বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

শেরপা নেই, আবহাওয়া খারাপ! উদ্ধারকাজ নিয়ে টানাপড়েন, তুষাররাজ্যেই কি হারিয়ে গেলেন দীপঙ্কর!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শৃঙ্গ ছুঁয়ে নামছিলেন তাঁরা। ছিলেন দীপঙ্করও। আচমকাই ধেয়ে আসে অ্যাভালাঞ্চ, অর্থাৎ তুষার ধস। বেশ কয়েক মিটার নেমে গড়িয়ে নেমে যান তাঁরা সকলেই। বাকি আরোহীরা কোনও রকমে নিজেদের আটকাতে পারলেও, দীপঙ্কর পারেননি। তুষার ধসে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়ার পর থেকে খোঁজ মেলেনি তাঁর। এমনটাই জানিয়েছে কাঠমাণ্ডুর পর্বতারোহণ আয়োজক সংস্থার একটি সূত্র।
ওই সংস্থা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার পর থেকে এখনও নিখোঁজ দীপঙ্কর ঘোষ। শেরপারা গত কালই খোঁজ চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পর্বতারোহণ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের পক্ষে ২২ তারিখের আগে নতুন উদ্ধারকারী দল পাঠানো সম্ভব নয়। প্রথম কারণ, এ বছর নেপালের শৃঙ্গগুলিতে অভিযানের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। দুর্ঘটনাও ঘটছে অনেক। ফলে দক্ষ শেরপারা সকলেই কোনও না কোনও অভিযানে বা উদ্ধারকাজে ব্যস্ত। এবং দ্বিতীয়ত, আবহাওয়া বেশ খারাপ হয়েছে মাকালু এলাকায়। ২২ তারিখের আগে হয়তো ‘উইন্ডো’ মিলবে না।
পাহাড়ি পরিভাষায়, একটানা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে আবহাওয়া কবে পরিষ্কার হতে পারে, সেই সময়কালকে উইন্ডো বলা হয়। অর্থাৎ আবহাওয়া যে ভাবে খারাপ হচ্ছে, তাতে ২২ তারিখের আগে পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না কাঠমান্ডুর এজেন্সিগুলি। তাই তার আগে উদ্ধারকারী দল পাঠাতেও সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে তারা। তা ছাড়া এই ধরনের উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য যে দক্ষ শেরপাদের প্রয়োজন, তাঁরাও এই মুহূর্তে কেউ ফাঁকা নেই, আরোহণের ভরা মরসুমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধেয় আট হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় দীপঙ্কর নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। ওই উচ্চতাকে এমনিতেই ‘ডেথ জ়োন’ বলা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আহত বা অসুস্থ থাকলেও তা বড় আশঙ্কার কারণ তৈরি করে। সেখানে ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। কার্যত দীপঙ্করকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা দেখছেন না কেউই। তবে সম্ভাবনা ছিল মিরাকেলের। পাহাড়ে যা বারবার ঘটেছে। কিন্তু ২২ তারিখের আগে যদি উদ্ধারকারী দলই না পাঠানো যায়, তা হলে সেই আশাও ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসে।
দীপঙ্করের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৬ সালে পর্বতারোহী সুনীতা হাজরার এভারেস্ট অভিযানে বিপদে পড়ার কথা। তুষার ঝড়ের মুখে পড়ে, বিধ্বস্ত অবস্থায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করে কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফিরে এসেছিলেন সুনীতা। তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের পর্বতারোহী লেসলি জন বিনস। দীপঙ্করের সঙ্গেও কি এমন কিছু ঘটতে পারে না? শেষতম আশা ছাড়ছেন না বাংলার পাহাড়প্রেমী মানুষ।
শেরপা সূত্রের খবর,  সামিট করার পরে বিধ্বস্ত ছিলেন দীপঙ্কর ও তাঁর সহযাত্রী শেরপা। তাঁর নামার গতিও স্বাভাবিকের চেয়ে খানিকটা ধীর হয়ে গিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে অন্য শেরপাদের মুখে। সেই কারণেই হয়তো ক্যাম্প ফোরে পৌঁছনোর পথে অনেক দেরি করে ফেলেন তাঁরা। এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে আবহাওয়াও খারাপ হওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে। আচমকা তুষারধসের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
তবে ঠিক কী ঘটেছিল, পড়ে যাওয়ার পরে অন্য কোনও আরোহী দীপঙ্করকে কোথাও দেখেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কেউই। প্রসঙ্গত, গত কালই সামিট করে ভারতীয় সেনাবীহিনীর একটি দল। তারা ক্যাম্প টু পর্যন্ত নেমে এলে, তাদের মুখে দীপঙ্করের কোনও খোঁজ মিলতে পারে বলেই আশা করছেন সকলে।
কিন্তু জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা যে ক্রমেই কমে যাচ্ছে, সেই আশঙ্কাই এখন বাড়ছে পর্বতারোহী মহলে।

আরও পড়ুন…

BREAKING: ফের দুঃসংবাদ পাহাড়ে! মাকালু শৃঙ্গ ছুঁয়ে নেমে আসার পথে নিখোঁজ দীপঙ্কর ঘোষ

Comments are closed.