জোর করে দিল্লিতে ফেরত, ভীম আর্মির প্রধান বললেন, চরম একনায়তত্ব চলছে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : হায়দরাবাদে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করে তেলঙ্গানা পুলিশ। সোমবার তাঁকে ফেরত পাঠানো হয় দিল্লিতে। এরপরে ভীম আর্মির প্রধান বলেন, তেলঙ্গানায় চরম একনায়কত্ব চলছে।

তাঁর কথায়, “আমি তেলেঙ্গানায় একনায়কত্বের চরম রূপ দেখেছি। মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে আমাদের লোকজনকে লাঠিপেটা করা হল। তারপর গ্রেফতার করল আমাকে। আমাকে বিমানবন্দরে এনে তোলা হল দিল্লিগামী প্লেনে।” চন্দ্রশেখর টুইট করেন, “বহুজন সমাজ এই অপমান মেনে নেবে না। আমি শীঘ্রই ফিরে আসব।”

৩৩ বছর বয়সী আজাদ মেহদিপটনমের ক্রিস্টাল গার্ডেনসের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। মিছিলের উদ্যোক্তা ছিল টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ছাত্ররা। ক্রিস্টাল গার্ডেনসের কাছে পৌঁছানোর আগেই চন্দ্রশেখরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় হাবিব নগর থানায়। তার সামনে জড়ো হয় উত্তেজিত জনতা। তখন চন্দ্রশেখরকে নিয়ে যাওয়া হয় বোল্লারাম থানায়। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের গোশামহল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।

হায়দরাবাদে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল চন্দ্রশেখরের। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭১ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। হায়দরাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যে মিছিলে তিনি যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, তার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

গত ২১ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে শুক্রবার দিল্লির জামা মসজিদ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত মিছিল করতে চেয়েছিলেন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। পুলিশ তাঁকে অনুমতি দেয়নি। পরে চন্দ্রশেখর টুইট করে বলেন, যে করেই হোক আমি জামা মসজিদের কাছে পৌঁছাব। মিছিল হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না।

জামা মসজিদের চারপাশে কড়া পাহারা ছিল। কিন্তু শুক্রবারের নমাজ শেষ হওয়ার পরে দেখা যায়, চন্দ্রশেখর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁর হাতে ছিল সংবিধানের কপি ও বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের একটি ছবি। তাঁর মুখ ছিল নীল কাপড়ে ঢাকা। চন্দ্রশেখর সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করছিলেন। আরও অনেকে তাঁর সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিল।

এই সময় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার জন্য ড্রোন বিমান পাঠানো হয়। খুব দ্রুত মসজিদের আশপাশের সরু গলি দিয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে আসতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে ছিল ফ্ল্যাগ ও প্ল্যাকার্ড। পুলিশের চেয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তখন পুলিশ ধর্মগুরুদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপর তারা চন্দ্রশেখর আজাদকে পাকড়াও করে। কলার ধরে তাঁকে পুলিশের ভ্যানে তোলার চেষ্টা হয়। এমন সময় তিনি পুলিশের হাত ছাড়িয়ে ফের ভিড়ে মিশে যান। পরে তিনি ফের ধরা পড়েন। ১৬ জানুয়ারি তিনি তিহাড় জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More