বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ছোট মন নিয়ে বড় ভাবা যায় না, মমতাকে চন্দ্ৰযান প্রসঙ্গে কটাক্ষ দিলীপের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা দেশ অপেক্ষা করছে কখন চূড়ান্ত সাফল্য পাবে ইসরো। আর তার মধ্যেই লেগে গেল রাজনৈতিক তরজা। এদিনই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ সব করা হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে নজর ঘোরাতেই। যার মোদ্দা কথা এই, দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে জনতার নজর ঘোরাতেই চন্দ্রযান-২ পাঠানো হয়েছে। এনিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ছোট মন নিয়ে বড় কিছু ভাবা যায় না।

দ্য ওয়ালকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কেন্দ্রের যে কোনও কাজের বিরোধিতা করাই এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কা‌জ। সেটা পাকিস্তানকে জবাব দেওয়া হোক, ৩৭০ ধারা হোক কিংবা দেশের বিজ্ঞানীদের সাফল্য হোক। মাঝে মাঝে মনে হয়, উনি পাকিস্তানের মুখপাত্র।”

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেছেন, “যেন এই প্রথম চন্দ্রযান গেল! যেন ওরা (পড়ুন বিজেপি) সরকারে আসার আগে এ রকম মিশন হয়ইনি! দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে নজর ঘোরাতেই এই সব করা হচ্ছে। ৫০ বছর ধরে এই গবেষণা চলছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই বিপর্যয় থেকে নজর ঘোরাতে এখন আমাদের চন্দ্র দেখাচ্ছে। বিজেপি নেতারা যাক, চাঁদে গিয়ে ফ্ল্যাট বানিয়ে থাকুক। মাল্টি স্টোরিড করুক।”

এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দিকে দিকে বিজেপি বাড়ছে। ভয়ে দিদি প্রশান্ত কিশোরের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। তাতেও যে কিছু হবে না, সেটাও বুঝে গেছেন। এখন তাই সবেতেই বিজেপি দেখতে পাচ্ছেন। উনি এই ধরণের মন্তব্য যত বেশি করবেন তত সাধারণ মানুষের থেকে দূরে চলে যাবেন। সেটা পাকিস্তান ইস্যুতেই হোক, কিংবা চন্দ্রযান।” দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, গোটা দেশে আজকের সাফল্যের দিকে চেয়ে আছে। একজন শুধু রাজনীতির দিকে তাকিয়ে। অবশ্য উনি কী বললেন আর না বললেন তা নিয়ে কেউ ভাবে না। সকলের কাছে এসব কথা হাসির খোরাক ছাড়া আর কিছু নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য নিয়ে বিজ্ঞানী মহলের প্রতিক্রিয়াতে একটি কথা উঠে এসেছে যে, চন্দ্রযানের সঙ্গে অর্থনীতি বা রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এদিন দিলীপ ঘোষও বলেন, সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই চন্দ্রযান তৈরি হয়েছে অত্যন্ত কম খরচে। এটা যদি সাফল্য পায় তবে গোটা বিশ্বের কাছে ভারতের সম্মান বেড়ে যাবে। আর সেটাই সহ্য হচ্ছে না তৃণমূলনেত্রীর। তাই এমন মন্তব্য। উনি ভাবছেন, এই সাফল্যের ভাগ নরেন্দ্র মোদী পেয়ে যাবেন।

Comments are closed.