ঘুষ দিতে গিয়েও মিথ্যে বলেছেন মমতা, বাজেট নিয়ে আক্রমণ দিলীপের

এটাই ছিল দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আর সেই বাজেটে রীতিমতো কল্পতরু হতে চাইলেন অমিত-মমতা জুটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর পার করলে বিধানসভা ভোট। তার আগে এটাই ছিল দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আর সেই বাজেটে রীতিমতো কল্পতরু হতে চাইলেন অমিত-মমতা জুটি। গরিবের হাতে আয় থেকে কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয় থেকে চা-বাগানে আবাসন রাজ্য বাজেট অনেক প্রাপ্তি। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ঘোষণা করলেন নতুন ছয় প্রকল্পের। পরে সেই সব প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণও দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেসব শুনে রাজ্য বিজেপি সভপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, মানুষ তাঁর দলের সঙ্গে নেই বুঝে রাজ্যবাসীকে ঘুষ দিতে চাইলেন মমতা। আর সেই সময়েও মিথ্যের ফুলঝুরি ছোটানো হল বাজেটে।

    দিলীপের অভিযোগ, গত লোকসভা নির্বাচনের ফলই বলে দিয়েছে বাংলার মানুষ আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও আদিবাসী এলাকায় মানুষের কোনও আস্থাই নেই ঘাসফুলের প্রতি। সেই ক্ষত পূরণ করতেই নামভারী প্রকল্প ঘোষণা করেছে সরকার। যার কোনওটাই আদৌ বাস্তবায়িত হবে না। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের পাইয়ে দেওয়ার রাস্তাও খোলা রাখা হয়েছে বাজেটে।

    এদিন দিলীপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ঘোষিত ‘বন্ধু’ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, এটি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কাছে কাটমানি খাওয়ার প্রকল্প। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে রাজ্যের ৬০ বছরের বেশি বয়সের তফসিলি জাতির মানুষ, যাঁরা কোনও পেনশন পান না, এরকম ১০০ শতাংশ মানুষকে প্রতি মাসে হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। দিলীপের দাবি, এটা একেবারেই ঘুষ দেওয়ার প্রকল্প। কিন্তু যাদের ঘুষ দিতে চাইছে সরকার তারা কোনও মূল্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াবে না। এছাড়াও কর্মসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য। দিলীপের দাবি, এই ঋণ পাবে তৃণমূল কর্মীরা। ওই ঋণের পয়সায় গুলি, বন্দুক কেনা হবে যা দিয়ে আগামী পুরভোট ও বিধানসভা নির্বাচনে সন্ত্রাস চলবে রাজ্যে।

    দিলীপ বলেন, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। গোটা দেশের নজরে বাংলার সন্ত্রাস। সেই সময়ে রাজৈনতিক সুবিধা পেতে কিছু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজ্য। এর বেশিরভাগই কার্যকর হবে না।”

    এদিন বাজেটে ‘হাসির আলো’ নামে এক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। এই প্রকল্পের আওতায় বাংলার গরিব পরিবারকে বিনামূল্য বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। এই সুবিধা পাবেন তারাই যাদের তিন মাসে সর্বাধিক ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাদের বিদ্যুতের জন্য কোনও খরচই দিতে হবে না। অমিত মিত্রের দাবি, ৩৫ লক্ষ গরিব পরিবার এর সুযোগ পাবেন। এর জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই প্রকল্পের নিন্দা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যে এখনও এত গরিব মানুষ যে রয়েছে এটাই বাংলার জন্য লজ্জার। আর তাদের বিদ্যুৎবিলের যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা আদৌ কোনও কাজের হবে না। এতে কারও গরিবি মিটবে না। যে যেখানে আছে সেখানেই থেকে যাবে। যদি গরিব মানুষকে ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ পুড়লেও সেই ছাড় দেওয়া হত তবে অনেকের লাভ হত।”

    দিলীপ ঘোষ এদিন আরও বলেন, “সারা বছর লেখাপড়া না করা পড়ুয়াদের যেমন হয় তেমন অবস্থা মমতা সরকারের। ক্ষমতায় এসে থেকে কর্মীদের কাটমানি পাওয়ার ব্যবস্থা করা ছাড়া অন্য কোনও কাজ না করায় এখন জমি হারিয়েছে তৃণমূল। শেষ বেলায় ঘুষ দিয়ে ঘায়ে মলম লাগাতে চাইছে সরকার।” দিলীপের দাবি, এত কিছু করেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মানুষকে খুশি করতে পারবেন না তিনি। তাঁর দলের আসল চেহারা রাজ্যের মানুষ চিনে গেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More