ফের কৌশলের ভুল ধোনির, এ যেন অন্য চেন্নাই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

আমি জানি না চেন্নাই কৌশলগতভাবে কী ভাবছে। আগের ম্যাচেই বলেছিলাম এম এস ধোনিকে আগে আসতে হবে ম্যাচ জিততে গেলে। ফের সেই ভুল, ধোনি এল ছয়েই, এবং হার চেন্নাইয়ের, এবার হার ৪৪ রানে।

এমন একটা সময়ে ধোনি আসছে, দলের ওপর চাপ থাকছে। হয়তো শেষ পাঁচ ওভারের মাথায় এল। হয়তো কেন শুক্রবারও তাই দেখলাম। ধোনির মতো বিগহিটার এসে পরেরদিকে রান নিচ্ছে, এটা যদি চারে নেমে করতে পারত, তা হলে দল লাভবান হতো।

প্রতিদিন ফাফ ডু প্লেসি রান করে দেবে, তা হবে না। ডু প্লেসি তো এদিন আউটই হল ওয়াইড বলকে তাড়া করতে গিয়ে। এটাই হবে যদি কৌশলে সমস্যা থাকে। এর আগের ম্যাচের পরে ধোনি বলেছে দেখলাম ১৪ দিন ঘরবন্দী ছিল বলে ভাল করে প্র্যাকটিস হয়নি। কিন্তু তারপরেও তো দুটি ম্যাচ পেল। আর শেষদিকে নামার থেকে আগে এসে ধোনির মতো ব্যাটসম্যান স্ট্রাইক রোটেড রাখলেও অনেক ভাল ছিল।

চেন্নাইয়ের ব্যাটিং দেখে হতাশই আমি। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, এই চেন্নাই দল আমাদের কাছে অজানা। ১৩তম আসরে এসে এত বাজে চেন্নাই দল আমরা দেখছি। যাদের হাতে পুঁজিই নেই। কবে আর রান করবে শ্যেন ওয়াটসন, জানি না। ওপেনিংয়ে মুরলী বিজয়ও ব্যর্থ। ঋতুরাজ চারে নেমে যখন অসফল, সেইসময় ধোনি কেন আগে এসে দায়িত্ব নেবে না, এটাই আমার বারবার প্রশ্ন। কারণ চেন্নাই মানে আমাদের কাছে বাড়তি প্রত্যাশা। আর ধোনির খেলা আমরা সবাই দেখতে চাই। সেই পরিস্থিতিতে এই দল নিয়ে বেশি আশা দেখছি না।

আমি বলব আম্বাতি রায়ডু ও সুরেশ রায়নার অভাব প্রতিপদে এই দলে বোঝা যাচ্ছে। কেউ এসে দায়িত্ব নিচ্ছে না। তাই ডু প্লেসির ৪৩, কেদারের ২৬ রান ছাড়া বলার মতো রান ধোনির (১৫)। কিন্তু কৌশলের ভুল থাকলে বারবার চাপে পড়বে সিএসকে।
একটা ভাল সিদ্ধান্ত, আরও একটি সিদ্ধান্ত ঠিক মন থেকে মানতে পারিনি। এনগিডির বদলে খেলানো হল হ্যাজেলউডকে, দারুণ সময়োচিত সিদ্ধান্ত। আমি আগেরদিনই বলেছিলাম সেরা বোলারকে ব্যবহার করতে হবে। তাকে ডাগআউটে রেখে দলের ক্ষতি। এম এস ধোনি সেটাই করেছে।

আমি আবার অবাক যখন মার খাচ্ছে, তখনও রবীন্দর জাদেজাকে সরানো হলো না। জাদেজাকে সরিয়ে কেদারকে দেখলে ক্ষতি কী ছিল? কেদারকে তো আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্রেক থ্রু নিতে দেখেছি, তা হলে সেই ভরসা এদিন দেখানো হলো না কেন? এটা আমাকে বেশ বিস্মিত করেছে।
তারপরেও দিল্লির ওপেনিং জুটি নিজেদের প্রত্যাশামাফিক খেলেছে। পৃথ্বী শ-কে বহুদিন পরে সাবলিল দেখলাম, শিখরও ভাল, কিন্তু ভুল শট নির্বাচনে উইকেট দিয়ে গেল। পৃথ্বীর ৪৩ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে রয়েছে নয়টি চার ও একটি ছয়। পাশাপাশি শিখর মারল তিনটি চার ও একটি ওভার বাউন্ডারি, তার অবদান ২৭ বলে ৩৫।

তবুও বলব দিল্লির ১৫ রান কম হয়েছে, আরও রান হতে পারত। ঋষভের ২৫ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ৫টি বাউন্ডারি। অধিনায়ক শ্রেয়সও পরে নেমে চালিয়েছে ভালই, ২২ বলে ২৬ রানের পরেও বলব আরও চালাতে পারত তারা। কারণ পরে আরও ব্যাটসম্যান ছিল, একটু বেপরোয়া চালাতেই হবে শেষ তিন ওভার, যখন তোমার হাতে উইকেট রয়েছে।

সেদিক থেকে দিল্লির বোলিং আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচ জিতিয়ে চলে গেল রাবাডা, নর্টজে।

এই দিল্লি দলকে দেখে দারুণ লাগছে, আমার মতে এবারের অন্যতম সেরা দল। বোলিং ও ব্যাটিংয়ে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। রিজার্ভ বেঞ্চ খুবই শক্তিশালী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : দিল্লি ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ১৭৫/৩। পৃথ্বী শ ৬৪, ঋষভ ৩৭, শিখর ৩৫, চাওলা ২/৩৩।
চেন্নাই সুপার কিংস : ২০ ওভারে ১৩১/৭ । ডু প্লেসি ৪৩, কেদার ২৬, নর্টজে ২/২১, রাবাদা ৩/২৬। দিল্লি জয়ী ৪৪ রানে। ম্যাচের সেরা : পৃথ্বী শ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More