আর.এস.পি.সি.এ.ও কুকুরের পোশাক তৈরি করার ক্ষেত্রে কোনওরকম আপত্তি জানায়নি। খুব যত্ন আর ভালবাসা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পোষ্যদের পোশাক। এতে তাদের উপকারই হবে নিঃসন্দেহে। শীতের সময় ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচানোও যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “এই পোশাক কোনও ভাবেই পোষ্যকে অসুবিধায় ফেলেনা। এই পোশাক পরে তারা নিজেদের মতো থাকতে পারে। টয়লেট যেতে পারে, খেতে, ঘুমোতেও পারে। এমনকি শোনা, দেখা, অন্যকুকুর বা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বাধা হয়না এই পোশাক ।”

মানুষ যেমন প্রতিদিনই নিজেদের চাহিদা অনুসারে নতুন নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করছে, কিছুদিনের মধ্যে পোষ্যরাও তাদের নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্টে মালিকদেরও পিছনে ফেলে দেবে, এমনটাই মনে করছেন পশুপ্রেমিক মহল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More