ক্যানিংয়ে করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকই ভরসা চিকিৎসায়, তাঁকেই তাড়াতে চেয়েছিল গ্রাম 

ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমর রায়। তিনি আবার ক্যানিং কোভিড হাসপাতালেরও চিকিৎসক। করোনা আক্রান্তদের সামলাতে সামলাতে তিনি নিজেও ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন আগেই করোনা সংক্রমণ হওয়ায় তাঁকে বাড়িতে নিজের থাকতে দিতে চায়নি গ্রামবাসীরা। আজ সেই চিকিৎসকই বড় ভরসা। গ্রামবাসীদের থেকে পাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে সর্প বিশেষজ্ঞ সমর রায় চিকিৎসকের কর্তব্য পালন করছেন। বাড়িতে আইসোলেশনে থেকেই ফোনে চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন সাপে কাটা রোগীদের জন্য।

আরও পড়ুন

‘রাম ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক’, অযোধ্যায় ভূমি পুজোয় শান্তি ও সহাবস্থানের কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে

ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমর রায়। তিনি আবার ক্যানিং কোভিড হাসপাতালেরও চিকিৎসক। করোনা আক্রান্তদের সামলাতে সামলাতে তিনি নিজেও ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তবে উপসর্গ না থাকায় বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন সমর রায়। কিন্তু তাতেই আসে বাধা। গ্রামবাসীদের একাংশ তাঁকে বাড়িতে থাকতে দিতে রাজি ছিল না।

হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন চিকিৎসক সমর রায়। তিনি  করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে সেই ‌বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকেন। এই খবর জানাজানি হতেই এলাকার বেশ কিছু মানুষ চিকিৎসক সমর রায়কে তাড়িয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে। অনেক করোনা রোগীকে সুস্থ করা চিকৎসক নিজে আক্রান্ত হয়ে বিপদে পড়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে উৎখাত করতে পারেনি গ্রামবাসীরা। ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের বিডিও নিলাদ্রী শেখর দে কড়া পদক্ষেপ নিলে পিছু হটতে বাধ্য হয় এলাকার লোকজন।

তিনি যেমন ক্যানিং কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক তেমনই আবার ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ। এদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে রীতিমতো সমস্যায় মহকুমা হাসপাতাল। কারণ, এই এলাকায় সাপে কাটা রোগী প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। কিন্তু সমর রায় কর্তব্য ভোলেননি। করোনা নিয়ে বাড়িতে বসে বসেই চালাচ্ছেন চিকিৎসা। টেলিফোনে অন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ দিচ্ছেন নিয়মিত। তাঁর গাইডেন্স মেনেই চলছে সাপের কামড় খাওয়া রোগীদের চিকিৎসা। হাসপাতালে ফোন করে সাপে কাটা রোগীদের সম্পর্কে ঘণ্টায় ঘণ্টায় খবর নিচ্ছেন এবং অসুবিধা হলে কী কী করণীয় তার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বুধবারই উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি থানার জেলিয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ তামিজউদ্দিন সরদার সাপের কামড় খেয়ে আসেন হাসপাতালে। বুধবার সকালেই তাঁকে বিষধর কেউটে সাপ কামড়ে দিলে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জানা গিয়েছে, তামিজউদ্দিনকে প্রথমে সরবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বৃদ্ধের অবস্থা আশাঙ্কাজনক হওয়ায় দুপুরেই ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন তিনি পরোক্ষে আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্ত সর্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমর রায়ের তত্বাবধানেই রয়েছেন। ফোনে তাঁর দেওয়া পরামর্শেই হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা বৃদ্ধ তামিজউদ্দিনের চিকিৎসা চালাচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন বিপন্মুক্ত ওই বৃদ্ধ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More