বুধবার, নভেম্বর ১৩

রাতে গ্রামে থেকে গ্রামবাসীদের সমস্যা মেটানোর আশ্বাস জেলাশাসকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামে রাত কাটিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনলেন জেলাশাসক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি এবং দু-জন অতিরিক্ত জেলাশাসক, ঝাড়গ্রামের মহকুমা শাসক সুবর্ণ রায়, লালগড় বিডিও প্রমুখ আধিকারিকরা যান লালগড় ব্লকের ভুলাগেড়া গ্রামে। ভুলাগেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। শোনেন গ্রামের মানুষের অভাব অভিযোগর কথা।

প্রথমে গ্রামবাসীদের দেখানো হয় জল সঞ্চয় ও জল অপচয় নিয়ে একটি ভিডিও। তারপর আলোচনা শুরু হয়। সেখানে গ্রামবাসীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানান। তাঁরা অভিযোগ করেন, গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে, মিনি ডিপ টিউবওয়েল থাকলেও তা চালু হয়নি, আবাস যোজনার বাড়ি পাননি অনেকে, আবার অনেকের বাড়িতে এখনও শৌচাগার নেই। গ্রামের বাসিন্দা বিপুল মাহাতো,  ইতি মাহাতোরা জানান, তাঁরা স্বনির্ভর হতে চান, তাই ঋণ দরকার। গৌরী কিস্কু বলেন, আবাস যোজনার তালিকায় তাঁর নাম নেই।

গ্রামবাসীদের কথা শুনছেন জেলাশাসক

সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে সমস্যার সমাধান করা হবে এবং কিছুদিনের মধ্যেই এই গ্রামে কমিউনিটি টয়লেট তৈরি করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন জেলাশাসক। ভুলাগেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে ডিমের ঝোল-ভাত খেয়ে ভুলাগেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাত কাটান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। শনিবার ভোর হতেই ভুলাগেড়া গ্রাম ও আশপাশের দোমহিনী, হোদহদি, মাহুলবন, বনকাটি গ্রাম হেঁটে পরিদর্শন করেন তাঁরা।

গ্রাম পরিদর্শনের সময় অনেকে জেলাশাসককে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁদের সমস্যা চাক্ষুস করান। কৃষকরা জমির ভিতরে নিয়ে গিয়ে সমস্যার কথা বলেন। বনকাটি গ্রামে ঢুকতেই একদল যুবক বলেন, গ্রামে কালভার্ট প্রয়োজন। সেখানে নালা পেরিয়ে গ্রামে যান জেলাশাসক, নালাটি জলে ভরা ছিল। পথ চলতি মানুষজন কেউ কেউ বলেন, সারাবছর কাজ পান না, তাই একশো দিনের কাজ পেলে খুবই ভালো হয়। জেলাশাসক প্রত্যেককে আশ্বস্ত করেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, এখানেই হোক কালভার্ট

দিদিকে বলো কর্মসূচিতে এর আগে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরের  বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতো শালবনী গ্রামে রাত কাটিয়েছেন। তখন তিনি গ্রামের মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছিলেন।  ঝাড়গ্রামের বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা কুঁই গ্রামে এবং নয়াগ্রামের দুলাল মুর্মু গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকে রাত কাটিয়ে জনসংযোগ করেছেন। বিধায়কদের পরে এবার জেলাশাসক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও গ্রামে থেকে গ্রামবাসীদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনলেন।

ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক  আয়েশা রানি বলেন, “সন্ধ্যেবেলায় গ্রামের সকলকে পাওয়া যায়, তাই সরকারের দেওয়া সুযোগসুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন কিনা এবং পেলে কতটা পাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখতেই গ্রামে গিয়েছিলাম। অনেক গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখেছি। যে সব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করা হবে। অন্য ব্লকেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে লোকজনকে সচেতন করতে। প্রতিমাসে এক থেকে দু’বার করে যে কোনও ব্লকে গিয়ে রাত্রিযাপন করে মানুষের  সমস্যার কথা শোনা হবে ও সরকারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধার কথা জানানো হবে।

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

Comments are closed.