ভিতরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধা, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল দাঙ্গাবাজরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তর-পূর্ব দিল্লির গরমি এক্সটেনশন এলাকায় থাকতেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধা আকবরি। তাঁদের বাড়ি ছিল চারতলা। নীচের তলায় ছিল তাঁর ছেলের কাপড়ের কারখানা। গত মঙ্গলবার দাঙ্গাবাজরা এসে তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান আকবরি।

    আকবরির ছেলে সইদ সুলেমানি বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় তিনি দুধ আনতে গিয়েছিলেন। এমন সময় তাঁর ছেলে ফোনে জানায়, দেড়শ-দু’শো জন বাড়িতে হামলা করছে। সেইসময় বাড়িতে ছিল সুলেমানির চার ছেলেমেয়ে। তাদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। উত্তেজিত জনতাকে দেখে তারা ভিতর থেকে বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়।

    এই সময় আকবরি ছিলেন চারতলায়। বাড়ির ভিতর থেকে সুলেমানির বাচ্চারা চেঁচাচ্ছিল, “পাপা আ যাও! বাঁচাও হামারে…।” কিন্তু সুলেমানি বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। তাঁকে দাঙ্গাবাজরা ভয় দেখাচ্ছিল, ভিতরে ঢুকতে চাইলে তোমাকে মেরে ফেলব।

    উত্তেজিত জনতা সুলেমানির বাড়ির একতলায় আগুন লাগায়। তাঁদের পরিবার বাস করত তিনতলায়। সুলেমানির ছেলেমেয়েরা পালাতে পেরেছে। কিন্তু আকবরি আটকে পড়েন। তাঁর হাতগুলি আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর পরে প্রায় ১০ ঘণ্টা তাঁর দেহ বাড়ির ভিতরেই পড়েছিল। রাতে দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে বৃদ্ধার দেহটি বার করেন।

    সুলেমানি বলেন, “আমার মা নিশ্চয় সাহায্য চেয়ে চিৎকার করেছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁকে সাহায্য করেনি। তিনি দম বন্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।”

    পরে তিনি বলেন, “আমি কখনও হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করিনি। আমার কারখানায় অনেক হিন্দু কর্মচারী আছেন। কখনও অশান্তি হয়নি।”

    উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে টানা চার দিন ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি রয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়েছে ভজনপুরা, মৌজপুর ও কারাওয়ালনগর। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে নানা তরফে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্ববজায় রাখার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাতিল করেছেন তাঁর কেরল সফর। যদিও বিরোধীদের তরফে অভিযোগ উঠেছে, হিংসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮টি এফআইআর হয়েছে। ১০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের নিকটাত্মীয়কে দুলক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হিংসার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছিলেন হর্ষ মান্দার। বিচারপতি এস মুরলীধর ও বিচারপতি তালওয়ান্ত সিংকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে সেই আবেদনের শুনানি হয়। আবেদনে ক্ষতিপূরণ ও সেনা নামানোর কথাও বলা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা। তাঁকে বিচারপতিরা বলেন, তিনি যেন দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে পরামর্শ দেন যে, উস্কানিমূলক কথা বলার জন্য তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হোক। ইতিমধ্যেই পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য তিন বিজেপির নেতার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটের মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে হবে।

    দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে দুটো হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। অ্যাডিশনাল কমিশনার (অপরাধ) মন্দীপ সিং রানধওয়া জানিয়েছেন, রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লে ০১১-২২৮২৯৩৩৪, ২২৮২৯৩৩৫ এই নম্বর দুটোতে ফোন করা যাবে। তাছাড়া আপৎকালীন নম্বর ১১২ খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দাঙ্গাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More