বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

‘পাগলেও বিশ্বাস করবে না, মমতা প্রধানমন্ত্রী হবেন’: অমিতের বকুনিতে ডিগবাজি দিলীপের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিগবাজি বললেও হয়তো কম বলা হয়। কিন্তু দলের সব স্তর থেকে প্রবল চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই উল্টো সুর গাইতেই হল বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে।

রাজনৈতিক শিবির থেকে সংবাদমাধ্যমের একাংশের অনেকেরই ধারনা ছিল ৫ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। দিলীপবাবুরও সেই ধারনা ছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ওই দিনকে তাঁর জন্মদিন হিসাবে গণ্য করেন না। সে যাই হোক, শনিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তৃণমূলনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দিলীপবাবু এও বলেন, মমতাই হতে পারেন প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী।

লোকসভা ভোটের আগে খোদ রাজ্য সভাপতির মুখে এ কথা শুনে কপাল চাপড়াতে বসে পড়েন বিজেপি-র নিচু তলার কর্মীরা। রাজ্য নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় তীব্র সমালোচনা শুরু করে দেন দিলীপের বিরুদ্ধে। খবর যায়, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ-র কাছেও। এর পরেই দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় রবিবার সকালে দিলীপ ঘোষকে জানিয়ে দেন, অমিত শাহ এ ঘটনায় খুবই ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সভাপতি অবিলম্বে যেন নিজের কথা ফিরিয়ে নেন।

দেখে নিন সেই বক্তব্য।

এর পরেই রবিবার ময়নায় বিজেপির একটি জনসভায় অংশ নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করছেন, আমি নাকি বলেছি মমতা প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু আমি কেন গোটা রাজ্যের মানুষ লেগে গেলেও মমতা ব্যানার্জিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করতে পারবেন না।” শনিবার অতিশয় সৌজন্য দেখাতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাষায় গণ্ডগোল করে ফেলেছিলেন দিলীপ। এ দিন আবার রাজনীতি করতে গিয়ে শালীনতার সীমা প্রায় লঙ্ঘন করে ফেলেন। ময়নার সভায় তিনি বলেন, “পাগলেও বিশ্বাস করবে না মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী হবেন, আমরা তো সুস্থ মানুষ।”

দিলীপবাবুর শনিবার মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রবিবার দিলীপ ঘোষের বক্তৃতা শোনার পর তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, ওনার মস্তিষ্ক বিভ্রাট হয়েছে। তবে যা হচ্ছে তা রাজ্যের ও তৃণমূলের ভালোর জন্য। এর পরেও কোনও সুস্থ মানুষই ভোট দেবে না বিজেপি-কে।

Shares

Comments are closed.