শনিবার, মার্চ ২৩

স্নেহ আছে, রাগ নেই: শিশুর কাছ থেকে ছানাকে টেনে আনছেন মা-কুকুর, ভাইরাল ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুকুর ও মানুষের বন্ধুত্ব নতুন নয়। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলেই অসংখ্য ভিডিও চোখে পড়ে, যেখানে মানুষের সঙ্গে দুর্দান্ত বন্ধুত্বপূর্ণ মজার খেলায় মেতেছে পোষ্য কুকুর। কিন্তু এই দৃশ্য বন্ধুত্বের নয়, বরং শত্রুতারই বলা যায়। তা-ও আবার পোষ্য কুকুরের সঙ্গে নয়, রাস্তার সাধারণ কুকুরের সঙ্গে। উল্টো দিকে ছোট্ট একটি শিশু।

তাদেরই একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, এক মা-কুকুর তার সদ্যোজাত ছানাদের নিয়ে বসে রয়েছে। আর একটি ছোট শিশু খেলার জন্য তার ছানাগুলিকে নিয়ে আসতে চাইছে। আর সঙ্গে সঙ্গে মা-কুকুর এসে তার হাত থেকে টেনে নিচ্ছে নিজের সন্তানকে। তারস্বরে কেঁদে উঠছে শিশু। আবার গিয়ে তুলে আনছে অন্য একটি ছানা। আবার উঠে আসছে মা, শিশুর হাত থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ছানাকে। বেশ কয়েক বার এরকম চলে।

গোটা সময়টায় একটি বারের জন্যও মা-কুকুরকে দেখা যায় না রেগে যেতে বা চেঁচিয়ে উঠতে বা ভয় দেখাতে। কামড়ানো তো দূরের কথা। অন্য দিকে, বারবার হাত থেকে কুকুরছানা কেড়ে নিলেও, এক বারও শিশুটিকে দেখা যায় না ভয় পেতে। সে তার খেলনা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার দুঃখেই কেঁদে আকুল। অবুঝ মনে ফের টেনে আনে আর এক ছানা।

বোঝাই যায়, কুকুরটি প্রথামাফিক পোষা না হলেও, মনুষ্য সমাজের সঙ্গে, বিশেষ করে মানবশিশুর সঙ্গে তার আত্মীয়তা বেশ পোক্ত। সে বুঝতেই পারে, শিশুটি ক্ষতিকর নয়। আবার একই সঙ্গে এটাও বুঝতে পারে, নিজের ছোট্ট সন্তানকে কাছছাড়া করাও ঠিক নয়। সে জন্যই একটি বারও শিশুটির কোনও রকম ক্ষতি করে না সে। কেবল নিজের সন্তানকে ছাড়িয়ে আনে। আবার শিশুটিকে দেখেও বোঝা যায়, তার হয়তো আর পাঁচটা দামি-দামি খেলনা নেই। কুকুরছানাগুলোকে খেলার সঙ্গী ভাবতে তার কোনও অসুবিধা হয় না। সে জন্যই অকুতোভয়ে কুকুরের কোল থেকে তার ছানাদের নিয়ে আসে সে, আর মা-কুকুর সেটা নিয়ে নিলে ভাবে, তারই খেলনা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

কুকুরের সঙ্গে মানবশিশুর এই অপূর্ব বোঝাপড়া দেখে আশ্চর্য নেট-দুনিয়া। তাই ভিডিওটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে ঘুরছে দেওয়ালে দেওয়ালে। সকলের বক্তব্যের উপজীব্য একই, কুকুরও কত ভাল বোঝে, যে কার কাছ থেকে তার ক্ষতির আশঙ্কা নেই! এবং মানষ ছাড়া অন্য কোনও প্রাণী-প্রজাতিই বোধ হয় অকারণে অন্যের ক্ষতি করে না।

দেখে নিন সেই ভিডিও।

Shares

Comments are closed.