রবিবার, ডিসেম্বর ১৫
TheWall
TheWall

পেটে সার্জারি করাতে গিয়ে টানা ৮ দিন দাঁতকপাটি আটকে রইল গলায়, মরতে বসেছিলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ!

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চিকিৎসকের গাফিলতিতে প্রায় মরতে বসেছিলেন ৭২ বছরের এক বৃদ্ধ।  বয়সের সাথে সাথে অনেকেরই তো নকল দাঁত লাগানো থাকে।  তাঁরও ছিল।  কিন্তু একটি অপারেশনের সময় সেই দাঁত তাঁর ভোকাল কর্ডে গিয়ে আটকে থাকে।  এরপরেই যে ডাক্তাররা তড়িঘড়ি তা বের করে আনেন, তেমনটা কিন্তু নয় একেবারেই!

ব্রিটিশ মেডিকেল জর্নালে সোমবার এই খবর জানা যায়।  ৭২ বছরের অবসরপ্রাপ্ত জ্যাক তাঁর অ্যাবডোমিনাল প্রবলেম নিয়ে ইংল্যাণ্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন।  তাঁর পেটের ভিতরে ব্যথাহীন একটি লাম্প হয়েছিল।  সেটা অপারেশন করাতে তাঁকে অ্যানাস্থেসিয়াও দেওয়া হয়।  অপারেশনের পরে জ্যাককে ছেড়ে দেওয়া হয়।  কিন্তু ৬ দিন বাদে আবার তিনি হাসপাতালে ফিরে যান।  বলেন খুবই শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।  তরল ছাড়া কোনও খাবার খেতে পারছেন না।  মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে মাঝে মাঝে।  আর গলার কাছে কিছু যেন একটা জমাট বেধে আছে মনে হচ্ছে তাঁর।  ৬ দিনের মাথায় এসব উপসর্গ নিয়ে জ্যাক যখন ডাক্তারদের কাছে যান, তখনও ওই হাসপাতালের ডাক্তাররা তাঁকে মাউথওয়াশ দিয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করে ছেড়ে দেন।  আরও দু দিন এভাবে কেটে যায় ওই বৃদ্ধের।  তাঁর শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে থাকে, বিশেষত শুতে গেলে তাঁর সমস্যা বেড়ে যাচ্ছিল।  তিনি ৮ দিনের মাথায় ফিরে যান আবারও হাসপাতালে।  সেখানেই তখন ডাক্তারদের টনক নড়ে।  এক্স-রে করেন, দেখেন ভোকাল কর্ডের কাছে আটকে রয়েছে নকল দাঁতকপাটি! সার্জারি করে সেই দাঁতকপাটি বের করে আনা হয়।  তবে জ্যাকের স্বস্তি মেলে।

পূর্ব ইংল্যান্ডের জেমস পেজেট হাসপাতালের অধ্যাপক হ্যারিয়েট কানিফ এই ঘটনাটির কথা উল্লেখ করে বলছেন, অপারেশনের আগে রোগীদের নকল দাঁত খুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত ডাক্তার-নার্সদেরই।  যদিও এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা নেই বলেই জানিয়েছেন নিফ।  তবে কোনও কোনও হাসপাতালে এই দাঁত খুলে রাখা হয় আগে থেকে, আবার কোথাও বা দাঁতগুলোকে এমনভাবে মাড়ির সাথে সিল করে দেওয়া হয় যাতে তা খুলে গলা দিয়ে চলে যেতে না পারে।  যেটাই করা হয়, সেটা রোগীর অনুমতি নিয়ে করা উচিত।  এই ঘটনার পরে এমন বিপজ্জনকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিন্দা হচ্ছে যথেষ্টই।

আমাদের রাজ্যে এবং দেশে এধরনের ঘটনা আকছার ঘটে।  বিলেত নিয়ে আমাদের অনেকেরই খুব উচ্চ ধারণা আছে।  এই খবরে অন্তত এটুকু বোঝা গেল, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং দায়সারা মনোভাবের আলাদা কোনও দেশ হয় না।  তাই সচেতন আমাদের সকলকেই থাকতে হবে।

Comments are closed.