সোমবার, ডিসেম্বর ১৬
TheWall
TheWall

দ্বৈরথে নামার আগে সৌজন্যের বার্তা, আবার করে দেখালেন দেব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘাটালে সিপিআইয়ের প্রার্থীর নামটুকু যেন ঘোষণার অপেক্ষা ছিল।

তৃণমূল সাংসদ, তথা ঘাটালে উনিশের ভোটে শাসক দলের প্রার্থী অভিনেতা দেব, ওরফে দীপক অধিকারী টুইট করলেন, ঘাটালে সিপিআই প্রার্থী শ্রী তপন গাঙ্গুলিকে অভিনন্দন। আমরা যেই জিতি বা হারি সবাই একসঙ্গে ঘাটালের মানুষজনের সুখ দুঃখের সঙ্গে থাকব। ঘাটালের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করব। আমাদের মতবিরোধ যেন উন্নয়নের অন্তরায় না হয়।

ঘাটালে ভোট হবে, ১২ মে। তার আগে যুযুধান সব শিবির যখন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক দ্বৈরথে নামতে চলেছে, তখন দেব-এর ছোট বার্তাতেই আন্দোলিত সোশ্যাল মিডিয়া। অভিনন্দনের ঢেউ উঠেছে সেখানে।

হয়তো এটাই হওয়ার কথা। বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে যখন শিষ্টাচারসৌজন্যর মতো বিষয়গুলো ক্রমশই ফিকে হয়ে যাচ্ছে, তখন এ তো একপ্রকার বিপরীত স্রোত। উল্টো দিকে হাঁটা!

তবে শুধু বামেরা কেন, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রায় সকলেই একে ইতিবাচক বলে মনে করছেন।

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গত বিশ বছরে জাতীয় স্তরে কম সমালোচনা হয়নি। ২০০১ সালের কথা। তখন কেন্দ্রে এনডিএ-র শরিক ছিল তৃণমূল। রাজ্যে তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার চলছে। বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গে তৎকালীন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী একবার বলেছিলেন, রাজনীতিতে আমরা সবাই প্রতিপক্ষ। পৃথক পৃথক মতাদর্শ নিয়ে লড়ছি। তবে কেউ কারও শত্রু নয় কিন্তু! এটা মনে রাখতে হবে। ইদানীং কালের রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও অনেকটা সেরকমই। আবার অতীতে যাই হোক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন বাম নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অসুস্থতার কথা শুনলে, তাঁর বাড়ি চলে যান। কোনও বামনেতার শরীর খারাপের কথা জানতে পারলে হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাংলার রাজনীতিতে পারস্পরিক সৌজন্যে দেখানোর ব্যাপারে ঘাটতি শুরু হয়েছিল বাম জমানা থেকে। পঞ্চায়েতে যখন বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন পেশ করতে বাধা দেওয়া হয়, ভোটের দিন যখন বল্গাহীন সন্ত্রাস ও রিগিং, হয় তখন তার সমান্তরালে ব্যক্তিগত সৌজন্য বা শিষ্টাচার টিকিয়ে রাখা মুশকিল। পরবর্তী সেই সংস্কৃতি অনেকাংশে সংক্রামিত হয় তৃণমূলের মধ্যে। প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি, এলাকা দখলের লড়াই, পাইয়ে দেওয়ার পলিটিক্সে সেটাই দস্তুর।

তাঁদের মতে, সেই তুলনায় তৃণমূলের নতুন প্রজন্মের সাংসদ দেব-এর এই আচরণ অনন্য, তাই চোখেও পড়ছে। অভিনন্দনও কুড়োচ্ছেন দেব। অথচ রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। এটা না থাকাটাই বরং অস্বাভাবিক।

Comments are closed.