বুধবার, মার্চ ২০

হার্পিস ভাইরাসের সঙ্গে অ্যালঝাইমার্সের যোগ পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যালঝাইমার্সে  আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। স্মৃতিশক্তি ও দৈনন্দিন সাধারণ কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে পরিবারে ও সমাজে কার্যত বোঝার মতো বেঁচে থাকছেন অসংখ্য মানুষ। সারা বিশ্বে অগুণতি গবেষণা হচ্ছে এই অসুখ নিয়ে। কিন্তু সেই অর্থে নিরাময় বা আটকানোর মতো কোনও ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি। এরই মধ্যে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি গবেষণা অন্যরকম একটি তথ্য হাজির করেছে অ্যালঝাইমার্স নিয়ে। যেখানে বলা হচ্ছে, সম্ভবত, হার্পিস ভাইরাস থেকেই অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

গবেষণায় ৬২২টি এমন রোগীর পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁরা অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত ছিলেন। অন্য দিকে, ৩২২টি কেস স্টাডি এমন লোকদের যাঁদের ওই রোগের কোনও লক্ষণ অন্তত ছিল না।  দেখা গেছে, আক্রান্তদের মস্তিষ্কে যে পরিমাণ হার্পিস ভাইরাস ছিল, তা আক্রান্ত নন এমন মানুষদের মস্তিস্কে পাওয়া হার্পিস ভাইরাসের পরিমাণের দ্বিগুণ। হার্পিস ভাইরাসের সঙ্গে অ্যালঝাইমার্সের যে যোগ আছে, তা কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। হার্পিস ভাইরাস ৬এ এবং ৭ থেকেই সম্ভবত অ্যালঝাইমার্স হয় বলে নতুন গবেষণাগুলি জানাচ্ছে।

অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্তেরা ধীরে ধীরে মনে রাখা ও কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, কোনও একটি ভাইরাসে সংক্রমণ হলে, সেখান থেকই পরে অ্যালঝাইমার্স হয়। আবার অনেকে মনে করেন অ্যালঝাইমার্স আসলে একাধিক অসুখের মিলিত পরিণাম। নিউরোডিজেনেরেটিভ ডিজ়িস-এর বিশেষজ্ঞ জোয়েল ডুডলে বলেছেন, হার্পিস ভাইরাসই অ্যালঝাইমার্সের প্রাথমিক কারণ কি না তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু এই ভাইরাসের সঙ্গে অ্যালঝাইমার্সের একটা যোগাযোগ আছে।

আমেরিকায় প্রতি ৬৫ সেকেন্ডে একজন অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হন। এঁদের জন্য দেশের অর্থনীতির উপর বিরাট বোঝা চাপে। তবে এই আবিষ্কার নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এক জন মানুষ তাঁর ৫০ বছর বয়সের মধ্যে এক বার না একবার হার্পিসের সংক্রমণের মুখে পড়েছেন। তবে তার মানে এই নয় যে, এই ভাইরাস  তাঁর স্মৃতিবিনাশের কারণ হবে।

ভাইরাসই হোক বা অন্য কোনও সংক্রমণ, কারণটা সম্পর্কে নিশ্চিত হলে ভ্যাকসিন বা অন্য কোনও চিকিৎসায় অ্যালঝাইমার্স আগেভাগেই ঠেকানো সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

Shares

Leave A Reply