বুধবার, অক্টোবর ১৬

সবার ডিজিটাল কার্ড চাই, জনগণনা হবে মোবাইল অ্যাপে! নতুন ফরমান অমিত শাহ-র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর প্রতিটা মানুষের দোরে দোরে ঘুরে নয়, ২০২১ সালের আসন্ন আদম শুমারি এবার হবে ডিজিট্যালি। আর তারই প্রস্তুতি হিসেবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মাল্টিপারপাস বা বহুমুখী একটি আইডি কার্ডের কথাও প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই কার্ডের মধ্যে পাসপোর্ট, আধার এবং ভোটার কার্ডের সমস্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর পরে একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে, সেই কার্ডের সঙ্গে সংযুক্তি করে, সারা হবে আদম শুমারি।

দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে রবিবার অমিত শাহ বলেন, “কাগজ-কলমে মানুষ গোনার দিন শেষ। ২০২১ সালের আদম শুমারিতে একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। তার মাধ্যমে এবার ডিজিটাল শুমারিতে রূপান্তরিত করা হবে বিষয়টিকে।” তিনি আরও জানান, যে ২০২১ সালের আদম শুমারিতে এই প্রথম জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তাঁর কথায়, “আমাদের কাছে আধার, পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার কার্ডের মতো সমস্ত উপযোগের জন্য একটি মাত্র কার্ড থাকতে পারে। সেটাও ডিজিট্যালি। তা হলে গোটা বিষয়টাই অনেক নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।” সেই সঙ্গেই তিনি এ-ও জানিয়ে দেন, সেই কার্ডে এমন একটি ব্যবস্থা থাকবে, যাতে যখনই কোনও ব্যক্তি মারা যাবেন, সেই তথ্য যেন তখনই নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায় দেশের জনসংখ্যার তথ্যে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের আদম শুমারির ১৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বার অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিট্যালি ডেটা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং যাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে এত দিন জনগণনা করেছেন, তাঁদের এবার এই কাজের জন্যে নিজের নিজের ফোন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হবে।

২০১১ সালে ভারতের শেষ আদম শুমারিটি হয়েছিল যখন দেশের জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি। এই বছরের মার্চ মাসে, কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল যে পরবর্তী আদম শুমারি ২০২১ সালের ১ লা মার্চ রেফারেন্সের তারিখ হিসেবে গণ্য করা হবে।

রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, দেশের জনসংখ্যা নিয়ে আরও নির্ভুল ও বিস্তারিত তথ্য হাতে পাওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনেকেই মনে করছেন, এই তথ্য হাতে পেলে সারা দেশ জুড়ে এনআরসি করার দিকে আরও এক ধাপ এগোবে মোদী সরকার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবিবারই হিউস্টনের মঞ্চে ৫০ হাজার দর্শকের সামনে এ দেশে অনুপ্রবেশ রোখার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন মোদী। তাঁর সঙ্গে স্বর মিলিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সেই অনুপ্রবেশের বিষয়টি আরও কড়া হাতে আটকানোর জন্যও এই ডিজিট্যাল পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে পদ্ধতি যতই নির্ভুল বা বিস্তারিত হোক, দেশের ১৩০ কোটি জনগণের মধ্যে যে একটা বড় অংশ ডিজিট্যাল ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নন, তাঁদের কী হবে? প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। সে বিষয়ে অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর এখনও কিছু জানায়নি।

পড়তে ভুলবেন না…

Comments are closed.