করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বহু রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন চিকিৎসক, নিজেই মারা গেলেন সংক্রমণে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সঙ্গে রাত-দিন এক করে লড়ছেন চিনের চিকিৎসকরা। লিয়াং উদং ছিলেন তাঁদেরই মধ্যে একজন। দায়িত্ব নিয়ে বহু রোগীর চিকিৎসা করেছেন তিনি। কিন্তু যার বিরুদ্ধে এত লড়াই, সেই করোনাভাইরাসের থাবা থেকে বাঁচলেন না তিনিও। ৬২ বছরের চিকিৎসক লিয়াং উদং নিজেই শিকার হলেন এই ভাইরাসের, আক্রান্ত হলেন ঘাতক নিউমোনিয়ায়। চিকিৎসা করেও সারানো গেল না, ন’দিন ভুগে মৃত্যু হল চিকিৎসকের।

চিনের সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত কম করে ৮০ জন মারা গেছেন চিনে। সংখ্যাটা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সেই সঙ্গে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে, সংক্রমণের ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা। শুধু তাই নয়, টানা কাজ করে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীই অসুস্থ বোধ করছেন। হুবেই শিনহুয়া হাসপাতালের চিকিৎসক লিয়াং উদং ছাড়াও করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা করা আরও এক জন চিকিৎসক জিয়াং জিজুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে ৫১ বছর বয়সি জিয়াং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০০২ সাল থেকে চিনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল সার্স (সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) অসুখ। যে ভাইরাসটির সংক্রমণে এই অসুখে ভুগে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ৮০০ জন, সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন আট হাজারেরও বেশি মানুষ, সেটিও ছিল এক ধরনের করোনাভাইরাস। সেই স্মৃতি এখনও দগদগে চিনের চিকিৎসকদের মধ্যে। ওয়েলকাম ট্রাস্টের চিকিৎসক জোসি গোল্ডিং বলছেন, ”সার্সের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনও আমরা ভুলতে পারিনি, ফলে নতুন ভাইরাস নিয়ে প্রচণ্ড ভীতি তৈরি হয়েছে। আমরা এখন অনেক বেশি প্রস্তুত, কিন্তু নিজেরাই যদি আক্রান্ত হয়ে পড়ি, তাহলে তা বড় বিপদ ডেকে আনবে।”

এই ঘাতক নোভেল করোনাভাইরাসের মূল কেন্দ্রস্থল চিনের উহান শহর। সেখানকার সি-ফুড বাজার থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে আসা হয়েছে সংক্রামিত এলাকাগুলিতে। জায়গায় জায়গায় ক্যাম্প করে কাজে লেগে পড়েছেন সেনা-ডাক্তাররা।

চিনের উহান-সহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দু’কোটি মানুষকে শহর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে সরকারি তরফে। হুবেই প্রদেশের উহান-সহ আরও মোট ১৩টি শহরের প্রবেশদ্বার কার্যত তালাবন্ধ করে দিয়েছে চিন প্রশাসন। সরকারের নির্দেশ, বাইরের কেউ ভিতরে ঢুকবে না, শহরের ভিতরে থাকা কেউ বেরোবে না। আরও প্রায় একডজন শহরে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কোনওএলাকায় বড় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চিনের গ্রেট ওয়ালের মতো আরও বিভিন্ন পর্যটন এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তৈরি হচ্ছে নতুন হাসপাতাল।

কিন্তু এত কিছু করেও কি রোখা যাবে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে? এটাই প্রশ্ন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের। কারণ হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে মিশে যাচ্ছে এই ভাইরাসটি। বাতাসেই ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। বাতাসবাহিত ভাইরাসকে আটকানো কার্যত অসম্ভব একটা ব্যাপার। তাই সে অসুখের চিকিৎসা নিয়েও পাল্লা দিয়ে ভাবছে চিন। উহানে হাজার বেডের একটি নতুন হাসপাতাল তৈরির কাজও চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More