দিদিমণি ভেবেছিলেন একাই সামলে দেবেন, ভয়ের চোটে এখন সেনা ডেকেছেন: দিলীপ

এত দেরীতে কেন সেনা নামানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মানুষের বিক্ষোভ আঁচ করে ভয় পয়েছে সরকার। আর তাতেই সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানে বিপর্যস্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাকে স্বাভাবিক করার কাজে অবশেষে সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসাও করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কিন্তু এত দেরীতে কেন সেনা নামানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মানুষের বিক্ষোভ আঁচ করে ভয় পয়েছে সরকার। আর তাতেই সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত।

বুধবার ঘূর্ণিঝড় উমফানের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে যায় গোটা কলকাতা। এর পরে মাঝে দু’টো দিন কেটে গেলেও সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি রাজ্য সরকার। গোটা শহর জুড়ে জল নেই, বিদ্যুৎ নেই, বন্ধ রাস্তা ঘাট। এনিয়ে দফায় দফায় বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিক্ষোভ। শুধু কলকাতা শহরেই নয়, বিক্ষোভ চলছে জেলাতেও। প্রথম থেকেই বিপর্যয় সামাল ‌দেওয়ার জন্য সেনা তলব করার দাবি উঠলেও তা পাত্তা দেয়নি রাজ্য সরকার। অবশেষে শনিবার রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর টুইট করে জানায়, “রাজ্যে উমফানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে প্রশাসন। এই কাজে সাহায্যের জন্য সেনা তলব করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন রয়েছে।”

আরও পড়ুন

উমফান তাণ্ডবের আড়াই দিন পর অবশেষে সেনা সাহায্য চাইল রাজ্য, উচিত পদক্ষেপ বললেন রাজ্যপাল

রাজ্য সরকারের এই আচরণকে ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেষে ভয় পেয়ে সেনা নামানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ভয়ের চোটে সেনা নামিয়েছে রাজ্য সরকার। দিদিমণি ভেবেছিলেন একাই সব সামলে নেবেন। কিন্তু ৭২ ঘণ্টা কেটে গেলেও খোদ কলকাতার মানুষ বিপর্যস্ত। মানুষের বিক্ষোভ আঁচ করেই এবার সেনা নামাতে বাধ্য হলেন। মার খাওয়ার ভয় পেয়েছে সরকার।”

দিলীপ ঘোষ এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই আক্রমণ করেছেন। দলীয় সদর দফতরে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “একের পর এক যোগ্য আমলাকে কমপালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠিয়ে যাঁরা তেল মারে তাঁদের রাখা হয়েছে। ভাবটা এমন যেন উনি একাই সব করবেন। কোনও মন্ত্রীও রাস্তায় নেই। আমি তো মনে করি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেই কমপালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠানো উচিত।”

এদিন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের বিক্ষোভকেও সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ। এই বিক্ষোভ স্বাভাবিক বলে দাবি করে তিনি বলেন, “৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পরেও কেন বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না তার জবাব দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।” এদিন অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, সিপিএম আমল থেকেই সিইএসসি কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বিদ্যুতের দায়িত্বে রয়েছে। এর জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More