শনিবার, মার্চ ২৩

নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের অস্ত্রেই ঘায়েল করা যায় ডায়াবেটিস-জুজু, জেনে নিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড্ড ব্যস্ত জীবন আমাদের। বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু সে বাঁচাকে উপভোগ করার সময় পাচ্ছি কই! উল্টে বরং বেঁচে থাকার বিড়ম্বনা বাড়াতে যোগ হচ্ছে নানা রকম রোগ-অসুখ। কিছু রোগ হয়তো সাময়িক যন্ত্রণার পরে সেরে যায়, কিন্তু কিছু অসুখ সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে যায়। তেমনই এক রোগ ডায়াবেটিস। এর আবার অন্য এক জ্বালাও আছে। কান টানলে মাথা আসার মতোই আরও অনেক রোগ টেনে আনে এই ডায়াবেটিস। যে সমস্যা ইদানীং প্রায় ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।

চিকিৎসকেরা কিন্তু বলছেন, জ্বালা যতই থাক, সামান্য কিছু জিনিস রোজকার জীবনে মেনে চলতে পারলে, ডায়বেটিস নিয়েও বহু দিন হেসে-খেলে জীবন কাটাতে পারবেন। তাঁরা বলছেন, নিয়মিত ব্লাডসুগার চেক করান, ডাক্তারের কাছে যান।প্রয়োজনে প্রতিবার সঙ্গে কোনও বন্ধুকে নিয়ে যান, যাতে ডাক্তারের কাছে পৌঁছে কোনও প্রশ্ন বাদ না থাকে। জেনে নিন, আপনার ব্লাডসুগার কত থাকা উচিত। চেষ্টা করুন প্রতিদিন সুগার মাপতে এবং সেটা আপনার আশপাশের মানুষের তুলনায় কতটা কম বা বেশি তা নজরে রেখে ডাক্তারবাবুকে জানাতে। প্রয়োজনে নিজের যত্নে আপনি নিজেই একটি হেল্থ কেয়ার টিম তৈরি করুন, যাতে চিকিৎসক, নার্স এবং ডায়টেসিয়ান থাকবেন। তাঁরা আপনার খেয়াল রাখবেন। সেই সঙ্গেই আপনাকে নিজে নিজের খেয়াল রাখতে হবে। তাতে খাওয়ার অভ্যাস থেকে শুরু করে নিয়মিত শারীরচর্চা, ইনসুলিন নেওয়া– সবই খুব রুটিনমাফিক করতে হবে।

খাবার নির্বাচন

অনেকেই বলেন, খাওয়ার অভ্যাসের উপরে স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে। যে কোনও মানুষের ক্ষেত্রেই যেমন সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক অনুপাতে সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস কাজে দেয়, তেমনই ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রেও তাই। যেমন বেশি নুন, ফ্যাট, চিনি কোনওটাই খাওয়া ঠিক নয়। সে আপনি ডায়াবেটিক হোন বা না হোন। অন্য দিকে বেশি করে খান ফল, শাকসব্জি, দানাশস্য, বিন-জাতীয় খাবার। খান ফাইবারযুক্ত যে কোনও খাবার।

অনেক রেস্ট্রিকশন যেমন আছে এই অসুখে, তেমনই পছন্দমতো থালায় সাজিয়ে নিতে পারার মতো খাবারও কম নেই। আপনি কিন্তু চাইলেই অ্যাসপারাগাস, ব্রকোলি, গাজর, শসা, গ্রিন স্যালাড, স্কোয়াশ, টোম্যাটো দিয়ে পেট ভরাতে পারেন। সঙ্গে নিয়ে নিন বিন-জাতীয় খাবার, ব্রাউন রাইস, ডালিয়া, পপকর্ণ, ওটমিল,  লেবু, বেরি, দুধের তৈরি লো ফ্যাট ফুড, ছানা, পোল্ট্রির ডিম বা মাছও। এতেও যদি খাবারের অভাব বোধ করেন, টোফু খেয়ে নিন। শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মিটবে অনায়াসে। এত রকম উপকরণে আপনি প্লেট সাজালে নিশ্চিত ভাবে পেট এবং মন দু’টোই ভরবে। আর মন ভালো থাকলে ডায়বেটিস আপনাআপনিই দূরে পালাবে আপনার থেকে।

শারীরচর্চা

রোজ এক্সারসাইজ করলে আমরা সকলেই ফিট থাকি। সেখানে আপনি ডায়বেটিক হলে এই অভ্যাস যে আপনার জন্য আরও ভাল, তা বলাই বাহুল্য। ঘামঝরানোর ফলে আমাদের শরীরে হরমোনের যে পরিবর্তন হয়, তা গোটা শরীরকে অ্যাকটিভ রাখতে সাহায্য করে। আর ইনসুলিন হরমোনের বাড়া-কমায় সুগারও বাড়ে-কমে। তাই শরীর সচল থাকলে ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক থাকে, সমস্যা কম হয়। বলা হয়, স্ট্রেসের কারণেও ব্লাডসুগার হাই হয়। সারা দিনে নিজের জন্য স্ট্রেস কমাতে তিরিশ মিনিট দিন আর ফিট থাকুন। ইচ্ছে না করলে জিমে যাওয়ারও দরকার নেই। বাড়িতেই শুরু করুন যোগা বা এক্সারসাইজ।প্রথমে অল্প করে করুন পরে ধীরে ধীরে বাড়ান সময়টা।

রোজ যেসব কাজ করছেন তাতেও পরিবর্তন আনতেই পারেন। এসক্যালেটর বা লিফ্ট চড়বেন না, সিঁড়ি ব্যবহার করুন। পার্কে হাঁটতে যান। রোজ একঘেয়ে লাগলে প্ল্যান চেঞ্জ করে হাঁটাহাঁটি করুন। এক্সারসাইজ শেষ করে স্ট্রেচ করুন শরীর। নির্দিষ্ট একটা গোল নিজেই ঠিক করে নিন। কতটা হাঁটবেন বা ব্যয়াম করবেন, কোন সময়ে করবেন, এগুলো নিজেই নিজেকে বলুন। পারলে করুন অ্যারোবিক্স বা জগিং। এতেও আয়ত্তে থাকবে ব্লাড সুগার।

ইনসুলিনের ব্যবহার

যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন ইনসুলিন নিন। সঠিক সময়ে খাওয়া এবং সঙ্গে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেওয়া নিয়মমাফিক করুন। ইনসুলিন নেওয়ার পরে ঠিক সময়ে খাবার না খেলে, আপনার সুগার লেভেল নেমে যেতে পারে। অনেক ক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না, নির্দিষ্ট সময় পরপর পেটে দিন কিছু। সারা দিনে দু’বার মাত্র অথচ পরিমাণে অনেকটা খাওয়ার বদলে অল্প অল্প করে অনেক বার খান।

পড়তে অনেকটা মনে হলেও, খুব কষ্টসাধ্য কিন্তু নয়। শুধু নিয়ম মেনে চললেই সমস্যার সমাধান আপনার হাতের মুঠোয়।তা হলে ভেবে নিন, দৌড়বেন, হাঁটবেন, টোফু টোম্যাটোয় প্লেট সাজাবেন, নাকি অসুস্থ হয়ে সুগার লেভেলের সঙ্গে অসুস্থতা এবং চিন্তাও বাড়াবেন।

Shares

Comments are closed.