শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

গত ৭০ বছরে কারও জমি দখল করিনি, কোনও যুদ্ধও শুরু করিনি, দাবি চিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চিনের বিরুদ্ধে প্রায়ই ভারতের লাদাখ অঞ্চলে ঢুকে সেনা ছাউনি বানানোর অভিযোগ ওঠে। ১৯৬২ সালে চিনের লালফৌজ ভারতের সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিল বলেই ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু শুক্রবার চিনের সরকার এক পলিসি পেপারে দাবি করেছে, গত ৭০ বছরে আমরা কোনও দেশের এক বর্গফুট জমিও দখল করিনি। আমাদের জন্য কোনও যুদ্ধও শুরু হয়নি।

ভারতের সঙ্গে এখনও সীমান্ত নিয়ে বিরোধ আছে চিনের। কিন্তু এদিন খুব গর্বের সঙ্গে চিনের সরকার বলেছে, আমরা বেশিরভাগ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পথে সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমান্ত বিরোধ যেভাবে মেটানো হয়েছে, তা অন্যদের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে জমি নিয়ে যে কোনও বিরোধ মেটানো সম্ভব।

আগামী সপ্তাহেই চিনের গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি উৎসব শুরু হবে। তার আগে ১৮ হাজার ৪০০ শব্দের ওই পলিসি পেপার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বে শান্তি রক্ষা করার জন্য চিন সবসময় কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়। গত ৭০ বছর আমরা কখনও অপরের দেশে আক্রমণ করিনি। আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধও শুরু করিনি।

চিনের মন্ত্রিসভা থেকে প্রকাশিত ওই শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, চিন তার ১৪ টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ১২ টির সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে ঐকমত্য অর্জন করেছে। বেইবু উপসাগরে চিন ও ভিয়েতনামের মধ্যেও যথাযথভাবে সীমান্তরেখা টানা গিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সমস্যাগুলির সমাধানে সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে চিন।

কীভাবে চিন আঞ্চলিক বিরোধ মেটাতে চেষ্টা করে তার উদাহরণ দিয়ে শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে আমরা ঘোষণা করেছিলাম, ১০০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে চিন-রাষ্ট্রপুঞ্জ শান্তি ও উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হবে। সেই তহবিল গঠিত হয়েছে ২০১৬ সালে।

এখনও পর্যন্ত ভারত ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ আছে চিনের। কিন্তু তাদের শ্বেতপত্রে এই দু’টি দেশের উল্লেখ পর্যন্ত নেই। মাত্র দু’বছর আগে, ২০১৭ সালে সিকিম সীমান্তের কাছে ডোকলাম অঞ্চলে চিনের সেনা ঢুকে পড়ে। ভারতের সেনা তাদের ছাউনি বানাতে বাধা দেয়। এই নিয়ে ৭৩ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। ভুটানের দাবি, ডোকলাম অঞ্চলটি তাদের। অন্যদিকে চিন মনে করে, ডোকলাম তাদের দেশেরই অংশ।

Comments are closed.