১৫ মাস বেতন নেই কর্নাটকের সরকারি চিকিৎসকের, পেট চালাতে অটো নিয়ে পথে নেমেছেন তিনি

৫২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশে করোনার সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়ছেন চিকিৎসকরা। সাধারণ মানুষদের সেবায় তাঁরা নিয়োজিত। বহু চিকিৎসক সংক্রামিত, মারাও গেছেন অনেকে। কিন্তু লড়াই থামেনি। পাশাপাশি, রোগীর প্রবল চাপে চিকিৎসকরা কার্যত দিশাহারা। কিন্তু এমনই সময়ে জানা গেল, বেতনের অভাবে, পেটের দায়ে স্টেথোস্কোপ ছেড়ে অটোচালকের জীবিকায় নাম লিখিয়েছেন দেশের এক অভিজ্ঞ চিকিৎসক!

এমনটাও সম্ভব! দেশের কোভিড পরিস্থিতিতে যখন মানুষের সবচেয়ে ভরসার জায়গা ডাক্তাররা, তখন একজন ডাক্তারকে নিজের পেশা ছেড়ে অটো চালিয়ে দিন গুজরান করতে হচ্ছে! কর্নাটকের এমনই একটি ঘটনা সামনে আসতে স্তম্ভিত সকলে। ২৪ বছর ধরে কর্নাটকের বল্লারি জেলায় চাইল্ড হেলথ অফিসার পদে রয়েছেন ডক্টর রবীন্দ্রনাথ এমএইচ। কিন্তু গত ১৫ মাস ধরে বেতন পাননি তিনি। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে পথে নেমেছেন অটো নিয়ে।

তবে এমনটা হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক সমস্যা রয়েছে বলে জানা গেছে। রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, বছর দুয়েক আগে তিনি তাঁর জেলার এক আইএএস আধিকারিকের কাছে বদলির দাবি জানান। বদলি তো হয়ইনি, উল্টে চিকিৎসকের দাবি, ওই আধিকারিক তাঁর বিরুদ্ধে নানা বেআইনি কাজ করার অভিযোগ তুলে সাসপেন্ড করেন।

মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণিত হয়, বছর দেড়েক আগে কাজে যোগও দেন রবীন্দ্রনাথ এমএইচ। কিন্তু এই মামলার কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থেকে যাওয়ার ফলে তাঁর বেতন আটকে রয়েছে ১৫ মাস ধরে।

বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে অনেকবার দৌড়ঝাঁপ করেছেন সরকারি দফতরে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ফলে সঞ্চিত অর্থ ভেঙে সংসার চালাতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু একসময়ে আর সম্ভব হয়নি। এত মাস ধরে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়াই হাঁড়ি না চড়ার মতো আবস্থা হয়। তাই শেষমেশ বাধ্য হয়ে দাবানগর এলাকায় অটো চালাতে শুরু করেছেন তিনি।

৫৩ বছরের এই চিকিৎসক এত বছরের কর্মজীবনে কখনওই প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করেননি বলে জানিয়েছেন। এখন ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে সেই চেষ্টা করবেন বলে ভেবেছেন। কিন্তু সেটাও সময়সাধ্য বিষয়।

কর্নাটকে কোভিড পরিস্থিতি রোজই খারাপতর হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে বেড অমিল, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসকের অভাব। এই অবস্থায় চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ সেখানে ডাক্তারি ছেড়ে অটো চালাতে বাধ্য হয়েছেন জটিল সরকারি ফাঁসে। তাঁর কথায়, “আমার কর্মজীবনে কোনও ত্রুটি ছিল না। সরকারি পুরস্কারও পেয়েছি আমি, নিষ্ঠাভরে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করে এসেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ ওঠে, তা আদালতে মিথ্যেও প্রমাণিত হয়। তবু আমার বেতন আটকে রয়েছে, কাজে ফেরার পরেও।”

এর পরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার। সেখানেই আপাতত অটো চালিয়ে রোজগার করছেন তিনি। লোন পেলে, সম্ভব হলে নিজের ক্লিনিক খুলবেন দ্রুত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More