বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ডিভোর্সের মামলা চলল ২৪ বছর! অবশেষে মুক্তি দিল্লির দম্পতির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ বছরের অপেক্ষায় শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার নিষ্পত্তি হল।  ১৯৮৮ সালে বিয়ে করেছিলেন একজন সরকারি কর্মী এবং একজন সরকারি ডাক্তার।  তারপর ১৯৯৫ পর্যন্ত একসাথেই থাকতেন দিল্লির এই দম্পতি।   শুরু থেকেই কিছু সমস্যা ছিল তাঁদের বিবাহিত জীবনে।  ১৯৯৫ এর পরে তাঁরা বিচ্ছেদের মামলা করেন।  প্রথমে ট্রায়াল কোর্টে বিচ্ছেদের মামলা করা হলে, তা বাতিল হয়ে যায়।  এরপর ২০০২ থেকে মামলাটি দিল্লি হাইকোর্টে আসে।

১৯৯৫ সালে করা সেই মামলার নিষ্পত্তি হল গত সপ্তাহে।  দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি রাজীব শাহ এণ্ডলয়ের এজলাসে এই মামলা ওঠে।  সেখানেই বিচারপতি বলেন “ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এতগুলো বছর নষ্ট হল ওঁদের, তবে এটা বেশ দুঃখজনক ঘটনা।  আর যে বিয়েতে কিছুই বেঁচে নেই, সেই বিয়ে রেখে তো কোনও লাভই নেই। ” হাইকোর্ট বলছে, দু-পক্ষের দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের কারণেই এতটা সময় নষ্ট হয়েছে।

এ ধরনের দেরির মূল কারণগুলির মধ্যে একটা হচ্ছে, বিস্তারিত বিবৃতি এবং বিস্তারিত প্রমাণ, যা এ ধরনের মামলাগুলোতে অনেকটাই প্রভাব ফেলে।  ফলে অনেক লম্বা সময় ধরে বিচার চলতে পারে।  এই ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে তা নথিভুক্ত করতেও সময় লাগে অনেকটা।  বিচারপতি বলেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একমত হলে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় এতটা সময় লাগা ঠিক নয়।

প্রথম থেকেই স্বামী বারবার বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন।  তাঁর অভিযোগ ছিল, তিনি অত্যাচারিত হচ্ছেন।  এটা মিউচুয়াল ডিভোর্সের মামলা কোনওদিনই ছিল না।  আদালত বারবার দুপক্ষকেই মিটিয়ে নিতে আবেদন জানাচ্ছিল।  কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছিল না।  স্ত্রী কোনও চেষ্টাই করেননি একসাথে জীবন কাটানোর।  তবে ২০১৮ এর শেষে যখন স্ত্রী একসাথে থাকতে চান, কোর্ট আর তখন সময় দেয়নি।  কারণ এতগুলো বছর এমনিই কেটে গিয়েছিল, আর তখন তাঁর দিক থেকে কোনও প্রচেষ্টাই ছিল না।

নিজেদের মধ্যে সমস্যা জিইয়ে রাখলেন স্বামী-স্ত্রী দুপক্ষই, সঙ্গে দোসর ছিল আইনি মারপ্যাঁচ।  সব মিলিয়ে তাঁদের জীবন থেকে চলে গেল ২৪ টা বছর।  বিচারের বাণী নীরবে কেঁদে মুক্তি পেল হল অবশেষে।

Comments are closed.