মমতা তো ঘুমিয়েই আছেন, মোদীর আবেদন প্রসঙ্গে পাল্টা আক্রমণ দিলীপের

৫ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশবাসীর কাছে ৯ মিনিট চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আর ৩ এপ্রিল রাত ৯টা বাজার অনেক আগেই তা নিয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক তরজা লেগে গেল বাংলায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশবাসীর কাছে ৯ মিনিট চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আর ৩ এপ্রিল রাত ৯টা বাজার অনেক আগেই তা নিয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক তরজা লেগে গেল বাংলায়। রবিবার রাত ৯টার সময়ে “আপনার ইচ্ছা হলে আপনি শুনবেন, আমার ইচ্ছা হলে আমি ঘুমোব”। মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা শুনে রাজ্য বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, “উনি তো ঘুমিয়েই আছেন।” এখানেই থামলেন না দিলীপ ঘোষ, তাঁর বক্তব্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের বদলে এক টানা রাজনীতি করে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী।

    এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেদন জানিয়েছেন, আগামী রবিবার ৫ এপ্রিল রাত ৯টায় ৯ মিনিটের জন্য বাড়ির আলো নিভিয়ে মোমবাতি বা টর্চ কিংবা প্রদীপ জ্বালাতে। তিনি বলেছিলেন, “একশ তিরিশ কোটি দেশবাসীর মহাশক্তি জাগ্রত করতে হবে। মহা সঙ্কল্পকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। তাই ৫ এপ্রিল রবিবার রাত ৯ টায় আমি আপনাদের সকলের ৯ মিনিট চাইছি।”

    শুক্রবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনার ইচ্ছা হলে আপনি শুনবেন (প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে প্রদীপ জ্বালাবেন), আমার ইচ্ছা হলে আমি ঘুমোব”।

    সাংবাদিক বৈঠকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন শোনামাত্র দৃশ্যত বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি এখন করোনা সামলাব নাকি আপনারা রাজনৈতিক যুদ্ধ লাগাবেন। প্লিজ এখন রাজনৈতিক যুদ্ধ লাগাবেন না। আপনাদের যদি মনে হয় প্রধানমন্ত্রী ভাল কথা বলেছেন, আপনারা শুনবেন। আমি কেন প্রধানমন্ত্রীর কথায় নাক গলাতে যাব।”

    এর জবাবেই দিলীপ ঘোষের আক্রমণ, “রাজ্যের যা অবস্থা তাতে তো সবাই বুঝতে পারছে যে মুখ্যমন্ত্রী ঘুমিয়ে আছেন। রবিবার রাত ৯টাতেও না হয় তিনি ঘুমিয়ে থাকবেন। কিন্তু জেগে থাকবে গোটা দেশ।” এই প্রসঙ্গে জনতা কার্ফুর দিনের কথাও টেনে আনেন দিলীপ। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সেদিন বিকেল পাঁচটায় এই লড়াইয়ের সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ঘণ্টা, থালা ইত্যাদি বাজাতে বলেছিলেন। তাতেও সমালোচনা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এটাই ওদের কাজ। কিন্তু সেদিন গোটা দেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে সবাই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রয়েছেন। রবিবারও সেটাই হবে।”

    দিলীপের দাবি, গোটা রাজ্যেই ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিক্ষোভ চলছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পাওয়ার জন্য। সেদিকে নজর না দিয়ে রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ না দেওয়ার প্রসঙ্গেও এদিন নিন্দা করেন দিলীপ। তিনি বলেন, “কেন্দ্র যেখানে সব রকম সাহায্য নিয়ে তৈরি তখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা বলে রাজনীতি করছেন মমতা। একই সঙ্গে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজ্যবাসীর সঙ্গে মিথ্যাচার করছেন। বিভ্রা‌ন্ত করছেন। মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছেন। এতে আখেরে রাজ্যেরই ক্ষতি করছেন মমতা।” দিলীপের আরও অভিযোগ, কোনও সরকারি কর্মীকে সামনে আসতে না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শুধু সাংবাদিক বৈঠক করছেন তথ্য চেপে যাওয়ার জন্য। সরকারি কর্তারা বেফাঁস কিছু যদি বলে ফেলেন তাঁর জন্য ভায় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More